Thursday, May 28, 2020
জীবন বেচে দিয়েছি সিটিসেল রেটে - ভূবন মুন্সী
'মানুষ, মানে যারা মারণমন্ত্র, শেল তৈরি করতে পারে? তার চেয়ে যারা তাল পাতার ব্যাগ তৈরি করতে পারে তারা বেশি মানুষ। যারা একশোবার করে ইউরোপ, আমেরিকায়, এশিয়ায় কনফারেন্স পাতায় আর ভাঙ্গে, পরস্পরকে বজ্জাৎ বলে গালাগাল দেয়- একেবারে উৎখাত করে ফেলবার ফিকিরে থাকে, তারাই তো মানুষ এখনকার পৃথিবীতে; আর তাদের তাবেদাররা - ব্যাঙ্কে অফিসে - ডিপার্টমেন্টাল চেয়ারে বসে পৃথিবীর সর্বত্র।' তারাই আজ সর্দার, শ্রেষ্ঠ - 'যারা প্রাসাদের সচিত্র গলিতে জমে ষড়যন্ত্রে, মন্দিরের উদার অলিন্দে মাতে ষড়যন্ত্রে।'
মেজরিটি মানুষও তাদের চিন্তায়, চেতনায় চালিত। সাধারনত 'আহার, পান, অর্থোপার্জন ও বংশ বৃদ্ধি যেন গণিতের নিয়মে অতি সুশৃঙ্খল ভাবে পরপর সম্পাদিত হয়ে চলেছে। বেশ সুখী তারা। তাদের ঘুমের ব্যাঘাত কিছুতেই হয়না।' সব কিছুতেই যেন বোহেমিয়ানায় ভেসে যাওয়া।
'মানুষ যা প্রকৃত নয়, নিজেকে যখন তাই ভাবে- তখনিতো এগিয়ে আসে জ্বরা, সমস্ত নকল, বর্তমান হয়ে উঠে করুণ প্রাক্তন।' এক গলা নোংরা জলে ডোবে যায় মানচিত্র। শকুনি ডানা মেলে আকাশে। আজ 'লক্ষ কোটি শকুনি পাখা বিস্তার করেছে আকাশে। যে আলোয় আলোকিত থাকতো পৃথিবী, সে আলোটা আড়ালে পড়েছে। পৃথিবীময় শকুনি পাখার অন্ধকার ছায়া।'
'পৃথিবীর সমস্ত রূপ অমেয় তিমির মৃতদেহের দুর্গন্ধের মতো।' 'কোথায় সমাজ, অর্থনীতি? - স্বর্গগামী সিঁড়ি?' ' যতই শান্তিতে স্থির হয়ে যেতে চাই, কোথাও আঘাত ছাড়া - তবুও আঘাত ছাড়া অগ্রগামী সূর্যালোক নেই।'
জীবনকে যেন বেচে দিয়েছে সিটিসেল রেটে; পোদ্দারের হাতে। স্বার্থের মদ গিলে মগ্ন সবাই। জুয়া খেলছে জীবন বাজি রেখে। 'পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন।'
তবু মুখোমুখি দাঁড়াবার সময় কোথায়? মুখোমুখি দাঁড়াবার মানুষ কোথায়? 'আমাদের জীবনের অর্ধেক সময় তো আমরা সঙ্গমে আর সন্তান উৎপাদনে শেষ করে দিলাম, সুধীবৃন্দ, তবু জীবনে কয়বার বলুনতো আমরা আমাদের কাছে বলতে পেরেছি, ভালো আছি, খুব ভালো আছি।'
কেউ বলছিনা এসব। ভাবছিনা। কেউ বলছেনা- 'আমি ঘোষণা দিচ্ছি ডিটেনশন সেল থেকে।' আমি তোমাদের অগ্রাহ্য করি।
কেউ বলছেনা - 'তোমাকে জিততে হবে মনে রেখো, ফেরার সকল পথ বন্ধ হয়ে গেছে।'
আসলেই ফেরার সকল পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তবু কেউ কিছু বলছেনা। কেন বলছেনা? ভেবেছিলাম মানুষ ক্রমশ বড় হবে। সবার উপরে মানুষ সত্য হবে। দেখি সত্য হয়ে গেছে রোবট - সঙ্গী হয়ে গেছে মানুষের।
দেখি এক পাল মাথা মোটা ষাঁড়। এক পাল ভেড়া। এক পাল গরু - পৃথিবীতে ঠাসাঠাসি, গাদাগাদি - প্রচন্ড রকম ভীড়। দেখি সবাই - নিউট্রন বোম বুঝে, মানুষ বুঝেনা।
ফিরে যাই নিজের কাছে। আর্চনায় জপি-
'Show me your ways
My Lord;
teach me your paths.
Lead me in your truth
and teach me.'
আলোর ঝলক ছুটে আসে আমার দিকে- ইতিহাসের পথ বেয়ে; যে ইতিহাসকে জেনেছি - 'ইতিহাস বেলেল্লা মিছিল ছাড়া কিছু নয়, চুন- কালি- সঙের মিছিল ছাড়া কিছু নয়' - তা এবার পথ হয়ে উঠে আসে। 'মানুষের ঘামে নিষিক্ত শ্রম আমাকে আলোকিত করে। শ্রমের ঘামে এক-একটি ফোঁটা যেন এক-একটি হীরকখণ্ড। এর এই শ্রম যেন এক বিস্ফোরক এবং এই বিস্ফোরণই আমাকে অজ্ঞতা থেকে, অন্ধকারের অতল গহ্বর থেকে, আলোর ঝলকানিতে আমাকে জাগিয়ে দেয়, আমি চেতনা ফিরে পাই, আমি জেগে উঠি। সেই মিথ্যে, অজ্ঞতা আর অন্ধকারের দিন চলে গেছে। বিজ্ঞানের আলোক সম্পাত চারদিক উদ্ভাসিত করেছে। এবার তবে চলতে হবে বিজ্ঞানের আলোয়, যেতে হবে সামনে, আরো সামনে এবং অনেক দূর- দূরান্তরে।'
'সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে- এ পথেই পৃথিবীর ক্রম মুক্তি হবে।'
২৮.০৫.২০২০
কৃতজ্ঞতাঃ
১. জীবনানন্দের জীবনী ভিত্তিক উপন্যাস - এক জন কমলালেবু - শাহাদুজ্জামান।
২. মরচে পড়া পেরেকের গান - হ্যেল্ডার্লিন, অনুবাদ- বুদ্ধদেব বসু।
৩. এক অনন্ত জীবনের জীবনী- সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
৪. দরজার বাইরে- সমরেন্দ্র।
৫. সংশপ্তক - শহীদুল্লা কায়সার।
৬. জন্ম মৃত্যু-জীবনযাপন - আবুল হাসান।
৭. আমি তোমাদের অগ্রাহ্য করি - মাহমুদ দারবিশ, ইংরেজি অনুবাদ- সাদি সিমাবি & এলেন।
৮. মিছিলে নতুন মুখ - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
৯. চণ্ডীদাস।
১০. অশ্লীল সভ্যতা - হেলাল হাফিজ।
১১. Bible
১২. Lightining - RimBaud, অনুবাদ - সফিউদ্দিন আহমদ।
Tuesday, May 26, 2020
মানুষের মানচিত্র - এম. ইকবাল
মানুষ শব্দটার সাথে মান-সম্মানবোধের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। যে মানুষটার নিজের মান-সম্মানবোধ আছে সে তুচ্ছ কারনে কাউকে অপমান করতে পারে না। বিশেষ করে মানুষটি যখন বৃদ্ধ, বাবার বয়সী, তার অসচেতনতাকে শাস্তিযোগ্য ভাবাটাই একটা অপরাধ।
Google করে জানতে পারলাম-
১. মানুষ শব্দটি এসেছে হিন্দু পুরানে বর্নিত মানু শব্দ থেকে। মানু শব্দের অর্থ প্রত্নতাত্ত্বিক পুরুষ বা প্রথম পুরুষ। মানু একটি বিশেষন। পুরানে অনেক মহাপুরুষকে মানু বলা হয়েছে। সংস্কৃত শব্দ মানব বলতে বুঝায় মানুর সন্তান। মানু থেকে মানুষ শব্দের উৎপত্তি।
আসলে 'মানুষ' শব্দের উৎপত্তি হয় 'মান' ও 'হুশ' শব্দদ্বয় যুক্ত হয়ে। (ভাবার্থ: 'মান' তথা 'আত্মসম্মানবোধ' এবং 'হুশ' তথা 'বিবেক' যার আছে সেই মানুষ।
২. হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে− ব্রহ্মার মন থেকে উদ্ভূত হয়েছিলেন মনু । আর মনু থেকে মানুষ জাতির উৎপত্তি হয়েছিল।
৩. মানুষ শব্দটির মূল আরবী ধাতু হচ্ছে 'উনসুনম্ব, আর উনসুন মানে হচ্ছে স্নেহ ভালোবাসা। যার মধ্যে এই স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে দেয়া হয়েছে আরবীতে তাকে বলা হয় 'মানুষম্ব।
প্রচলিত অর্থে যার মধ্যে যথার্থ মান-সম্মানবোধ, বিবেকবোধ (বিচার-বিশ্লেষন-বিবেচনা করার ক্ষমতা), স্নেহ-ভালোবাসা আছে সেই মানুষ।
যদিও এই আধুনিক সময়ে ‘মানুষ’ বলতে শুধু ‘মনুষ্যত্ব’ সম্পন্ন মানুষকেই বোঝায়। আর মনুষ্যত্ব বলতে সমাজগত পরম্পরা আর পারস্পারিকতায় অর্জিত সংস্কৃতিকে বোঝায়। অবিরত সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই যা এগিয়ে নিতে হয়।
জংগলে বেড়ে উঠা একটা মানবশিশুর আচরন জংলীর মতই হয়। এজন্য একটা মানব শিশু ও জানোয়ারের বাচ্চার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পার্থক্য তৈরী হয় যখন মানবশিশু সমাজ থেকে শিক্ষা গ্রহন করে মানবীয় গুনাবলী অর্থাৎ মনুষ্যত্ব অর্জন করে।
প্রশ্ন হলো,
আজকের সমাজ কি মানবীয় গুনসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে সক্ষম?
আজকের শিক্ষাব্যবস্থা কি আমাদের যথার্থ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক?
আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা কি চায় আমরা যথার্থ মানুষ হয়ে উঠি?
তাহলে আমরা কি করে আশা করি যে ডিগ্রি অর্জন করলেই কারো মধ্যে বিবেকবোধ থাকবে?
এরপরও আমরা যতটুকু মানুষ হতে পেরেছি তা আমাদের বাবা-মা চেয়েছেন বলে।
জন্মের পর থেকে আমরা যা শিখেছি মা-বাবার কাছ থেকে, ততটুকুই মানুষ হতে পেরেছি। মানুষ হিসেবে আরো উন্নত হয়ে গড়ে উঠবার বাকি দায়িত্বটুকু ছিল রাষ্টের শিক্ষাব্যবস্থার হাতে। রাষ্ট্র সেখানে ব্যর্থ। অথচ আমরা সেখানে সরব না হয়ে তথাকথিত শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত একজন ব্যক্তি যখন কোথাও বিবেকবর্জিত, দায়িত্বহীন কর্তৃত্ববাদী আচরণ প্রকাশ করছে তখন সবাই তার বিরুদ্ধে বিষোধগার প্রকাশ করছি।
কি করে আমরা একটা অন্তঃসারশূন্য শিক্ষাব্যবস্থা দ্বারা গড়ে উঠা প্রজন্মের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ আশা করছি?
নিঃসন্দেহে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দায়িত্বজ্ঞানহীন ( মাস্ক না পরার কারনে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রেখে ছবি তুলে) খবরদারি করেছে। আমাদের দেশে ব্যপক মানুষের মধ্যে যেমন সচেতনতার অভাব রয়েছে তেমনি বিশাল জনগোষ্ঠীর ঘরে দিন আনি দিন খাই অবস্থা। একদিন কাজে না বেরুলে ঘরের সদস্যদের মুখে খাবার জুটবে না। এ ধরনের মানুষের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শাস্তির বদলে মুখের মাস্ক সরবরাহ করা উচিৎ ছিল।
খেটে খাওয়া অসচেতন মানুষগুলোর প্রতি কোনো দায়িত্ব পালন না করেই কি করে তাদের কাছ থেকে সচেতনতা আশা করে? দায়িত্ব ও কর্তব্যহীন কোনো দাবিই কি বৈধ?
কথা হলো, আম গাছ থেকে কাঁঠাল আশা করা কি যৌক্তিক?
অথবা বিড়ালের ঘরে কি বাঘের জন্ম হয়?
মার্চ, ২৮, ২০২০
Monday, May 25, 2020
প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে রাজনীতি - ভূবন মুন্সী
আর "রাষ্ট্র ও রাজনীতি" প্রাসঙ্গিকতায় রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাটা খুব জরুরী। আইনের শাসনের নিশ্চয়তা, রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সবার অন্তর্ভুক্তি কিংবা রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থে ব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরন। রাষ্ট্র হচ্ছে প্রতিষ্ঠান, আর প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি মূখ্য থাকলে ব্যক্তি বাঘ হয়ে উঠা তাজ্জবের কিছু নয়। তবু আমরা মাথাওয়ালারা দ্রষ্টব্য পথ এড়িয়ে নানান ফতোয়া নিয়ে ইলেক্ট্রিক ওয়ালে হাজির হই। আমরা জনগন সাত পাঁচ বয়ান শুনে ঘুম থেকে জেগে দেখি সেই পুরনো দিন।
রাজনীতির বিপরীতে যেমন রাজনীতিই থাকে, তেমনি রাজনৈতিক সংকট সমাধান রাজনৈতিক পথে রাজনীতিকদেরই করতে হয়। মুচি সেলাই জানলেও অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারেরই প্রয়োজন পড়ে। তবু দেখি, বই কানা দিচ্ছে পথ স্বার্থ কানার ইচ্ছে মতো।
বিংশের একুশ থেকে একাত্তর- আজকে দ্রোহের দিনগুলি কেমন ম্লান! পরম্পরা হারালে ওল্ড ইজ গোল্ড না থেকে পিতল হয়ে ওঠে, এটাই সত্য। একবিংশের একুশ আগত প্রায়, তবু হেড আসার কথা থাকলেও টেল এসে দাঁড়িয়ে আছে খাম্বা হয়ে।
তবে, বৌদ্ধক করাতে বাধার খাম খুঁটি কেটে আজ প্রশস্থ করি প্রাত্যহিক পথ। প্রাতিষ্ঠানিকতার পথ ধরে "সূ্র্য উদয় অস্তাচলের" দ্বীপ হতে শুরু হোক আধুনিক রাজনীতি।
১৩.০৭.১৯
Sunday, May 24, 2020
করোনা ভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে? চীন নয়, দোষ পুঁজিবাদের - লি ঝাং
অনুবাদঃ ভূবন মুন্সী।
চীনে কোভিড -১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই তার উৎস সম্পর্কে ধারণা করার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে। এই ইস্যুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে "নতুন স্নায়ু যুদ্ধ" তে অত্যন্ত রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টেট সেক্রেটারি মাইক পাম্পো এবং রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সবার বক্তব্য করোনা ভাইরাস উহানের একটি ল্যাব থেকে এসেছে। জবাবে, চীনা সরকারী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, ভাইরাসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন ল্যাবে উদ্ভূত হতে পারে।
যদিও এই দোষারূপের খেলাটি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে শিরোনাম তৈরি করছে, ধোঁয়া এবং আয়নার আড়ালে মহামারীটির প্রকৃত কারণটি লুকিয়ে আছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং বাকি বিশ্বের ভাগ্যের একটি সাধারণ সমস্যা - পুঁজিবাদ।
Covid-19 এর উৎস সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, আমরা কিছু কিছু জানি। জানুয়ারির প্রথম দিকে নতুন করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবং একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ঐক্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল যে এটি মূলত বাঁদুড়ে বিকশিত হয়েছিল। সম্ভবত একটি মধ্যস্থতাকারী প্রজাতির মাধ্যমে মানুষের কাছে চলে যায়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দাবি, প্যাঙ্গোলিন, উদ্ভিদ চক্র বা ফেরেট সম্ভবত বৃক্ষ ও মানুষের মধ্যে সেতু হিসাবে কাজ করেছে। ভাইরাস ইচ্ছাকৃতভাবে কোন পরীক্ষাগারে নির্মিত এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়টি বারবার বলেছে যে তারা বিশ্বাস করে যে নতুন ভাইরাসটির উৎস প্রকৃতি।
কিন্তু কিভাবে এই ন্যাচারাল স্পিলওভার উহানে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করেছে? "দোষী চীন" অলঙ্কারটি এখন Wuhan Institute of Virology এর একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা নির্দেশ করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা- বাঁদুড় থেকে করোনা ভাইরাস এবং নতুন মহামারী তথ্য না আসা পর্যন্ত একটি ল্যাব দুর্ঘটনা জড়িত তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করা অসম্ভব হতে পারে। কিন্তু যদি আমরা এটাকে 'ল্যাব লিক' অনুমান করি, তবুও চীনকে দোষারোপ করাই কী সমস্যাটি সম্পর্কে চিন্তা করার সঠিক পথ?
বিপজ্জনক রোগের সাথে জড়িত ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব অনেকবার ঘটেছে। ২০১৪ সালে, খাদ্য ও মাদকদ্রব্য প্রশাসন একটি অনিরাপদ স্টোরেজ রুমে দুর্ঘটনাক্রমে স্মলপ্ক্স এর ছয়টি বোতল পায়।
একই বছর, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলি দুর্ঘটনাক্রমে তিনটি অনিরাপদ ল্যাবে কার্যকরী অ্যানথ্রাক্স স্পোর পাঠায়, সম্ভবত গবেষকরা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া বহন করছিলেন।। তারপর ২0১৫ সালে, পেন্টাগন দুর্ঘটনাক্রমে নয়টি রাজ্যে এবং এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত জীবন্ত অ্যানথ্র্যাক্স প্রেরণ করে।
সৌভাগ্যক্রমে, সেই দুর্ঘটনায় কোনও মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু এমন কিছু হয়েছে যা মারাত্মক। আমেরিকান জৈবিক সুরক্ষা সংস্থার ক্যারন বেয়ার এর একটি গবেষণার মতে, ১৯৭৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী "ল্যাবরেটরি অর্জিত সংক্রমণ" এর কমপক্ষে ১১৪১ টি উদাহরণ ছিল, যার মধ্যে কয়েকটির ফলাফল মৃত্যু।
স্মলপক্সের সাথে জড়িত কয়েকটি দুর্ঘটনায় ১৯৭০ সালে তিন জনের মৃত্যু হয়। চীনে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস লিক হয়ে ১৯৭০ এর দশকে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করে যা দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ভেনিজুয়েলা এবং কলম্বিয়াতে এনসেফালাইটিসের একটি মহামারীতে ১৯৯৫ সালে কমপক্ষে ৩১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল সম্ভবত কোনও পরীক্ষাগারের ঘটনার ফলে।
২০০৩ এবং ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং মূল ভূখণ্ড চীনের ল্যাব কর্মীরা দুর্ঘটনাক্রমে এসএআরএস-তে সংক্রামিত হয়েছিল এবং এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং মহামারীটি সংক্রামিত হওয়ার পরে একজনের মৃত্যু ঘটেছিল।
ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা একটি দুর্ভাগ্যজনক কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক এবং মারাত্মক রোগের গবেষণার অনিবার্য পরিণতি। কোন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা করে না।
মূল চাবি হলো, বুঝতে হবে কেন এমন রোগগুলি প্রথম স্থানে পরিণত হয় এবং কীভাবে তাদের প্রতিরোধ করা যায়। এখানে বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত্য পরিষ্কারভাবে পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করে এমন কাঠামোগত সমস্যাগুলির দিকে নির্দেশ করে।
প্রথমত, দ্রুত নগরায়ণ এবং বর্ধিত গতিশীলতা স্থানীয় প্রাদুর্ভাবের মহামারী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। উহান একটি বড় পরিবহন কেন্দ্র এবং চীন এখন বহু বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। এই উভয় কারণই করোনাভাইরাস দ্রুত প্রসারে অবদান রেখেছিল।
বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং বন ও পাহাড়ের গভীরে নতুন অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ফলে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে নতুন নতুন রোগের ঝুঁকির পরিমাণ বেড়েছে। গত কয়েক দশক ধরে বর্ধিত গ্রাহকত্বের বিকাশের ফলে বন্য প্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
পান্ডোলিনের মতো বন্য প্রাণী, যা খাদ্য এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধের জন্য ব্যবহৃত হয়, মহামারীটির আগে উদ্বেগজনক হারে চীন পাচার করা হয়েছিল। একই সাথে পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়াসে, চীন সরকার কিছু বুনো প্রাণীর বাজারমুখী প্রজনন এবং ই-বাণিজ্য প্রচার করেছিল। উহানের মতো স্যাঁতস্যাঁতে বাজারে বুনো প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে এই অনুশীলনগুলি ঘনিষ্ঠ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ-সংক্রমণকারী মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে করোনা ভাইরাস উদ্ভব হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
শিল্প-মাপের হাঁস-মুরগি ও প্রাণিসম্পদ নতুন প্রাণীগত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মহামারী হতে পারে। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী রব ওয়ালেসের যুক্তি অনুসারে, পুঁজিবাদী কৃষিকাজ "রোগজীবাণুগুলির সবচেয়ে জঘন্য এবং সংক্রামক ফেনোটাইপগুলি বিকশিত করতে পারে তার সঠিক উপায় সরবরাহ করে"।
বন ও অন্যান্য আবাসস্থল ধ্বংস, ভোগবাদ, বন্য প্রাণীর বাণিজ্য এবং শিল্প-স্তরের প্রাণীজ প্রজনন চীনের পক্ষে অনন্য নয়। এগুলি বিশ্বব্যাপী ঘটনা।
এই মহামারীটি যদি চীনে উৎপন্ন হয়, পরেরটি ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোথা হতে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এটাই সত্যি।
এই ট্র্যাজেডির জন্য বাণিজ্যিক দোষরোপ বিশ্ব নেতাদের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সমীচীন হতে পারে এবং ল্যাব ফাঁসের ধারণাটি কার্যকর হতে পারে, তবে এর কিছুই বিশ্বকে এর সাথে আরও ভাল মোকাবেলায় সহায়তা করছে না।
প্রকৃত সমস্যা যা নতুন রোগের জন্ম দেয় এবং বৈশ্বিক মহামারীর কারণ, কেবলমাত্র ল্যাব দুর্ঘটনা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং অবিচ্ছিন্ন।
২২মে ২০২০, আল জাজিরা।
লেখক
লি ঝাং।
লি ঝাং, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরভিনের আন্তর্জাতিক স্টাডিজের ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক।
চীনে কোভিড -১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই তার উৎস সম্পর্কে ধারণা করার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে। এই ইস্যুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে "নতুন স্নায়ু যুদ্ধ" তে অত্যন্ত রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টেট সেক্রেটারি মাইক পাম্পো এবং রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সবার বক্তব্য করোনা ভাইরাস উহানের একটি ল্যাব থেকে এসেছে। জবাবে, চীনা সরকারী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, ভাইরাসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন ল্যাবে উদ্ভূত হতে পারে।
যদিও এই দোষারূপের খেলাটি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে শিরোনাম তৈরি করছে, ধোঁয়া এবং আয়নার আড়ালে মহামারীটির প্রকৃত কারণটি লুকিয়ে আছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং বাকি বিশ্বের ভাগ্যের একটি সাধারণ সমস্যা - পুঁজিবাদ।
Covid-19 এর উৎস সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, আমরা কিছু কিছু জানি। জানুয়ারির প্রথম দিকে নতুন করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবং একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ঐক্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল যে এটি মূলত বাঁদুড়ে বিকশিত হয়েছিল। সম্ভবত একটি মধ্যস্থতাকারী প্রজাতির মাধ্যমে মানুষের কাছে চলে যায়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দাবি, প্যাঙ্গোলিন, উদ্ভিদ চক্র বা ফেরেট সম্ভবত বৃক্ষ ও মানুষের মধ্যে সেতু হিসাবে কাজ করেছে। ভাইরাস ইচ্ছাকৃতভাবে কোন পরীক্ষাগারে নির্মিত এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়টি বারবার বলেছে যে তারা বিশ্বাস করে যে নতুন ভাইরাসটির উৎস প্রকৃতি।
কিন্তু কিভাবে এই ন্যাচারাল স্পিলওভার উহানে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করেছে? "দোষী চীন" অলঙ্কারটি এখন Wuhan Institute of Virology এর একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা নির্দেশ করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা- বাঁদুড় থেকে করোনা ভাইরাস এবং নতুন মহামারী তথ্য না আসা পর্যন্ত একটি ল্যাব দুর্ঘটনা জড়িত তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করা অসম্ভব হতে পারে। কিন্তু যদি আমরা এটাকে 'ল্যাব লিক' অনুমান করি, তবুও চীনকে দোষারোপ করাই কী সমস্যাটি সম্পর্কে চিন্তা করার সঠিক পথ?
বিপজ্জনক রোগের সাথে জড়িত ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব অনেকবার ঘটেছে। ২০১৪ সালে, খাদ্য ও মাদকদ্রব্য প্রশাসন একটি অনিরাপদ স্টোরেজ রুমে দুর্ঘটনাক্রমে স্মলপ্ক্স এর ছয়টি বোতল পায়।
একই বছর, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলি দুর্ঘটনাক্রমে তিনটি অনিরাপদ ল্যাবে কার্যকরী অ্যানথ্রাক্স স্পোর পাঠায়, সম্ভবত গবেষকরা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া বহন করছিলেন।। তারপর ২0১৫ সালে, পেন্টাগন দুর্ঘটনাক্রমে নয়টি রাজ্যে এবং এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত জীবন্ত অ্যানথ্র্যাক্স প্রেরণ করে।
সৌভাগ্যক্রমে, সেই দুর্ঘটনায় কোনও মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু এমন কিছু হয়েছে যা মারাত্মক। আমেরিকান জৈবিক সুরক্ষা সংস্থার ক্যারন বেয়ার এর একটি গবেষণার মতে, ১৯৭৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী "ল্যাবরেটরি অর্জিত সংক্রমণ" এর কমপক্ষে ১১৪১ টি উদাহরণ ছিল, যার মধ্যে কয়েকটির ফলাফল মৃত্যু।
স্মলপক্সের সাথে জড়িত কয়েকটি দুর্ঘটনায় ১৯৭০ সালে তিন জনের মৃত্যু হয়। চীনে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস লিক হয়ে ১৯৭০ এর দশকে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করে যা দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ভেনিজুয়েলা এবং কলম্বিয়াতে এনসেফালাইটিসের একটি মহামারীতে ১৯৯৫ সালে কমপক্ষে ৩১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল সম্ভবত কোনও পরীক্ষাগারের ঘটনার ফলে।
২০০৩ এবং ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং মূল ভূখণ্ড চীনের ল্যাব কর্মীরা দুর্ঘটনাক্রমে এসএআরএস-তে সংক্রামিত হয়েছিল এবং এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং মহামারীটি সংক্রামিত হওয়ার পরে একজনের মৃত্যু ঘটেছিল।
ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা একটি দুর্ভাগ্যজনক কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক এবং মারাত্মক রোগের গবেষণার অনিবার্য পরিণতি। কোন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা করে না।
মূল চাবি হলো, বুঝতে হবে কেন এমন রোগগুলি প্রথম স্থানে পরিণত হয় এবং কীভাবে তাদের প্রতিরোধ করা যায়। এখানে বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত্য পরিষ্কারভাবে পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করে এমন কাঠামোগত সমস্যাগুলির দিকে নির্দেশ করে।
প্রথমত, দ্রুত নগরায়ণ এবং বর্ধিত গতিশীলতা স্থানীয় প্রাদুর্ভাবের মহামারী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে। উহান একটি বড় পরিবহন কেন্দ্র এবং চীন এখন বহু বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। এই উভয় কারণই করোনাভাইরাস দ্রুত প্রসারে অবদান রেখেছিল।
বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং বন ও পাহাড়ের গভীরে নতুন অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ফলে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে নতুন নতুন রোগের ঝুঁকির পরিমাণ বেড়েছে। গত কয়েক দশক ধরে বর্ধিত গ্রাহকত্বের বিকাশের ফলে বন্য প্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।
পান্ডোলিনের মতো বন্য প্রাণী, যা খাদ্য এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধের জন্য ব্যবহৃত হয়, মহামারীটির আগে উদ্বেগজনক হারে চীন পাচার করা হয়েছিল। একই সাথে পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়াসে, চীন সরকার কিছু বুনো প্রাণীর বাজারমুখী প্রজনন এবং ই-বাণিজ্য প্রচার করেছিল। উহানের মতো স্যাঁতস্যাঁতে বাজারে বুনো প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে এই অনুশীলনগুলি ঘনিষ্ঠ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ-সংক্রমণকারী মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে করোনা ভাইরাস উদ্ভব হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
শিল্প-মাপের হাঁস-মুরগি ও প্রাণিসম্পদ নতুন প্রাণীগত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মহামারী হতে পারে। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী রব ওয়ালেসের যুক্তি অনুসারে, পুঁজিবাদী কৃষিকাজ "রোগজীবাণুগুলির সবচেয়ে জঘন্য এবং সংক্রামক ফেনোটাইপগুলি বিকশিত করতে পারে তার সঠিক উপায় সরবরাহ করে"।
বন ও অন্যান্য আবাসস্থল ধ্বংস, ভোগবাদ, বন্য প্রাণীর বাণিজ্য এবং শিল্প-স্তরের প্রাণীজ প্রজনন চীনের পক্ষে অনন্য নয়। এগুলি বিশ্বব্যাপী ঘটনা।
এই মহামারীটি যদি চীনে উৎপন্ন হয়, পরেরটি ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোথা হতে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এটাই সত্যি।
এই ট্র্যাজেডির জন্য বাণিজ্যিক দোষরোপ বিশ্ব নেতাদের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সমীচীন হতে পারে এবং ল্যাব ফাঁসের ধারণাটি কার্যকর হতে পারে, তবে এর কিছুই বিশ্বকে এর সাথে আরও ভাল মোকাবেলায় সহায়তা করছে না।
প্রকৃত সমস্যা যা নতুন রোগের জন্ম দেয় এবং বৈশ্বিক মহামারীর কারণ, কেবলমাত্র ল্যাব দুর্ঘটনা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং অবিচ্ছিন্ন।
২২মে ২০২০, আল জাজিরা।
লেখক
লি ঝাং।
লি ঝাং, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরভিনের আন্তর্জাতিক স্টাডিজের ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক।
Saturday, May 23, 2020
গোটা ব্যবস্থাটাই যখন জবাবদিহিহীন - আলী রীয়াজ
প্রায়শই একটা কথা শুনতে পাই, বিভিন্ন লেখায় পড়ি, কেউ কেউ ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবেও পোস্ট করেন - ‘দেশকে বদলাতে হলে আগে মানুষকে বদলাতে হবে’|
কেউ কেউ উদাত্ত আহবান জানান, ‘আসুন, নিজেকে বদলাই’| কিন্তু কেউ কি এমন দুইটা উদাহরণ দিতে পারবেন যে, রাষ্ট্র বদলানোর আগে, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো বদলানোর আগে, রাষ্ট্র পরিচালনার আদর্শ পরিবর্তনের আগে সব বা অধিকাংশ মানুষ ‘বদলে’ গেছে এবং তারপরে রাষ্ট্র, সরকার, দেশ, সমাজ বদলেছে? ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে এই পর্যন্ত কবে কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে? এই প্রশ্নটা কৌতুহল হিসেবে বিবেচনা করুন|
ব্যক্তিকে নিজেকে বদল করতে বলা আসলে বিরাজনীতিকীকরণের উদাহরণ| ব্যক্তির আচরণ বদলে ফেলে আপনি বড়জোর নিজের উঠোন পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবেন; রাষ্ট্র্রের অনাচার বন্ধ করতে পারবেন না|
বিরাজমান ব্যবস্থা টিকে থাকার দায় ব্যক্তির ঐটুকুই যে তিনি তা গড়ে ওঠার সময় প্রতিবাদ- প্রতিরোধ করেনি, কিন্তু চলমান অবস্থার দায় - সব অন্যায়ের দায় তাঁর কাঁধে তুলে দিয়ে তাকেই অপরাধী বানানো, তাকে হতাশ করা, তাঁর চারপাশের মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরী করার উদ্দেশ্য একটাই - সম্মিলিত প্রতিরোধের ধারণাকে অবসিত করা|
‘নিজে ঠিক থাকলে সব ঠিক’, ‘দোষ হইলো মানুষের’ , ‘আমরা যেমন তেমনি অবস্থা’ এই জাতীয় কথা বিশ্বাস করা ও বলার জন্যে উৎসাহ জোগানোর উদ্দেশ্য - আপনি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না, অন্যায় নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না| ওই প্রশ্ন তোলাটাই রাজনীতি; পরিবর্তনের প্রথম শর্ত হচ্ছে শিরদাঁড়া শক্ত করে, মাথা উঁচু করে প্রশ্ন করা| কিন্তু তা যেন আপনি না করতে পারেন সেই জন্যে আপনার ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে একটা অনাচারী ব্যবস্থা বহাল রাখার জন্যেই বলা হবে আপনিই দোষী, আপনার চারপাশের সাধারণ মানুষ দোষী|
গোটা ব্যবস্থাটাই যখন জবাবদিহিহীন, তখন যাই ঘটুক ক্ষমতাসীনদের কেউই দায় নেবে না — সেটা ডেঙ্গুর বিস্তার হোক, কি অব্যাহত ধর্ষণ হোক, কি প্রকাশ্যে খুন হোক, কি পিটিয়ে হত্যা হোক, কি বিচার বহিৰ্ভূত হত্যা হোক, কি গুম হোক| ঘুরে ফিরে এই দায় আপনার কাঁধেই তুলে দেয়া হবে| বলা হবে ‘আপনারা বদলালেই সব ঠিক হয়ে যাবে|’ এই ধরণের কথাবার্তাকে চ্যালেঞ্জ করা দরকার, প্রশ্নবিদ্ধ করা দরকার -এখনই|
লেখাটি গত ২৮শে জুলাই, ২০১৯ তারিখে তাঁর ফেসবুক টাইম লাইনে প্রকাশিত হয়। লেখক ড. আলী রীয়াজ আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর।
[লিখাটি শিরোনামহীন ছিলো, শিরোনামটি সংযোজিত]
Friday, May 22, 2020
কাশ্মীর এবং অন্যান্য মৃত্যুপুরী - ভূবন মুন্সী
"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই" এ বঙ্গীয় বোধ-বাক্য ধারন, বাস্তবায়ন আজ পৃথিবীর অনিবার্য দাবী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ পথ চলায় প্রাযুক্তিক সভ্যতা যে জায়গাটাতে খুব পশ্চাৎপদ হয়ে আছে তা মানুষ প্রসঙ্গ।
রাজনৈতিক মানচিত্র, জাতিগত মর্যাদা, গোষ্ঠীগত ও ব্যাক্তিগত মুনাফাকে সামনে রেখে চালিত সভ্যতা প্রতিনিয়ত পিঁপড়ের মতো পিষে ফেলছে মানুষ। যাঁদেরকে ঘিরে পৃথিবী সবুজ হয়ে উঠলো, সভ্যতা খোঁজে পেল টিকে থাকার যৌক্তিক সংজ্ঞা, তাঁরাই এক পর্যায়ে হয়ে উঠলো 'এক্সপেরিমেন্টাল ব্যাঙ', লেপ্টে গেলো দর্শনের কালো পৃষ্ঠায়।
আজ কাশ্মীর, কাল ফিলিস্তিন, পরশু রাখাইন; এভাবে চলতেই থাকে আফগান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া; এভাবে চলতেই থাকবে আর মরতেই থাকবে বোধ শ্রেষ্ঠ মানুষ।
বোধ শ্রেষ্ঠ হয়েও কেন এ বেহাল দশা?
মানুষ চাঁদে যায়, প্রতিবেশী আর বাড়ির লোক অনাহারে মরে; মানুষ মঙ্গলে যায়, ঘরের লোক আত্মহত্যা করে; মানুষ সূর্যের দিকে ক্যাসিনো পাঠায়, সিরিয়া অনলে পুড়ে, পুড়ে যায় কাশ্মীর।
কেন এতো বৈপরীত্যে ঠাঁসা এক পৃথিবীর বুক?
সিরিয় শিশু আইলান কুর্দির জন্য, কঁচুকাটা হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য, ফিলিস্তিনিদের জন্য, ইরাক,আফগান আর কাশ্মীরের জন্য সেই কবে থেকে মানবিক আর্তি! কিন্তু মৃত্যু থামছেনা। যমদূত ক্লান্ত হলেই কেবল কিছুদিন মৃত্যু ঘুমিয়ে থাকে। বখাটে কুকুর গুলো প্রহরায় রাখে মানুষকে; মানুষ যেন না পালায়, যমদূত যেন পুনসংহারে মত্ত হতে পারে তান্ডব লীলায়।
সমস্যা কোথায়, সমাধান কোন দ্বীপে?
হাজারো ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য নির্মিত ও বিশ্লেষিত হয়ে মুদ্রিত ও পঠিত হলেও, মানুষ ও মানবীয় মর্যাদা থেকে গেছে অবেহেলায় কিংবা ভাসা ভাসা গুরুত্বে, কোন 'মানুষ সংবিধান' স্বাতন্ত্রিক মর্যাদায় মুদ্রিত, পাঠ্য ও পঠিত এবং চর্চিত হয়নি আজো; যতটুকু হয়েছে তা অন্য প্রসঙ্গের সাথে রিলেট করে, যেমন ব্যাক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানেও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার, অধিকার ও মর্যাদা আলোচ্য ও চর্চিত হয়, মূখ্যত তা কোন ভাবেই মানুষের সাথে নয়, তা ভোক্তা ও ক্রেতার সাথে; এক্ষেত্রে মানুষ না হয়ে গরু যদি ক্রেতা বা ভোক্তা হতো, তাহলে তাদের সাথেও অনুরূপ ব্যবহার হতো।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ শুধুই মানুষ, মানুষ প্রাসঙ্গিকতায় মানচিত্রও অতিশয় তুচ্ছ বিষয়। মূলত একটি সজীব মানচিত্রই বর্তমান, আর তা মানুষের মানচিত্র। এ সাড়েতিন হাত মানচিত্রের মর্যাদার, তথা যৌক্তিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন হয়ে পরেছে আধুনিক বিজ্ঞাননিষ্ঠ সংবিধান এবং মানুষ শব্দটা যেহেতু স্থানিক সীমা অতিক্রম করে বৈশ্বিক, সেহেতু মানুষ অর্থেই সমগ্র পৃথিবীর জন্য প্রয়োজন মৌলিক একক সংবিধান। স্থানিক বাস্তবতার ভিন্নতা, তথা বৈচিত্র্য প্রকৃতিগত শর্ত, তাই সংবিধানও হতে হবে প্রকৃতি উন্মোচিত জ্ঞান তথা বিজ্ঞানকে আধেয় করে মৌলিক পথে। প্রচলিত জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন বা ভাগের সাগরে স্নান করা পন্ডিতের পথ ও মত ক্যানভাসারের মলমের মতে গুণবতী শোনা গেলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে তা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য।
০৬.০৮.১৯
Subscribe to:
Posts (Atom)








