Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Thursday, December 23, 2021

ফুলগুলো সব কোথায় হারালো - হাসান রাকিব।

ফুলগুলো সব কোথায় হারালো
হাসান রাকিব
হাসান রাকিব 

 হাওয়া মুভির রিভিউ পড়তে ক্লিক করুন।

একদিন তোমাকে বৃষ্টিভেজা গোলাপ দিলাম
তুমি গোলাপটা নিয়ে বৃষ্টিগুলো আমাকে ফেরত দিলে
তিস্তার মতো আটকে গেল
আমদের মধ্যে পানিবন্টন চুক্তি
ফলে একপাশে খরা একপাশে প্লাবন ভূমি 
সেই গোলাপ আমাদের মধ্যে শান্তি এনে দিতে পরেনি
যেমনটা পারেনি
সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র, পুঁজিবাদ, প্রজাতন্ত্রের রাজনীতি
শোষণ বাড়লো
দূষণ বাড়লো
বাণিজ্যিকভাবে বাড়লো ফুলের চাষ
মানুষের হৃদয়ের উর্বরতা বাড়লো না
ঐ যে একটা ফুল আছে
যে লাবণ্যের কথা বলে
আনন্দের কথা বলে
সাম্যের কথা বলে
যুদ্ধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে শান্তির কথা বলে
সেই ফুলটা কোথায় হারালো?
ফুলগুলো সব কোথায় গেল? 
তরুণ হৃদয় থেকে ফুলগুলো সব কোথায় চলে গেল?

কলমে কবি হাসান রাকিব।

Tuesday, December 21, 2021

কবি তন্ময় সাহা'র আলোচনা- ২

কবি তন্ময় সাহার আলোচনা-২

কবি তন্ময় সাহা



ডুবে যাবো। যেহেতু ডুবে যাওয়া যায় এবং উদ্ধার করতে পারলে ডুবুরি পারিশ্রমিক দিয়ে আরো কিছু মানুষের হাসি ফোটাতে সক্ষম তাই ডুবে যাওয়াই শ্রেয়। 

জলে ডুবে যাবে নাকি অতলে? জল উপমা মাত্র আসলে সবই অতল, মনকে ধরা যায়! কতটুকো ভেদ করা যায় মাটির গর্ভ! ভেতরেও ডুবে যাওয়া যায়। 
ভেতরে ডুবে গেলে উদ্ধার করবে কে? উদ্ধার কর্তা হিসেবে তখন নিজেকেই আবির্ভূত করে মানুষ আর যাকে উদ্ধার করে তার কাছে থাকে গুপ্তধনের সুচারু নকশা, যার লোভে মুহুর্মুহু মানুষ আসতে থাকে এবং চাটতে থাকে পা। 

কেবল কিছু সংখ্যক মানুষ ডুবে যাবার বাসনা নিয়ে আসে, জানতে চায় কৌশল। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি তখন জানিয়ে দেয় এবং মানুষ গুলো কিছু কিছু করে ডুবে যায় আবার কিছু ব্যর্থ হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। 

গুপ্তধন লোভীরা আসে-যায়, পথ বদলায়, পরিকল্পনা করে নকশা চুরির, গুমের এবং হত্যার। এরমধ্যে ডুবে যাওয়া মানুষ গুলোও ফিরে আসে গুপ্তধনের নকশা নিয়ে, এভাবেই চলতে থাকে লোভী এবং ডুবে যাওয়া মানুষের নকশার সাইকেল। 

এক রাস্তা থেকে বের হতে থাকে ক্রমশ অসংখ্য রাস্তা। 
কেউ ডুবে যাচ্ছে, কেউ লোভ করছে কেউ চুরি, গুম, হত্যা ইত্যাদি করছে, কেউবা আবার এদের শখ, বিলাসিতা, আপ্যায়ন এসব করছে। এতো এতো রাস্তা এক গন্ত্যব্য ঘিরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে। 

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে যাদের কাছে নকশা রয়েছে তারা কেউই গুপ্তধনের নকশা দেখতে পারে না, তার কারণ হচ্ছে দেখার জন্য যে আলোটা প্রয়োজন সেই আলোটা যার কাছে আছে সে বসে থাকেন গভীর অন্ধকারে, সেই অন্ধকার এতই অতল যে ডুবে যেতে যেতে মানুষ নবারুণের কবিতার ভাষায় বলে ওঠে "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়" এবং ফিরে আসে আবারো সেই নকশা হাতে। চলতে থাকে ব্যবসা-বাণিজ্য আর উনি অন্ধকারে বসে আলোর স্বপ্ন দেখান। 

আলোচনা-২ 
তন্ময় সাহা

Tuesday, November 30, 2021

মানুষ ও প্রফেশনাল ম্যান - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

অ্যাবস্যুলেটলি ইউ আর নট এ ম্যান! আর ইউ ম্যান? অনারেবল ম্যান?  শিওর?
messenger of cosmology


আপনি কি জানেন সমাজে কেন আপনি সম্মান পান? কি এমন আছে যার জন্য লোকে আপনাকে সম্মান দেখায়? সত্যিই কি?...মানুষ হিসেবে আপনি সমাজে সম্মানিত!!
সমাজে আপনার প্রথম পরিচয় প্রফেশন। দ্বিতীয় পরিচয় অর্থবান বা ক্ষমতাবানের বাপ, ভাই, ছেলে অথবা শালা। অর্থাৎ তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে আপনি "মানুষ"। সুতরাং লোকে যে কারণে আপনাকে সম্মান করে তা মানুষ হিসেবে না। আপনি----

* রাজনৈতিক নেতা
* ডাক্তার
* ইঞ্জিনিয়ার
* এ্যাডভোকেট
* বিসিএস ক্যাডার
* সরকারী কর্মকর্তা
* এসপি/ডিসি
* পুলিশ, ডিবি, 
* ব্যাংকার
*হুঙ্কার
*মহাজন
* জজ সাহেবের বাপ অথবা ছেলে।
* ওমুকের জামাই
* তমুকের শালা হিসেবেই আপনি সম্মানী।

হ্যাঁ, প্রফেশন, ক্ষমতা, আর টাকার মানদন্ডেই লোকে আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকে।
অর্থাৎ সম্মান, সৃষ্টির সেরা জীব 'মানুষ' হিসেবে নয় বরং লাভে, লোভে বা ভয়ে লোকে আপনাকে যতটুকুন করে তা স্রেফ 'মহাজন' হিসেবে?
বিষয়টা আপনাদের জন্য লিখতেছিনা। নিজে স্পষ্ট হবার তাড়নায় কলম ধরছি।

এবার একটা উদাহরণ দিই পরিস্কার হবে। কিন্তু পরিস্কার জলেও অনেকেই তাকাতে চায়না। কারণ নিজের আসল রূপটা যদি নিজের কাছে ধরা পড়ে যায়!! আমার অবশ্য নর্সিসাস আছে। আত্মপ্রেমে মগ্ন হয়ে রোজই স্বচ্ছ জল কিংবা আয়নায় তাকিয়ে থাকি। দেখার চেষ্টা করি কেমন আমি।

এখন মূল প্রসঙ্গে আসি- আপনি সম্মানী লোক, কারন আপনি এ্যাডভোকেট, ডাক্তার বা মন্ত্রী। এখন আপনার পরিচয় থেকে এ্যাডভোকেট, ডাক্তার বা মন্ত্রী পদবী তুলে দিলাম (সদ্য বহিষ্কৃত গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর)। আপনার কোটি টাকা নিয়ে অর্থশূন্য করে দিলাম। আপনার বংশগৌরব মুছে দিলাম,,,,,পরক্ষণেই  কতটুকু সম্মান প্রাপ্তি হবে আপনার! হবে কি-- সিনহা?

"আমিও মানুষ তুমিও মানুষ" বোধে
যে সম্মান প্রাপ্তি হয় বা হবে ততটুকুই আপনার মানব সত্বা বা মনুষ্যত্ব। আর যতটুকু  মনুষ্যত্ব- আপনি ততটুকুই মানুষ। বাকি সবটুকু জুড়েই আপনি প্রফেশনিস্ট বা প্রফেশনাল জীব 'কীট' হিসেবে অমানুষ। তাই 'আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে- আপনি তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে মানুষ।  আপনাকে প্রফেশনালি মান দেওয়া হচ্ছে,  মানুষ হিসেবে নয়। আপনি মানুষ হিসেবে নিজেকে সামনে আনেননি, মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে আপামর মানুষের হয়ে উঠতে পারেননি। সত্যি বলছি- আপনি মানুষ হয়ে উঠতে পারেননি।

Saturday, November 20, 2021

ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল সুমন।

"ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য"


মেসেঞ্জার অব কসমোলজি
Messenger Of Cosmology 




রাজনীতির ক্ষেত্রে জনগণ ও জনপদ ধ্রুব সত্য হলেও, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কাঠামোগত দিকটা গুরুত্বপূর্ণ আর কাঠামোগত দিকটা সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়, বদলে যায়, বদলে নিতে হয়। কাঠামো এখানে যন্ত্র সদৃশ। বদলটাই অনিবার্য। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রিক কাঠামো আর স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রিক কাঠামো অভিন্ন রেখে আমরা যখন দেশ পরিচালনার জন্য সরকার গঠন করি, চেতনাগত দিক থেকে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য বুঝলেও কেবল বিগত পঞ্চাশ বছরে অধরা থেকে গেছে রাষ্ট্রীক কাঠামোর বিষয়টা। অর্থনৈতিক শোষণ ও নিপীড়নের জন্য বিদেশিদের হাতে গড়া রাষ্ট্র কাঠামোয় স্বাধীন দেশের সরকার বসা মাত্রই ব্যর্থতার শিকল গলায় জড়িয়ে যাচ্ছে। 'পান থেকে চুন আর তেল থেকে নুন' এর ব্যবস্থাপনায় জনপ্রিয়তায় তুঙ্গে থাকা সরকার প্রায় সর্বত্রই বারংবার গনবিরোধীর তকমা নিয়ে হাজির হচ্ছে। যেন যে লংকায় যাচ্ছে, সেই রাবণ!

দেশের ভালোর সাথে সবার ভালোটা জড়িয়ে থাকে বলেই-

হাজার বছরের ইতিহাস বিশ্লেষণ পূর্বক,
আমরা বলেছিলাম- বৃটিশ সৃষ্ট আইন, আদালত, আমলা, প্রশাসনে সাজানো রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় ডান বামের যত- আদর্শিক, দেশপ্রেমিক, যোগ্য, দক্ষ ও সৎ নেতৃত্বই আসুক না কেন তিনি ব্যর্থ হতে বাধ্য। 

রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় থাকা সরকার কে ব্যর্থতার 'দ্বায়' মুক্তির ঐতিহাসিক পথ ও পদ্ধতি নিয়ে ২০১৯ এর নির্বাচনের পূর্বে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষাত ছিল অতীব জরুরী। গণভবনে স্বাক্ষাত সিডিউলের জন্য আওয়ামী ঘরানার বহু রথী-মহারথী-সারথীর শরণাপন্ন হলাম, বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে,,,, অনেক ঘুরলাম।

কিন্তু ! না সাক্ষাৎ পেলাম, না পেলাম সিডিউল, বুঝলাম মক্কা বহুদূর!

দেশে যত বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা তার জন্য দ্বায়ী বিরোধী দল আর যা কিছু ভালো তা আওয়ামী লীগ এর! অর্থাৎ দেশের ভালো একমাত্র আওয়ামী লীগই চায় বা চাইবে। অন্য কেহ চাইতে পারে না কিংবা দেশ মানুষের জন্য ভালো কিছু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়ার কোনো রাস্তা অন্তত আওয়ামী লীগে নেই। 

বি:দ্র: সরকার প্রধান কিংবা প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে স্পর্শকাতর, অরুচিকর বা নেগেটিভ না বলা পর্যন্ত (প্রশাসন বা সরকারী বাহিনীর কান খাড়াই হয় না) আর মিডিয়া তো অন্য জিনিস,,,, শুধু কুকুর কামড়ালেই নিউজ হয়, ভালো কিছু এদের নজরেই আসে না। সত্যিকার অর্থে নেগেটিভ বা কামড়া-কামড়ির সংস্কৃতিতে নিমজ্জিত হতে পারিনি বলেই হয়তো সরকার প্রধান আমাদের দিকে দৃষ্টি ক্ষেপণ করেননি। যাক সে সব কথা...

সাধারণ হিসেবে আমরাও এটাই চাই, রাষ্ট্রীয় মসনদে যে সরকারই থাকুক, সবার ভালো করুক, সবাই কে ভালো রাখুক। স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী এমন একটি সরকার দেখাতে পারেন? যে সরকার জনগণের সরকার! 

ব্যপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও ২/৩ বছরের মধ্যে জনমনে যাকে নিয়ে বিরূপ, বিদ্বেষ বা অসন্তোষ দেখা যায় নি? 

রাষ্ট্র তথা দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে যাঁরা ব্যর্থ হননি?

পরিচালকের আসনে বসা মাত্র সবার সব ঐতিহ্য, অর্জন, উন্নয়ন তলানিতে ঠেকেনি?

আগামীতে আরো ঠেকবে, আরো পঁচবে- যে যত ভালোই হন না কেন। কারণ এটাই রাষ্ট্রতত্ত্ব বা সাইন্স।

ডান বাম নয়, আশু সমস্যা সমাধানের জন্য- হাঁটতে হবে 'দেশ' বরাবর।... এর বাইরে যে যত বেশি গা দোলাবে, চোরাবালিতে সে তত দ্রুত ডুববে।

রাজনীতি, রাজনীতির পথ বেয়েই বর্তমানে এমন পর্যায়ে চলে এসেছে,,,, যার দরুন ষোল কোটি বাঙালির হৃদয়ে গেথে থাকা 'নৌকা আর ধান' এর মধ্যে থেকে যেকোনো একটি চিরতরে বিদায় নিতে যাচ্ছে,,,, অদূর ভবিষ্যতে। ডু অর ডাই। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি অভয় দিলে মনের অব্যক্ত কথাগুলো  বলতে চাই, বাঁচতে চাই, সাথে সমগ্র দেশকে নিয়ে। 


লেখক-
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল সুমন
গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।



Wednesday, November 10, 2021

ছোটগল্প - ভাঙচুর - ভূবন মুন্সী।

ভাঙচুর

messenger of cosmology
ভূবন মুন্সী



সুবোধ চুরুট টানতে টানতে ঘরে প্রবেশ করলো। ডান হাতে স্মার্ট ফোন। ফোনটা টেবিলে ধাক্কা দিয়ে রেখে বললো- বাল ছাল মিটিং টিটিং আর ভাল্লাগেনা। দেশ টেশ গোল্লায় যাক, সবাই মারা দিক, আমার কী? তাড়াতাড়ি মিটিং শেষ করবেন।

প্রগতি পার্টির অগ্রজ নেতা উত্তম আগে থেকেই বসা। রুষ্ট চোখে তাকালো সুবোধের দিকে- তুমি এতো স্ল্যাং ল্যাঙ্গুয়েজ কোথায় শিখলা?

ক্যান, আপনার দেশ থাইকা শিখলাম। যা শেখানো হইলো তায় শিখলাম।

তোমার মাথা বন্ধক দিছো?- উত্তম বললো। 'সব ব্যাপারে সিলি মুড বন্ধ কর।'

সুবোধ এবার মনে মনে কথা বলছে- শালা! খালি উপদেশ। কী বাল ফালান সারাদিন, জানি।

সকাল আর মাগরিব একসাথে ঘরে ঢুকলো। দুজনের সখ্যতা খুব। সবার জানা মতে ইটিস পিটিস চলে। তবে সকালের প্রেম বিরহের কাব্যগ্রন্থ বেশ সাড়া পেয়েছিলো। মারজুক রাসেলের দেহবন্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর কাব্য গ্রন্থটিও বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিলো তরুন ও বুদ্ধিজীবী মহলে। 

সুবোধ বাঁকা চোখে তাকিয়ে আছে, সকালকে তার খানকি খানকি লাগে। যদিও সকাল ওতো খারাপ না। মাগরিব ছেলেটার মধ্যে লাম্পট্যের জ্বিন আছড় করে আছে। 'শালা, মালটারে ঠিক ঝুটিয়ে নিছে।'

বিপ্লব, স্লোগান, উদ্যম আর মেধা একসাথে এলো। বিপ্লব বললো- সবাই এসে গেছে? সুবোধ বললো- হ্যাঁ। উত্তম বললো- দাদা, সাহস আর দৃষ্টি এখনো আসেনি। বাদবাকি আমরা সবাই আছি। 'সাহস অসুস্থ দাদা, ও আজ আসতে পারবেনা। দৃষ্টিও আসবেনা। দৃষ্টি গতকাল শ্বশুর বাড়ি গেছে।'

উত্তম ভাবে সুবোধ ছেলেটা বেশি সুবিধার না হলেও কাজে পারদর্শী। সবার দিকে নজর তার।

সবাই গোল টেবিলে বসে গেলো। মিটিং শুরু। "দেশের চলমান সংকট ও সমাধান শীর্ষক আলোচনা" - প্যানাটা দেয়ালে সাঁটা। এয়ার ফ্রেশার লেমন গন্ধ ছড়াচ্ছে। মাগরিব কথা বললো দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি নিয়ে। 'এটা একটা কূটনৈতিক ব্যাধি', 'মন্ত্রী ও দোকানদারদের স্বার্থগত সন্ধি বারবার এ ব্যাধি বাড়িয়ে দিচ্ছে। '

সকাল সাহিত্যের আকাল নিয়ে কথা তুললো। 'নপুংসক পিরিয়ড পার করছি আমরা।'

স্লোগান, উদ্যম, মেধা জনগণকে দেশের সংকট নিরসনে কি করে এক করা  যায় তায় ভাবছে।

উত্তম সুশীল সমাজের নিরব ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে বলতে থাকলো- দেশটা কে দেখবে তবে? কে আর্ত মানুষ নিয়ে ব্রিফ করবে? আমাদের রোজ সংবাদ সম্মেলন করা দরকার।

সবাই সবার কথাকে যৌক্তিক ও যুগসত্য মনে করে তালি বাজাচ্ছে। কথার ফাঁকে ফাঁকে তালি পড়া এদেশের বংশগত রেওয়াজ।

সুবোধ লাইটার বের করে চুরুট ধরাতে যাচ্ছে... 'মিটিং শেষ?' সবাই ক্রোধ ঝাড়লো। কুল হতে বললো।

'থামুন সুধীবৃন্দ'- সুবোধ বললো। 'দাদা, সংযত গত বছর গুম হলো, এখনো খবর নাই। আমরা যদি অর্গানাইজড থাকি, তবে সংযতকে নিয়ে কোন পদক্ষেপ কেন নেইনি? সভ্যকে মেরে ফেলা হলো! কি হলো? মাঝে মাঝে গোল টেবিলে আসলাম, কন্ঠ খিঁচলাম, চলে গেলাম- কিছু হবে? আমরা সমাজ ও রাষ্ট্রের কোন বালই ছিড়তে পারবোনা। এটাকে না বলে সংগঠন, না সাংগঠনিক চরিত্র। যার যার, তার তার- কী সংগঠন? সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির কোন পদক্ষেপ আমাদের আছে? নাই। ক্যামনে! ক্যামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব!'

বিপ্লব বললো, উত্তম কিছু বলবা? 'দাদা, আমরা হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা। আবেগীয় সিদ্ধান্ত নিলেও এগিয়ে যেতে পারবোনা।' কাউন্টার টক! সুবোধ কথার পা ঠেঁলে দিলো উত্তমের কথায়। 'হুট করেনা মানে কী আঠারো মাসে বছর গোনা! আবেগের রস ছাড়া ছোবড়া বুক নিয়ে বদল চাচ্ছি? বাহ্! "I love my country" এটা আবেগীয় নয়!'

'প্লিজ সাইলেন্ট' বিপ্লব সবার উদ্দেশ্যে বললেন। 'পরস্পরকে ভালোবাসি, রেসপেক্ট করি। নিজেরা এতো কথার বিভেদে জড়ালে হবে? কথার হাত ধরেই মনের বিরোধ আসে।'

সুবোধ বললো- দাদা, এটাতো ব্যক্তি বিরোধ নয়, মতের দ্বন্ধ। এটা ছাড়া পরিকল্পনার স্বচ্ছতা আসবে কোথা থেকে? একেক জন আমরা একেক প্ল্যাটফর্ম থেকে এসেছি। নয়া উদ্যোগে, নয়া প্ল্যাটফর্মের চুলচেরা স্বচ্ছতা দরকার, চরিত্রের ভঙচুর দরকার।

বিপ্লব, উত্তমরা এখন যে যার মতো। মাগরিব আর সকাল সংসার করছে। স্লোগান কন্ঠ ক্যান্সারে ভূগছে।উদ্যম, মেধা বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে। 

সেদিনের সেই বৈঠকটাকে রাষ্ট্র পক্ষ দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র মূলক বৈঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছিলো। জঙ্গিবাদের কিছু আলামতও নাকি বৈঠক স্থলে পাওয়া গিয়েছিলো। মিডিয়া দারুণ উদ্বেগে কলম চালিয়ে দু চার দিন পর থেকেই আরেক উদ্বেগে ব্যস্ত হয়ে গেছে। সময় দা পত্রিকার নাম পাল্টে ফেলেছে। বিপ্লবদের সাথে সংযোগ থাকার ব্যাপারে কোন ডকুমেন্ট না থাকায় উনি পর্দার আড়ালেই রয়ে গেলেন।

সুবোধ এখনো কারাগারে। সময় দা তার জামিনের দাবিতে নিরপেক্ষ মহল থেকে কথা বলছেন।

Monday, November 1, 2021

ছোটগল্প - আড্ডা- ভূবন মুন্সী

 আড্ডা

Messenger of cosmology
ভূবন মুন্সীর ছোটগল্প- আড্ডা




বাহিরে তুমুল বৃষ্টি। শৈশবের আকাশ ভাঙা দিন যেনো ফিরে এলো ফের। উৎসব আয়োজনে মগ্ন মানুষ। ধোঁয়া সরিয়ে দেখে নিই মানুষের আনাগোনা।
আমার চোখ প্যারালাল দৃষ্টি ফেলে বসে থাকে। ধোঁয়ারা স্পাইরাল হয়ে উর্দ্ধমুখী।
বাউল বলেছিলো,
সত্ত্বা যদি স্পাইরাল হয়ে উর্দ্ধে উঠে, অতপর ছুঁয়ে ফেলে সহস্রার তবেই মুক্তি; কথাটি মনে পড়তেই অন্তর্মুখী হলাম।শামসুদ্দিন আবুল কালামের মতো পথ জানা নাই ভাবে বসে আছি। বাউল বাক্য যেন অচিন ক্রিপ্টোগ্রাফ।
'কি খবর?' শব্দ শুনে হুঁশ হলাম; কবি আরও কিছু বলেছে কি-না শুনি নাই।


চোখে তাকালাম। অপোজিট চোখ থেকে জিজ্ঞাসা এলো, কেমন আছেন?
কিছু উত্তর এলোনা কন্ঠ ছুঁয়ে।
তবু বললাম আড়ষ্ট আছি, বুঝা যাচ্ছে না কিছু। তবে প্রবলেম আছে।
কেমন?
কন্ট্রাডিকশন।
যেমন?
ভাবগত।
এক্সপ্লেইন্যাবল?
নো, আনএ্যাবল।
হোয়াই আনএ্যাবল! আই'ম এক্সপ্লেইন ইট। মি. সাধু বলে উঠলো।
কবি থামিয়ে দিয়ে বললো, আপনি সবটা শোনেননি!
'অজান খবর না জানিলে কিসের ফকিরি' বলে সাধু ভাবে গেলো।
স্টপ কবি, উনাকে বলতে দিন, আমি বললাম।
'এই আমরা বহির্মুখে ব্যাস্ত,
কী করে জানবো অন্তরের খবর!
কে আছে সেখানে
কি চায়
কেনো চায়
কখনো কি জানা হয়েছে আমাদের!
আত্মতত্ত্ব জানিনা
কি করে জানবো আত্মার খবর!' সাধু বলতে থাকলো।
'একবার একূলে 
আরেকবার গোকূলে,
ইহাই কন্ট্রাডিকশনের মূল কারণ।'


ভাই খেলার কি খবর? অর্থ এসে জিগ্যেস করলো।
মুড পাল্টে গেলো সবার।
মি. সাধু ঠা ঠা হাসি থামিয়ে বললো, কার খেলা কে খেলায় জানিনাতো ছোট ভাই।
বাংলাদেশ জিতবে,
আমি শিওর,
আই লাভ বাংলাদেশ।
ভাই আমি কি একটা চা খেতে পারি?
তবে জিততে কষ্ট হবে- অর্থ বললো।
আমি বললাম, হ্যা।
সে বললো, ভাই আপনারা কি প্রাইমারি এক্সাম দিয়েছেন?
আমি বুঝলাম আড্ডার পাশা এবার উল্টালো।
'ভাই কেমন দিলেন? যারা টিকবে তারা কিন্তু প্লেয়ার। প্রশ্ন কিন্তু স্ট্যানডার্ড হয়েছে।'
কবি বললো, 'প্লেয়ার তো ভাই সবাই। টিকা না টিকা দিয়ে যোগ্যতা ম্যাজার হয়না। এটা পরীক্ষা নাকি প্রহসন!এটা সেটা কত কোটা! প্রশ্ন আউট! মাজা আর কোস্তের জোর!২৪লক্ষ এপ্লিকান্টের বিপরীতে ১২সহস্র চেয়ার! ফাকিং সিস্টেম!'


ধোঁয়া টানছে সবাই। গিঞ্জি ঘরে ছড়িয়ে আছে সাড়ে চার হাজার রাসায়নিক পদার্থ। শিরায় শিরায় ওদের স্রোত। বুক চেম্বারে নিকোটিনের চলাচল। একদিন সে কাবু করবে সচল চেম্বার। তবু টানছি। এখানে সবাই টানছে। কারণ জিগ্যেস করলে হয়তো বলবে এমনিই টানি; সেই মেয়েটির মতো করে 'এমনিই সাঁজি'।
অবশ্য ঢাকা'র অবস্থা আরও দিগম্বর। মল- মূত্র- ধোঁয়া একাকার।
রূপম গুনগুনিয়ে গান গাইছে, 
রাত জাগা চোখ নষ্ট বাতাস 
পাশে কেউ নেই একলা হতাশ 
আর ভূল দর্শন গিলে গিলে তোমার আমার 
বাড়ছে বিসুখ।
সাধু উঠে দাঁড়ালো।
'সবাই থাকুন।
আসি আমি' বলে বেরিয়ে গেলো।
 বাহিরে এখনো বৃষ্টি হচ্ছে। ততোটা তুমুল নয়। সবাই বেরিয়ে যাবার সময় এখন।
ওয়াটার ক্যালকুলাসে আমরা কেউ দক্ষ নই। কথার ক্যালকুলাস কারো জানা নেই। এতোক্ষণে বৃষ্টিকণা, কন্ঠকথা কোন পথে কোন গন্তব্যে গেলো হিসেব কষা হলোনা কারও। সবাই ছুটলাম ঘরে, প্রাত্যহিক অভ্যাসের পথে।

০৩.০৬.১৯

Wednesday, October 27, 2021

পৃথিবী তুমি প্রেমিক খোঁজ



পৃথিবী তুমি প্রেমিক খোঁজ

ইয়াসিন আরাফাত



সভ্যতার নিগুঢ়ে বাণিজ্য, যান্ত্রিকতার দাপট ছাড়িয়ে যাচ্ছে মানুষ। সভ্যতার বাণিজ্যদশা চলছে যন্ত্রের সাথে মানুষের বিবর্তন।
রাষ্ট্রিক শিক্ষা বোধের চক্ষু বেধে রাখে আক্ষরিক শিক্ষায়।
আর শিক্ষা শুধু শিক্ষা নয় কিছুটা প্রমত্তরসও বটে। রসের গলাধঃকরণে পালকের মত টালমাটাল নাগরিক। 
নেশার ঘোর যেন এক সরলরেখা :
জন্ম-পারিবারিক যন্ত্রে পদার্পণ-মেকি সমাজে পদার্পণ-শিক্ষা ব্যবস্থায়(প্রমত্তরস) প্রবেশ-ক্যারিয়ার কপচানো-বিবাহ-প্রজনন ক্রিয়া-মৃত্যু।

আর সব মাতাল।

রাষ্ট্রের জন্মচোখ খেয়ে নিচ্ছে শকুন। স্বাধীনতা আর চোখে ভাসে না।
যান্ত্রিকতার দাপট পুঁজিনীতি যেন মানুষ যন্ত্রের এক অদৃশ্য রিমোট। জীবনের যাপন হয়ে উঠেছে যাপন।
মানুষ যেন একটা ব্যান্ড। জন্মের সতিত্ব হারিয়ে পরিণত হচ্ছে পতিতায়। 

শুধু একটা চুমো বিপ্লব এনে দিতে পারত কিন্তু তা বেছে নিয়েছে ভোগবাদী ঠোঁট। তাই এখন পুঁজিবাদী দুনিয়ার মানুষ ব্যাক্তিক ঠোঁটকে ভোগের শস্য ভাবে।
আর প্রেম তার লিঙ্গের সীমানাকে ছাড়িয়ে উঠতেই পারে না।

পৃথিবী তুমি প্রেমিক খোঁজ!

২৩.০৬.১৪২৭

ইমোশন বনাম রিয়েলিটি - ভূবন মুন্সী।



ইমোশন বনাম রিয়েলিটি




আপনি দেশ মানুষ নিয়া ভাবতে এলেন কেন ভাই? 
দেশ দুনিয়া জাহান্নামে যাক, আপনার কি? বিপ্লবের জন্য, বদলের জন্য কেউ কী আপনাকে ভাড়া করেছে? জোর করেছে স্লোগান দিতে? মিছিলে যেতে?

পৃথিবী যে গতিতে পাগলা হয়ে যাচ্ছে - একে লাগাম পড়ানো চাট্টিখানি কথা না! আপনার ইমোশন, রিয়েলিটি, ক্যাপাবিলিটি, নলেজ আর দম লাগবে বিপ্লব করতে। ধৈর্য লাগবে।

কী, আপনার অনেক ইমোশন? কত রাত মানুষের কথা ভেবেছেন? কেন মানুষের কথা ভেবেছেন? মানুষের মুক্তির জন্য, শান্তির জন্য? নাকি বেহুদা ইমোশন?

ইমোশন দিয়া কিচ্ছু হবেনা? তবে ভাই, আপনি গতি আনবেন কোত্থেকে? অন্যের দুঃখে ব্যাথিত হবেন কি করে?

রিয়েলিটি? হ্যা, এটা লাগবে। থাকতে হবে। কিন্তু আপনে রিয়েলিটি রিয়েলিটি কইরা চিল্লাইতাছেন ক্যান! বাস্তবতায় আপনি বেকার, দূব্বল, বাপ চাচা কেউ এমপি মন্ত্রী না। ভাই, এতো রিয়েলিটি নিয়া মানুষের কথা ভাবোন যায়? কার্ল মার্ক্সের রিয়েলিটি কী ছিলো? বঙ্গবন্ধুর রিয়েলিটি?

এতো রিয়েলিটি নিয়া মনুষ গুনতে আইছেন? দেশ দুনিয়ার মানুষ হিসাব করতেছেন? আরে আপনার পরিবারে কয়টা মাথা কনতো! কী চারটা? পাঁচটা? আরেকবার হিসেব করুন। দেখুন তো আপনার বাপ ভাইয়ের মাথাটা বাদ পড়লো কিনা! অতি বাস্তবতায় বুঁদ থাকা ব্যাটারা বউ সন্তান ছাড়া কারো মাথা গুনতে পারেনা। আপনার দ্বারা বিপ্লব, বদল, সঙ্ঘবদ্ধতা? সম্ভব না ভাই।

ধৈর্য? কতদিন ধরছেন ভাই? কী, হিসাব নাই! হ্যা ভাই, এটাইতো ঠিক। আপনি জীবন পুড়িয়ে মানুষের কথা ভাবছেন, এখানে তো হিসাব থাকবোই না। শুধু মানুষের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যতদিন বাঁচবেন, ততদিনই সংগ্রাম করে যাবেন।

আপনি কী পাইলেন? না, আপনি কিচ্ছু পাননি। পাবেনও না! সত্যি বলতে কী, আপনি কী ডিমান্ড রাখেন? কী প্রত্যাশা আপনার? দেশ দুনিয়া যদি আপনার সংগ্রামের মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে, তবে তো সব মানুষ সুবোধ! সুবোধ সমাজের জন্য আপনি এতো ঘাম ঝরাচ্ছেন কেন?

আর যদি সমাজে সুবোধ না থাকে, তবে আপনি কারো কাছে কিছু, এমনকি সম্মান প্রাপ্তিও আশা করতে পারেন না। আদম হতে মুহাম্মদ (সঃ), সক্রেটিস হতে চে, গৌতম হতে  লালন তাঁরা কী প্রত্যাশা করেছিল?

দেখুন, আপনার চোখের সামনেই আদালত আড়াই হাজার বছর পরে সক্রেটিসকে নির্দোষ ঘোষণা করলো। এইতো গত কাল কিংবা পরশু বঙ্গবন্ধুকে ঢাবি তার ছাত্রত্ত্ব ফিরিয়ে দিলো।

সমস্ত সাজানো অপরাধ আর অপবাদ কাঁধে নিয়া তাঁরা একটা জিনিসই প্রত্যাশা করতেন, তা হলো দেশ দুনিয়া মানুষের মুক্তি। তাই না?

তাঁদের আক্ষেপ ছিলোনা, ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ছিলোনা। ছিলোনা, কারণ তাঁরা বন্দীদের জন্য লড়ছেন- কারাগারে, কাঁটাতারে, লোভে মোহে বন্দী মানুষ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু কী দিতে পারে?

ভাই, দমটা তো লাগবে। তেজ বিকাইলে চলবো? যতদিন দম টানতে পারবেন, ততদিন দম রাখবেন। দম না থাকলে আপনার সব কিছুতেই ভয়, দ্বিধা জাগবে। 

ঝিলাম নদীর তীরে পুরুর কথা আপনার মনে আছে? ব্যাটার দম ছিলো। স্বামীজীর কথা মনে করুন, ক্যামন দম! সেই সময় জাত ধর্ম নিয়া কথা কইতে লালনের দম লাগেনি? 

আপনি এইসব ঐতিহাসিক ঘটনা গুলা পৌরাণিক বইলা চালায়া দিয়েন না। ঐতিহাসিক সত্য, রিয়েলিটিকে নাটক ফটক বা ইমোশনালি আলাপ পাড়া ভাইবেন না। সবটাই রিয়েলিটি।

ইতিহাস তো থেমে যায়নি। ইতিহাস রচিত হচ্ছে। হতেই থাকবে। আপনার ইতিহাস। আপনি সিরাজ নাকি মীরজাফর? আপনার নাম আপনি নিজেই লিখবেন ইতিহাসের পাতায়।

ভূবন মুন্সী

Friday, August 21, 2020

মোহাম্মদ মমিনের কবিতা গুচ্ছ || ভোরের বিদ্রোহী ঠোঁট।

কবি চেয়ে দেখেন- ভালোবাসার অভাবে এখনো অপূর্ণ মানুষ কিংবা হিংসার খেয়ালে ইতিহাস আজ অনেক ছোট। কবি সেকেলে হয়ে ওঠা জাতীয়তাবাদের বাইরে গিয়ে খোঁজতে চেয়েছেন নিজেকে, পেতে চেয়েছেন নিজের ও সামগ্রিকতার মুক্তি। নিঃশ্বাসে আজ মৃত্যুর গন্ধ। তাই কবি দেবতার পায়ে চুমু, কৃষ্ণচূড়ার ঠোঁটে চুমো দিয়ে নিজের ইচ্ছাকে ব্যক্ত করেন; পেতে চান মুক্তি, শান্তি, ভালোবাসা।

উৎসর্গ    : ভূবন মুন্সী কে।
প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ    : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
স্বত্ব         : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি। 

 ভোরের বিদ্রোহী ঠোঁট

messenger of cosmology

 

সময়ের দাবি

আমাকে একটু শান্তি দাও,
দেবতার পায়ে চুমু, বলছি
আমাকে একটু শান্তি দাও।

নিঃশ্বাসে আজ মৃত্যুর গন্ধ।

অসভ্য সেই মানুষের মুখোশ
খুলে দাও তুমি
আমাকে একটু শান্তি দাও।

স্বপ্নের ঘরে ভগ্ন স্বপ্ন।

মেধা শূন্য মানচিত্র
ভেঙে দাও অচলতা
আমাকে একটু শান্তি দাও।

আকালে আজ জ্বলছে পৃথিবী,
আমাকে একটু জায়গা দাও।
দেবতার পায়ে চুমু, বলছি
আমাকে একটু শান্তি দাও।

জাতীয়তাবাদ

আজকের এই রজনীতে তুমি আমি একাকার
নবজন্ম হলো পৃথিবীর।

তবুও কি প্রয়োজন আছে
বর্ডার কিংবা কাটাতার?


আরও পড়ুন - একবিংশ শতাব্দীর দুই দশক 


২০২০

সময়ের কসম
পৃথিবী আজ অসহায়,
অসহায় আজ
যাঁরা প্রকৃত মানুষ।

রাজশ্রী

মাঝে মাঝে কলিজা পোড়ার গন্ধ পাই
সিগারেটের ধোঁয়া এখন অসহ্য লাগে

জেতার অভ্যাস ছেড়েছি সেই কবে
তাই হেরে যাবার ভয় তোমার নেই

মোহ আর মমতা জড়ানো আজ
জীবন কী কঠিন রাজশ্রী!

জাতক থেকে জন্মধাত্রী সবারই কলিজা
পুড়ছে আজ।
রাজশ্রী, তোমার কী কাজ?

আরও পড়ুন - সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

শুভ্রতা

ভোর বেলার বিদ্রোহী ঠোঁট
দুপুরের কড়া রোদে
সিগারেটের ধোঁয়ায় কালো
সমাপ্তি হলো জীবনের
এপাড় ওপাড়।
তবুও কি বাঁশি বাজবে
গাইবে গান পাখি নতুন সুরে
একাট্টা হয়ে সাজাবে সমাজ
পৃথিবী নতুন?
তুমি কী গাইবে ভোরের পাখি?

অভিন্ন ফটোগ্রাফ

চলোনা একে অপরের কান্না মুছে দেই
কৃষ্ণচুরার ঠোঁটে চুমো দিয়ে বলি
পৃথিবীটা আমাদের

চলোনা একই সুরে গাই গান
ভাঙা সীমান্ত প্রাচীরে মুক্ত করি পাখি
একতারাতে একতাল দেই দুজনার তর্জনীতে
দুটি তুলিতে আঁকি একটি ফটোগ্রাফ

চলোনা সামাজিক মানুষ হওয়ায় প্রত্যয়ে
কিছুটা পথ হাঁটি
দেখি আগামীটাকে একান্ত নিজের চোখে। 

আরও পড়ুন - বেকারত্ব ও পরিবর্তনীয় ভবিষ্যতের হাতছানি।

ভালোবাসা পেলে বেঁচে থাকি

পানি তুমি কোথায় একটু চোখে আসো
ভালোবাসা তুমি কোথায় একটু কাছে আসো।

ব্যক্তিক চাওয়া পাওয়ার কাছে
বৌদ্ধিক চোখ গুলো এই আকালে ঘুমিয়ে আছে
মানবতা বলে কিছু নেই, মর্যাদা বলে কিছু নেই

হিংসার খেয়ালে ইতিহাস আজ অনেক ছোট।

এক থেকে একাধিক ভাবাটাই ভুলে গেছি আমরা
বুকের খাপটা খুলে একবারও দেখিনা আজ
অথচ বুকের ক্ষত নিয়ে মাঝে মাঝে চমকে উঠি

চেয়ে দেখি

ভালোবাসার অভাবে এখনো অপূর্ণ মানুষ।

অগোছালো জীবন যাপন

দিন শেষে স্বার্থের লেজ আর বেহায়া
উন্মাদনা, আত্মহত্যার চেয়ে জঘন্য আমি বারবার
বেঁচে থাকি।
নিজের হাতে তুলে নিয়েছি ধ্বংসের মরচে পড়া অস্ত্র,
প্রতিনিয়ত মৃত্যু হয় আমার চেতনার অভাবে।

জাল্লাদি চোখে লালসার দৃষ্টি আঁচড় করে আমার গায়ে, সময়ের ব্যবধানে যুদ্ধে যাবার ছেলেটা হারিয়েছে
তার মনুষ্যত্ব।
নিজের কামনার দৃষ্টি মায়ের উপর, জন্মভুমি আজ অসহায়, অসহায় আজ কিছু নটির দালালের কাছে।

একাত্তর থেকে আজ-অব্দি পুরনো ঘেঁউ ঘেঁউ,
সন্ধ্যা হলে নেমে আসে অন্ধকার।
কোথায় পাবো মুক্তি, এই অগোছালো জীবন যাপনে
কে দেবে আমায় মুক্তি আমার?

 

আরও পড়ুন

ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ 

লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ 

মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ এ 

মেইল করুনঃ 

shimul2016.bsm@gmail.com

Monday, August 10, 2020

আজ বৃষ্টি হোক - আলী রীয়াজ।

 

কবির প্রত্যাশা আজ বৃষ্টি হোক। এই অস্থির সময়, কলঙ্ক কালিমা সব ধুয়ে যাক। পৃথিবীর গভীরতর অসুখে, পাথরের মতোন এই পাষাণ কালে – মমতার প্লাবন আসুক। নিপুণ কৌশলে, তুমুল তেজে সব কিছুকে পুড়িয়ে  শুদ্ধ করা যায়। সবই তো দাহ্য বস্তু। কে জ্বালাবে আগুন- এই প্রতীক্ষা শুধু। 

 

প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।

প্রকাশ    : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। 

                

   .            আজ বৃষ্টি হোক - আলী রীয়াজ

ali riaz sir

 

 
 

আজ বৃষ্টি হোক
 
আজ আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামুক, 
মাটি ফুঁড়ে উঠুক বৃক্ষের সম্ভাবনা, 
লতাগুল্মগুলো ধুয়ে মুছে সবুজ হয়ে তাকাক আকাশে; 
আজ আকাশ ভেঙে নামুক জলের ধারা| 
গ্রীষ্মের আগুন নিভিয়ে দিয়ে 
সন্তানহারা মায়ের অশ্রুধারার মতো 
মমতার প্লাবন আসুক,
আনন্দের ঝর্ণাধারার মতো নামুক বৃষ্টি; 
বৃষ্টি ধুয়ে দিক - 
জনপদ, অস্থির সময়, অনিশ্চিত দিনরাত্রি| 
আজ আকাশ ভেঙে নামুক করুণার ধারা| 
এই বৃষ্টিতে সবাই নামুক উঠোনে, পথে 
কলুষের কালিমা মুছুক 
মৃত্যুর ভীতি হোক অপসৃত
আলিঙ্গনে বদ্ধ হোক মানুষেরা| 
আজ আকাশ ভেঙে নামুক স্বপ্ন,
দুঃসময় দূর হোক
শিশুরা মাতুক কলহাস্যে 
কিশোরেরা জমে থাকা জলে ব্যস্ত হোক 
ক্রীড়ায়, কৌতুকে; 
সলজ্জ্ব তরুণী খুঁজুক প্রিয়জন,
তরুণের চোখের তারায় জ্বলুক স্বপ্নের রেখা, 
আজ আকাশ ভেঙে নামুক ভালোবাসার জলধারা, 
বৃষ্টি হোক - আজ বৃষ্টি হোক| 


২০ জুলাই ২০২০ খ্রিস্টাব্দ  

 
 
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে?
 
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে? 
আকাশ ভেঙে, বিস্তৃত জনপদকে ধুয়ে ফেলে 
এই যে শহর তার প্রতিটি ধুলোকণা স্পর্শ করে 
মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে যাচ্ছে এলোমেলো বৃষ্টির বাতাস| 
আমাদের যতটা কালিমা ছিল 
তার সবটুকু মুছে দিতে
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে?
ব্যস্ততার, জীবনের, জীবিকার অন্ধ বৃত্তে 
আমাদের হয়নি দেখা এই যে প্রকৃতি 
তার কাছে কতটুকু ঋণী, 
পৃথিবীর গভীর অসুখ যখন 
যখন আমরা সবাই একাকী, দূরত্বের কুহকে বন্দী 
তখন কি আকাশ ভেঙে নামছে জলের ধারা? 
এই যে  আকাশ আমি ভাগ করি সকলের সাথে 
নিঃশ্বাসে ভাগ করি আমাদের প্রাণ 
সেখানে যতটা কালিমা ছিলো 
হিংসা ছিল, বিদ্বেষের বিষ ছিল 
সবটুকু ধুয়ে যাবে? 
এই মৃত্যু-সময় কি ধুয়ে যাবে? 
একদিন, কোনো এক বৃষ্টি সকালে 
আমরাও হাতে হাত হেটে যাবো, 
তখনও বৃষ্টি হবে অপরিচিত কোনো জনপদে| 
অপত্য স্নেহে জননী আঁকড়ে ধরে শিশুর আঙ্গুল 
ফিরে যাবে তাঁদের শৈশবে|
আজ এই বৃষ্টি ধুয়ে দিক 
সব কিছু ধুয়ে দিক| 


২৮শে এপ্রিল ২০২০ খ্রিস্টাব্দ  

 
 
সব কিছু দাহ্য বস্তু 


সব কিছু দাহ্য বস্তু যদি জানো জ্বালাতে আগুন,
জলেও আগুন জ্বলে
অশ্রুতে বারুদ থাকে
পোড়াতে পারে রাজ সিংহাসন। 
 
বৃক্ষে-বৃক্ষে আলিঙ্গনে অকস্মাৎ পুড়ে যায় বন,
অগ্নিগিরি মাটি শুধু, পদতলে
যতক্ষণ লাভাস্রোত তাকে না দীর্ণ করে;
লাভার আগুন কাকে গ্রাহ্য করেছে?
একখানা বিস্মৃত দেশলাই তৈরি করে আগুনের 
লেলিহান শিখা;
 
সবকিছুই দাহ্য বস্তু, 
যদি কেউ জ্বালায় আগুন। 


১১ই অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ  

 

আরও পড়ুন -

শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ - লাল রঙ 

ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ - ইস্পাতের ঠোঁট

 

লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ 

মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ

ভূবন মুন্সী 

মেইলে পাঠাতে -

shimul2016.bsm@gmail.com

Sunday, August 9, 2020

ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ || ইস্পাতের ঠোঁট।

মেসেঞ্জার অব কসমোলজি থেকে ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ "ইস্পাতের ঠোঁট" প্রকাশিত হলো। আশাকরি পাঠকদের ভালো লাগবে। যখন চেয়ে দেখি একগলা নোংরা জলে ডোবে আছে মানচিত্র তোমার আমার, তখন প্রবল ঝাঁকুনিতে রাষ্ট্র ও তার পিঠে বসে থাকা মানুষদের জাগতে হয়, জাগাতে হয়, আর জাগতে ও জাগাতে সে প্রবল ঝাঁকুনির নামই 'ইস্পাতের ঠোঁট'। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখের খোয়াব ভাঙতে প্রবল ঝাঁকুনির নামই 'ইস্পাতের ঠোঁট'

প্রকাশনা : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ    : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
স্বত্ব         : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।


উৎসর্গ : পথশিশু ; যাদের মা বাংলাদেশ, রাষ্ট্র একান্ত অভিভাবক। মা বাকরুদ্ধ, উদাসীন অভিবাবকের তুমুল অবহেলা পেয়ে নষ্ট হয়ে গেলো তারা। একটি শিশুও নক্ষত্র হয়ে জ্বলে উঠলো না। অথচ জ্বলতো।

 

                 ইস্পাতের ঠোঁট - ভূবন মুন্সী 

messenger of cosmology

ভূবন মুন্সীর আরও লিখা

রাষ্ট্র তোমাকে বলছি

মাননীয় রাষ্ট্র মহোদয় তোমাকে বলছি
তুমি কান পেতে শোন
তোমার দুটি কান
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে শুনতে হবে দ্বিগুণ
তোমার বুকের স্লেটে হিজিবিজি অক্ষর
বাঁকাত্যাড়া অর্থহীন ব্যর্থ অক্ষর
আঁতুড় ঘর থেকেই তোমার শিশু
অবোধ হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে দোয়াড়
তারপর ঘুরছে গ্রাম গঞ্জ আর
শহর নগর।
রাষ্ট্র তুমি চোখ মেলে দেখো
তোমার দুটি চোখ
রোবটিক নয়, প্রাণজ দুটি চোখ – সরল
তোমাকে নিয়ে খেলছে কিছু লম্পট
দেখো ধর্ষিতা বোনের শরীর
কেমন কাতর
চেয়ে দেখো পাড় ভেঙে বেয়ে পড়া
থরো থরো কম্পিত ঘৃণার জল।
রাষ্ট্র তুমি কিছু একটা করো
পুরনোকে নষ্ট করো
গড়ো সৃষ্টির নতুন বলয়
তোমার দুটি হাত
বিকল নয়, অবিকল ঈশ্বরের হাত
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে করতে হবে দ্বিগুণ।
রাষ্ট্র তোমার একটি মাথা
প্লিজ, একটু উর্ধ্বে তোল
পাহাড়ের মতোন আসমান বরাবর
তুমি তর্জনীতে টোকা দিলেই
জমি হবে উর্বর
থমকে যাওয়া মেঘের বর্ষণে।
রাষ্ট্র মহোদয়  তুমি হাঁটো
তোমার দুটি পা
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে হাঁটতে হবে দ্বিগুণ
প্রত্যেক জনপদে
তোমার পায়ের ছাপ
বদলের স্বাক্ষর হয়ে জেগে থাক রাত দিন।
রাষ্ট্র তোমার একটি বুক
কাকে ঠাঁই দেবে
প্রেমিক নাকি লম্পট?
মাননীয় রাষ্ট্র তোমার একটি মুখ
মুখ্যত তুমি বলবে কম
যদি বুকের জমিনে জেগে থাকে আবাদী প্রেম বাগান
এইতো সময়
স্পষ্ট করে বলো – দূর হ লম্পট।

সোনামুখী হাঙ্গর

সোনা খাও সোনামুখী,
টনকে টন কয়লা আর গুপ্তধন
রাস্তার বিটুমিন, ইট - পাথর
তুমি সবটা গিলে নাও সোনামুখী হাঙ্গর।

লিমনের খোঁজ নেই-
তার পা টা খাও,
ফেলানীর রক্তমাখা শরীর,
রিজার্ভের টাকা, পদ্মার পাইলস, রানা প্লাজার পিলার,
বসুন্ধরার আগুনে পুড়ে পুড়ে খাও।

কলম খাও; পত্রিকার পাতা আর সাংবাদিক।
সাগর-রুনি তোমাদের কে খেয়েছে গিলে?
ইলিয়াসের এখন কী খবর?
আজ হাজার ফেলানী বলে- বাবা দেশটা কার?

এত এত অফিসার! শাকিলের ছিন্ন ভিন্ন লাশ,
কে যেন খেয়ে গেছে রক্ত চুষে।
উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে,
কার কী অপরাধ, কোথায় বিচার?
সব নথি গিলে নিলো সোনামুখী হাঙ্গর।

ট্রেন গুলো এত অসহায়!
বৃদ্ধার মতো ঠেকে ঠেকে পথ হাঁটে,
সব চাকরি কি নিয়ে গেছে উড়ন্ত গাঙচিলে!
ওরা এত বেকার কেন?

হলমার্ক এর পিছনে কোন্ হুলুটা ছিলো?
কী লাভ, কে পেলো লাভের অধিকার?
হলি আর্টিজান এর যুবকটি চিৎকার করে বলে-
দেশটা কার?

ভোট তো গিলে খেয়েছো কবেই,
খেয়েছো স্বস্থির সবুজ ঘাস,
অস্থির করেছো নিরাপত্তার ঘর,
বুকের ভিতর বুলেট নিয়ে একরামুল কেঁদে বলে-
এবার শান্ত হও সোনামুখী হাঙ্গর।

সমরেশ বিএসসি

যে কথা বলার ছিলো
শুরু করার পূর্বেই ঝরে গেছে সে কথার ফুল;
ব্যর্থ বকুল।

অনুচ্চারিত অক্ষর
অনুজের মতোন বায়না ধরেছিলো;
তাকে যেন পাঠ করি সুধী সমাবেশে।

মিছিল চেয়েছিলো
সমাবেশ থেকে সে মার্চ করবে বৃক্ষ তলায়;
কৃষ্ণচুড়ার ঝরা পাপড়ি যেখানে বিছিয়ে দিয়েছে
রেড কার্পেট।

বেকার বি.এস.সি
রাষ্ট্রের কাছে ঘর চেয়েছিলো,
চেয়েছিলো অষ্টাদশী বউ।
ভেবেছিলো তার দাবী পেশ করবে কেউ,
কোন একজন সুধী।

স্বার্থের ক্যাওয়াজে স্থগিত হয়েছে আহুত সমাবেশ।

একা পথে প্রতিবাদে আজ নিহত সমরেশ!

বস্তি পাড়ার মাইক

ছিনাল সময়, দিকে দিকে বেহায়াপনা, খানকীর দুনিয়া!
পতিত পৃথিবীতে,মাগীদের ভীড় ঠেলে, মদের দোকান-
পাশ কেটে দেশে যেতে চাই- বৃক্ষের নিচে, মাটির বিছনায়;
গায়ে লেগে যায় মদের গন্ধ, শৃঙ্গার রস, টাটানো বীর্য-
এখানে সেখানে।
জন্মের পরে যাদেরকে জেনেছি মানুষ- মানুষ আজ
কথা বলে পশুর ভাষায়।
ইশারা পাই-
কিছু মানুষ শকুনের মতোন
কিছু শিয়াল কুকুর হাঙর
কেউ বিধাতার বরে অসুরের মতোন, কেউ বা
বিষধর সাপ, কেউ চতুর স্রষ্টার অভিশপ্ত জীব।
জন্মান্তরে মানুষ হয়তো প্রাণি হয়ে ফিরে- কিছু কিছু প্রাণিতে
কিঞ্চিত মানুষের সাঁজ; আবার প্রাণিরা মানুষ হয়ে ফিরে,
ফিরে আসে পালক ফেলে, দন্ত নখ আর লেজ কেটে; তবু
আমরা জেনে ফেলি- আমরা বলি-
শালা বানচোৎ এক মস্ত হায়েনা, বিরাট হাঙর,
চতুর শিয়াল আর বাদ বাকি
সব শালা জোকার বানর, নিরীহ বিড়াল।
পৃথিবীর আবর্তনের মতোন নাপাক ফিরে ফিরে আসে
ঘিরে রাখে আমাদের কুগন্ধ বায়ু
ঘিরে রাখে আমাদের খুন-হত্যা-গুম, নিষিদ্ধ প্রণয়
ঘিরে রাখে ব্যক্তিক লকারে সম্পদ সঞ্চয়ের প্রচন্ড অন্যায়।
ছাই চাপা, গোবর চাপা এক মাটির প্রদীপ সন্তান প্রসবের
মতোন কাঁটা কাঁটা কষ্ট নিয়ে, কচ্ছপের মতোন
মাথা উঁচিয়ে সূর্য হতে চায়;
যদি কেটে যায় পাপের কাল,
কেটে যায় অন্ধকার, বাতাসের বুক থেকে মদ, বীর্যের গন্ধ।
নটিরা হাসে, খিল খিলিয়ে হেসে ওঠে বেহায়া সময়!
জানি তবু, অন্ধকার ধ্রুপদী নয়।
বসুমতী, কবে তুই পোয়াতী হবি? কবে?
এক দেশ মানুষ দে।

টেলিভিশন

এই কি তবে ছিনালপনা!
আজ আমি নির্বিচারে সয়ে যাই,
বৃক্ষের মতো, জল-মাটি-কাদার মতো
মিসরীয় দাসের মতো ঘাড় নামিয়ে
নিশ্চুপ নির্বিচারে সয়ে যাই,
পাড়ারের মতো কুম্ভক করে বসে থাকি
আগত সকল অনাচারে।
আমি ভুলে যাই জন্ম ও জননীর কথা
পূর্বজ পিতার কথা; অথচ
তীব্র শীত,হায়েনার হিংস্রতা আর অরণ্যের অন্ধকার আমি মাড়িয়ে এসেছি,
ইবলিসীয় তীর-তরবারী আর সামন্তের হুংকার ও জিঞ্জির ছিন্ন করে এসেছি,
সহস্র ব্যর্থ প্রত্যয়ের পরও আগুন জ্বালিয়েছি সরু গুহার কঠিন অন্ধকারে-
বৈদ্যুতিক প্রদীপে রাতকে করেছি দিনের মতো সমুজ্জ্বল, সাগর জলের বুক
চিড়ে চষে বেড়িয়েছি আমার আস্ত পৃথিবী, বুকের পাঁজরকে কুঠার করে
ছিন্ন করেছি শত্রুর মস্তক, অযাচিত আগুন্তক তাড়িয়ে, কুরুক্ষেত্র-কারবালা
পেরিয়ে উড্ডীন করেছি ন্যায়ের শুভ্র নিশান।
তবু অন্ধকার আপাং কাঁটা হয়ে সেঁটে থাকে
তবু মিথ্যা মস্তকে তাজ হয়ে উর্বর জ্বলে
তবু জাহেলিয়াত জারি থাকে এখানে সেখানে
আর আমিও নাক্ষত্রিক প্রত্যয়ে
বায়ান্ন থেকে একাত্তর পেরিয়ে
তখনও তরুন
সদ্য স্বাধীন।
কিন্তু আজকের এই ভিন্ন কালে নতুন আকালে আজন্ম দাসী পুত্রের মতো
আমি নির্বিকার, বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকা আমার নয়া অভ্যাস,
এ কেমন বেহায়াপনা!
কেন আজ আমি দাসানুদাস?

চকবাজারের কন্ঠে আগুন

গোপন ভিলেনের মতো লুকিয়ে ছিলো
তারপর ঠা ঠা হাসিতে হঠাৎ আত্মপ্রকাশ
ওর ঠোঁটে মৃত্যু ছিলো
আগুন ঠোঁটে কেড়ে নিলো জন্ম এখন,
একাশি হয়েও অমীমাংসিত
সংখ্যার প্রকৃত হিসাব হয়তো জানবেনা কেউ।

দ্রষ্টব্যঃ যথারীতি উড়ে এলো
ফায়ার সার্ভিস- আগুনে জল সেচার কাজে,
সিআইডি- তদন্তের কাজে,
ক্যামেরা- লাইভ টেলিকাস্ট হবে,
জানিয়ে দেবে সব, কিন্তু
এটা মৃত্যু নাকি মার্ডার?
মৃত্যু কি এতই সহজ!
কে ঢেলে দিলো এত সহজ মৃত্যু?
অভাগা দেশ হয়তো জানবে একদিন।

এদেশে মৃত্যু ও মার্ডারে শোকের প্রকাশ
স্যরি বলার মতোই মামুলি ব্যাপার,
দেখুন, চকবাজারের দিকে ধেয়ে আসছে
শোক শব্দমালা।

দুই বর্ণের শোক
তুমি কি মৃত্যুকে ঠেকাতে পারো,
পারো কি মুছে দিতে বিয়োগ ব্যাথা?
ওরা কি আসবে,
আবার ঠোঁট রাখবে কি প্রিয় ঠোঁটে?
ওরা কি জাগবে?

হে মৃত, তোমরা জেগে ওঠ-
রাষ্ট্রীক শোক এসে গেছে,
দল, বিরোধীদলের শোক ডাকছে,
সুশীলদের কোমল কন্ঠ শোক
ঘুর ঘুর করছে তোমাদের পাশে,
মানবাধিকার, দুদকের শোক
দেশীয় মাতব্বর আর বাণিজ্যিক নাগরের শোক
ডাকছে তোমাদের।

ওরা জাগছেনা
ওরা জাগবেনা
তোমাদের লাম্পট্যে ওদের আস্থা হারিয়ে গেছে;
তোমরা চুরি করো ব্যালট ও ভোট
দাও মিথ্যে আশ্বাস
কেড়ে নাও শস্য ও শ্রম, প্রয়োজনে
একদিন একমাত্র জনম।

কোথা হতে আসে
কেন বারবার আসে বেহায়া আগুন
কেন জন্ম মরে যায় আগুনে পুড়ে!

নিমতলী থেকে চকবাজার
এত এত মৃত্যুর দায় কে নেবে?
দ্বায়িত্বে কে ছিলো
লাইফ সেফের দ্বায়িত্ব কার
তোমার নাকি আমার?
               

অপহরণ

এটা এক উদ্ভট গল্প!
রংহীন অদৃশ্য বাজপাখি
অথবা রকমারি রংধারী গিরগিটির মতোন
বহুরূপী বাজ
চঞ্চু ও নোখে ছু মেরে
পালকের তলে লুকিয়ে রাখে সূর্য সকাল
তারপর হাওয়া!
তন্ন তন্ন  করে তালাশে ফিরে
পরিচিত তস্করের ঘর
প্রহর দশ পেরিয়ে গেলে
মাকালিক সরকারের নিপুণ কৌশলে
উদ্ধার!
বুড়িগঙ্গার পাড়ে
পড়ে আছে মৃত সূর্য সকাল;
সূর্যের আধবোঝা চোখ
সকালের গলাতে ছুরির আঘাত!
এটা এক উদ্ভট গল্প!
প্রত্যাহ খুন হয় সূর্য সকাল
মৌলিক তস্কর হাওয়া!
আমরা তো জেনে গেছি,
খুনীকে বাঁচিয়ে রাখে তক্তের ছায়া।

ভেসে আসা শব্দবীজ

আমি সুবর্ণচর থেকে বলছি
ডাকনাম মাটি
মানচিত্রও বলতে পারো
আভিধানিক অর্থে বাংলাদেশ।
আমার কথা যারা শুনছো
তোমরা যারা শুনছোনা
সকলের চরিত্র নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
সন্দেহ চারিত্রিক সনদ নিয়ে
চারিত্রিক সনদে স্বাক্ষর করেছে যে প্রথম শ্রেণীর অফিসার
তার চরিত্র নিয়েও সন্দেহ আছে।
প্রথম শ্রেণীর অফিসার পড়েছে পাঠশালায়
পাঠদান করেছে যে শিক্ষক
সম্পৃক্ত যতো আমলা-কামলা, মন্ত্রী-মেম্বার, অফিসার ও কেরানী
সকলের চরিত্র নিয়ে সংশয়-দ্বিধা-সন্দেহ
বৈধতার লাইসেন্সধারী সতেরোকোটি
নাগরিকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন আজ
সত্যিই কি ওরা বৈধ?
নাকি অবৈধ গর্ভঘরে কোলে পিঠে বড়ো হয়ে
নষ্ট কাল নিরিখে
ন্যাংটো হয়েও সভ্য নায়ক!
সন্দেহ-দ্বিধা-সংশয়!
শংকা-ভয়-ত্রাসে
ধর্ষন-গন ধর্ষন- ভয়ংকর সন্ত্রাসে
কন্ঠের কথা কেঁপে কেঁপে উঠে।
কতগুলো গন্ডার
কতজন লম্পট
কয়টি শুয়োরের বাচ্চা জন্ম নিলো সাতচল্লিশ বছরে?
জানি, পরিসংখ্যান নেই তোমাদের।
দেশের বুকে কতজন সুবোধ আছে
তোমাদের জানা নেই মূর্খের দল!
কথিত উন্নয়নের পৃষ্ঠাজুড়ে তোমাদের চোখ
লেখচিত্রে, সূচক রেখা আর রকমারি পাইচিত্রে।
দিবসের মেকি উৎসবে তোমাদের মন।
অথচ আমি আজও শুনতে পাই
পরাধীনতার শব্দ
শুয়োর, গন্ডার, বন্য প্রাণীদের দেখি
অবাধ বিচরন
দেখি নটির মতোন খিল খিল করে হাসছে
হায়েনার হিংস্র দাঁত।
তোমরা যারা বধির
অন্ধ যারা
যারা বিশ্বাসঘাতক বেহায়ার সন্তান
কিছুই দেখোনা
শুনতে পাওনা কিছুই।
অথচ মানুষের চোখে যদি দেখতে সে
বীভৎস দৃশ্য
যদি মানুষের কানে শুনতে সে
আর্তনাদ
মরে যেতে চাইতে সবাই।
কিন্তু, তোমরাতো মৃত।

 
মৌলিক পতন

আমি আজও পতনের শব্দ শুনি
বিকট শব্দ, একদম ঊষর ;
গাঁজাতে যাদের চোখ ঢুলুঢুলু
যারা স্বার্থের সিসাতে ভরে নিয়েছে শব্দ পথ
তারা শুনছেনা।
শোনা যাচ্ছে পতনের মৌলিক ধ্বনি,
সুধী বৃন্দ, আপনারা কেউ কী শুনছেন?
সুশীল সমাজ তুমুল তর্কে মগ্ন আছে
গোলটেবিলে উত্তেজিত থাপ্পরের শব্দ;
তারা শুনছেনা।
জাতীয় সংসদে দারুণ শব্দ
হ্যা বলুন, হ্যা বলুন, হ্যা বলুন;
হ্যা শব্দে তলিয়ে গেছে পতনের ধ্বনি;
তারা শুনছেনা।
ডাক্তারের আরদে রুগীর মিছিল
সিফিলিস গনোরিয়া সাইক্রেটিয়া করোনা;
রুগ্নরা শুনেনা কিছু।
ডাক্তার ও শিক্ষক মৌলিক ব্যবসায়ী আজ
বেনিয়া বাজার চেনে, পতনের শব্দ শুনেনা।
ডিজিটাল ক্যামারা বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে আছে
সামনে উখিয়া ক্যাম্প – মানবতা
সামনে ব-সাগর – সমুদ্র জয়
ক্যামারার পিছনে সুবর্ণচর – ধর্ষণ
সম্মুখ দরোজাতে খিল এঁটেছে স্বার্থের চোখ
পশ্চাৎগামী দরোজাই খোলা। কে ফেরাবে পতন?
ভয়ে কম্পিত বাংলাদেশের বুক।


আরও পড়ুন -

এম ইকবালের কবিতা গুচ্ছ - ভালোবাসাহীন মানচিত্র

 
শামীম রেজার কবিতা গুচ্ছ - যে পথে আলো আসে 

 
নব শওকতের কবিতা গুচ্ছ - ক্রুশবিদ্ধ কবি 

 
শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ - লাল রঙ|রেড সিগনাল 

 
মুরশীদ সেলিনের কবিতা গুচ্ছ - পরস্পরের ইতিবৃত্ত 

 
যারিন তাসনীমের কবিতা গুচ্ছ - ইশক

লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ

মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
মোঃ শামীম রেজা
মোঃ মাসুদ মিয়া
রিয়া মাইতি
ভূবন মুন্সী

মেইল করুনঃ

shimul2016.bsm@gmail.com
mdmominali.bsm@gmail.com

কবি মুরশীদ সেলিনের কবিতা গুচ্ছ || পরস্পরের ইতিবৃত্ত।

কবি মুরশীদ সেলিন বর্তমান দেশ দুনিয়াকে দেখতে চেয়েছেন তাঁর কবিতায়। তিনি খোঁজতে চেষ্টা করেছেন বহমান সংস্কৃতি, জীবন যাপন। শহর ও গ্রাম, প্রকৃতি ও পরিবেশ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধে বারবার ফিরে আসে। নিচের "পরস্পরের ইতিবৃত্ত" কবিতা গুচ্ছেও তিনি সমাজের নষ্টকে খোঁচা দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখেছেন নতুন প্রভাতের।

প্রকাশনা : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ    : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎস্বর্গ    : 'মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক' কে।

 

              পরস্পরের ইতিবৃত্ত - মুরশীদ সেলিন

picture lovers
 



এখানে জীবন


এখানে জীবন ফুটপাতহীন রাজপথে হেঁটে চলা,
মিথ্যের পাশে মিথ্যে বসিয়ে সত্যের মত বলা।

এখানে জীবন আনাচে কানাচে মরে পরে থাকা লাশ,
বাঁচার আশায় প্রতি দমে দমে দূষনের হাসফাস।

এখানে জীবন বিত্ত বিলাসে বেড়ে ওঠা যত লোভ,
অসহায় শত বঞ্চিত মনে তিলে তিলে জমা ক্ষোভ।

এখানে জীবন সব মেনে নিয়ে মুখ বুজে বসে থাকা,
সাদাকালো রঙে নিত্য নতুন রঙ্গীন স্বপ্ন আঁকা।

এখানে জীবন রবি, নজরুল, লালনের গান শোনা,
কল্পিত কোন মহানায়কের পথ চেয়ে দিন গোনা।

ইতিবৃত্ত

আমরা চিরকাল উলঙ্গ থাকবো না,
একদিন আমাদের পরনে চুড়িদার পায়জামা হবে,
গায়ে শোভা পাবে রেশমি গরদের পাঞ্জাবী,
কারুকার্য খচিত কলাপুরী চটি পায়ে
আমরা রাজপথে হেঁটে যাবো
নতুন কোন প্রভাতফেরীর গানে সুর মিলিয়ে।
শুধু একপাল বৃদ্ধ কুকুরের লেজের দোলাচল,
গুপ্তাঙ্গের অবিন্যস্ত সফেদ কেশরাশি,
আর লকলকে জিভে ফোটা ফোটা রস
কালের সাক্ষ্য দিতে ইতিহাস হবে।
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে বলে যাবে
উলঙ্গ যুগে অশ্লীল নৃত্যের ইতিবৃত্ত।

এই শহরে

আমি থাকব না ভাই এই শহরে থাকব না,
ম্যানহোলের ঐ ঢাকনা ছাড়া ফুটপাতে আর হাঁটবো না।

হেথায়,
সকাল বেলায় পাখির গানের নেইকো কোরাস,
যন্ত্র দানব পিষ্ট করে নতুন বধু,
রক্ত ধারায় ঝরছে সকল জীবন মধু,
রুক্ষ হাতে পড়ছে তালি চড়াস চড়াস।

নাক দিয়ে যায় কয়লা গুড়ো,
বক্ষে আমার যক্ষ্মা ধরায় ময়লা বাতাস,
আবর্জনার গন্ধে সবাই দারুণ হতাশ,
অল্প দিনেই হচ্ছি বুড়ো।

ভণ্ড সকল মিছিল মিটিং,
মুক্ত মনের নেইকো প্রকাশ,
শুধুই বাহাস, ঘৃণার বিকাশ,
রাজনীতিতে চলছে চিটিং।

অন্ধ গলির অনাথ শিশু,
বন্দি সবাই,
লোড শেডিং এ অন্ধ সবাই,
হচ্ছে জবাই
বুদ্ধ ও রাম, মুস্তফা আর যীশু।

থাকব না ভাই এই শহরে থাকব না,
এই শহরকে আর এমন করে রাখবো না।

এক তুড়িতে উড়িয়ে দেব বন্দি আকাশ,
পুড়িয়ে দেব মুখোশ গুলো,
সরিয়ে দেব চোখের ধুলো,
মুক্ত স্বাধীন মনের হবে বহিঃপ্রকাশ।

পরস্পর

তোমরা কেউ ভালবাসা ভেবে ভুল করোনা,
আসলে সব দেনা পাওনার খেলা।
পৃথিবীটা এক বিরাট হাটবাজার,
এখানে শুধুই বিকিকিনির মেলা।

এখানে সবাই ক্রেতা,
এখানে সবাই পণ্য,
সভ্যতা সেতো মেকী,
আসলে সবাই বন্য।

তোমরা কেউ দুঃখ ভেবে ভুল করোনা,
আসলে সব সুখের মূল্য পরিশোধ।
অল্প অধিক সবাই বিত্তবান,
মূলধন শুধু জীবনের মূল্যবোধ।

এখানে সবাই দুঃখী,
এখানে সবাই সুখী,
হাসি কান্নার ছলে,
প্রাণেপ্রাণে মাখামাখি।

ভালবাসা আর দুঃখ পাবার ছলে,
অসীমের পানে ছুটে চলা,
প্রতিদিন, প্রতিক্ষন, প্রতিপলে।

শিরোনামহীন

পুষ্প সুশোভিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চে
ক্ষয় রোগাক্রান্ত বিগতযৌবনা শিল্পী
বেসুরো গান ধরে।

অন্তরা আর সঞ্চারী জুড়ে খুশখুশে কাশি,
তবলায় তাল নেই,
হারমোনিয়ামে হাওয়া নেই,
ঝংকার নেই সেতারের তারে।

মুদিত নয়নে বেতালের মুগ্ধতা নিয়ে
বিদগ্ধ শ্রোতা মাথা নাড়ে হেলে দুলে,
যেন রাতের আধার শেষে
কোনদিন আসবে না ভোর।

উল্লাস নাচানাচি, মুহুর্মুহু করতালি
বাজখাঁই গলা ছেড়ে
সমস্বরে সীৎকারে,
ওয়ান মোর, ওয়ান মোর, ওয়ান মোর।

 

আরও পড়ুন  

 এম ইকবালের কবিতা গুচ্ছ 

শামীম রেজার কবিতা গুচ্ছ 

শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ 

নব শওকতের কবিতা গুচ্ছ


Monday, August 3, 2020

কবি যারিন তাসনীম এর কবিতা গুচ্ছ - ইশক

কবি যারিন তাসনীম প্রচলিত অচলতা ভেঙে প্রেমের চিরায়ত স্বরূপ অন্বেষণ করেছেন। প্রত্যেকটি কবিতাই জীবনের গভীরতর উপলব্ধিতে নির্মিত। প্রশ্ন গুলো যেন ভাসমান প্রেমিক কে এক ধাক্কায় প্রেমের সাম্পান থেকে ফেলে দেয় নিম্নতম স্তরে। কবি ইশকের গভীর সমুদ্র হাতড়ে তুলে এনেছেন - ইশক।

প্রকাশক: মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ   : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎসর্গ  : পৃথিবীর সমস্ত প্রেমিকদের।

   কবি যারিন তাসনীম এর কবিতা গুচ্ছ - ইশক
কবি যেরিন তাসনিম




প্রেমিক

গুটিকয়েক বসন্ত পেরিয়ে,
অম্লান বদনে,যেই তোমার দরজায় কড়া নেড়ে ছিলাম,
অমনি তোমার উড়ো প্রশ্নের আঘাত,
ক্ষুরের মত হৃদয় ছিন্নভিন্ন করেছিলো।
অবশ্য তা আমি বুঝতে দেয়নি,
হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম,
এই আশায়,হয়তো দীর্ঘদিন পরে দেখা হবার
আনন্দে বুকে টেনে নিবে !
কিন্তু তুমি তো
বুক পকেট থেকে টুপ করে ৫ টাকার আধুলি দিয়ে বলেছিলে
বিদেয় হওতো বাপু ।
তবে এমন তো কথা ছিল না,
তুমি তো প্রেমিক, শত শত জনম পেরিয়ে,,,
তোমার দ্বারে যে রুপেই দাড়ায় না কেনো?
তোমার তো এক পলকে চিনে নেবার কথা,,
তাহলে কি, আমার জানা প্রেমিকের সংজ্ঞাটা ভুল ছিল?

 শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ

এখানে ক্লিক করুন 

অপেক্ষা

তোমাকে যে বহুবার ছুঁয়েছি, এমন কিন্তু নয়, তবুও
আমার পিপাসিত আত্মা ঘুরে ফিরে শুধু তোমাকেই
খোঁজে,
এই খোঁজ অনন্তকাল ধরে চলছে,এ যেন মহা সমুদ্র
ছেঁচে গভীর থেকে এক অদৃশ্য খাজনার বাক্স খোঁজার
মত,
কত শত বছর পেরিয়ে কত সহস্র প্রেমিকের ওষ্ঠাদেশ ছুঁয়েও মেলেনি সেই পিপাসা মেটানোর উৎস
হাজারো রজনী স্বার্থবাদী প্রেমিকের বাহুডোরে কাটানোর পরে মনে হলো, উফফ তুমি হীন তৃষ্ণার্ত জীবন আর কত জন্মে আমি পাবো?

তুমি জানো বিছানার পর বিছানা পাল্টেছি,,সঙ্গী ও পাল্টে দেখেছি, তোমাকে পাওয়া যায় কিনা,?
নাহ আমি প্রতিবারই হতাশ বদনে উল্টো রথের বৃষ্টি বিলাস করেছি,

আর আশায় বুক বেঁধেছি এবার না হলেও ফের পরের রথে আমার জগন্নাথ ঠিক আসবে।


রহস্য

আমিই সকল ক্লান্তি তোমার
আবার শরীরজুড়ে  শান্তি,
ঠোঁটের কোণে হাসির কারণ
মিছে মায়ার ভুল-ভ্রান্তি
আমিই তোমার দেহ-তরী
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছি
যন্ত্রণা হয়ে হৃদয়ে ঢুকে
সুখের মলম লাগিয়ে রাখি
আমিই তোমার বুকের ব্যামো
পথ্য রুপে আমিই আছি
দেহের মাঝে রুহ আমি,
দুরে থেকেও কাছে থাকি,
আমিই তোমার রাগ হয়ে
অভিমানে প্রেম ছড়ায়
আমি তোমার ঘৃণা হয়ে 
 লোভের ভেলা ভাসায়
আমিই তো দুঃখের কারণ
 তোমার  সুখের প্রলোভন
জীবন নামের মায়া নদীতে
বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ
বন্ধুর পথে চলার সাহস
আমিই তোমার আশা,শেষ ভরসা বটেও
আমি পুণ্য,আমিই পাপ
অভিশাপ ও আমি,
আমিই তোমার আশীর্বাদ
আমি কর্ম,আমিই ফল
চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল,
ভোরের সূর্য, পাখির ডাক,নির্মল হাওয়া,
দুপুর বেলা প্রখর তাপে অস্থিরতা
দুপুর গড়িয়ে বিকেল যেনো স্বস্তির হাতছানি,
গোধূলি লগ্নে সূর্য্যি ডোবার বিদায় বেলাও আমি,
নদীর টলমল জল,নৌকো ভরা জেলের দল,
নদীর মাছ,পেটের ক্ষুধা
ক্ষুধা মেটানোর রাস্তা যে সব,
ঘুর্ণিঝড়ে উথাল পাথাল ঢেউ 
উদাস দুপুরের ঘরহীনের হাহাকার
শেষ বিকেলে বটের ছায়ায় আশ্রয়
বড্ড অট্টালিকায় উঠে মুখ ফিরিয়ে রই,
আমি পাহাড়, আমি ফসল,
আমিই ধ্বংস, আবার আমিই সৃষ্টি
আমি প্রেম, আমিই প্রেমিক,
আমিই চিরকাল বিপ্লবী
আবার আমিই রক্ষণশীল,
একদিকে আমি গড়ি,অন্য দিকে নষ্ট করি,
আমি তোমার অস্তিত্ব , তোমার অনুভুতি
আমি  যন্ত্রণা দানকারী,
সেই আমিই তো উপশমকারী,
আমি উপকারী হয়ে উপকার করি,
আমিই সব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করি,
আবার আমিই মহা দানবীর,
তোমাকে জ্বালায় আমি,আবার আমি নিজেও জ্বলি,
পঞ্চমী তে করি প্রেম নিবেদন
ষষ্ঠী তে তার বোধন,
সপ্তমী তে যায় ছেড়ে
আমিই এসে অষ্টমী তে ধরি হাত,
নবমী তে ঘুরবো বলে
দশমি তে যায় বিসর্জন
আবার আমি লক্ষ্মী হয়ে আসি ফিরে
কখনও বা সরস্বতী
কলিযুগের রাধা আমি
কলির কেষ্ট সেও আমি,
তোমার বুকে আমারই তো বসবাস,
রক্ত হয়ে শিরায় উপশিরা চলাচল,
আমিই তোমার মুখের বুলি,
প্রতিবাদী আন্দোলন
রাজপথে লাশের মিছিলে,মানবতার আত্মহনন
আমিই তাল সুর ছন্দ মিলিয়ে
দেয় তোমায় আনন্দ
আমিই অনুভূতি হয়ে কবিতায় পাই ঠাঁই,
আমি শিল্পী, আমি আঁকি জীবনের সব চিত্র
অভিনয়ে মাতিয়ে রাখি মর্ত,
আমিই করি ভেদাভেদ, আবার বুক ফুলিয়ে বলি আনো সমতা,
আমি ধর্ম, ধর্মের নিয়মে অধর্ম দেখে বিস্মিত হয়ে বলি
আমার সৃষ্টি কত বোকা???
আমি বহুরূপী, আমি শুধু ধরা দেয় প্রেমিকের চোখে,
আমি থাকি তোমাদের মাঝেই,
কেনো খোঁজ দিগ্বিদিকে??

জীবন

পূর্নিমার আলোয় চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে রুপন্তির অভিকের কথা মনে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর খুনসুটি আজও ওর একাকিত্বের সঙ্গী।
ঠিক সে সময় প্রত্যয় এসে বললো, মাম্মা মাম্মা পাত্তা পাত্তা(পাস্তা,পাস্তা) খাবো,
আচ্ছা মামনি চলো বানিয়ে দিচ্ছি,
যে মেয়েটা কখন রান্নাঘরে পা রাখেনি,কখনও ইচ্ছে করেও চুলার ধারে যায়নি,আজ তাকে সব করতে হচ্ছে,
চুন থেকে পান খসলেয় মহাবিপদ, রুপন্তিও সব যেনো মিষ্টি হাসি দিয়ে মেনে নিতে শিখেছে।
যে মেয়েটা ওজন বেড়ে যাবে তা জেনেও খাওয়াতে কখনও ধ্যান দেয়নি,
আজ সেই মেয়েকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কোমড়ের ভাজ টা ঠিক আছে কিনা দেখতে হয়,কারণ ওখানে যদি চর্বিরা বাসা বাঁধে তাহলে স্বামীর কটুক্তির থেকে বাঁচা মুশকিল,
আজ মেকাপ করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়,
কিন্তু এইতো সেদিনের কথা পড়াশোনার চাপে কালো দাগ পড়া চোখ নিয়েও অভিকের সামনে দাঁড়ালে অভিকের কাছে মা দুর্গার চেয়ে কম কিছু মনে হত না,

আচ্ছা ভালবাসা আর সুখ টা একসাথে কেনো থাকতে পারেনা??
সবাই জানে রুপন্তি খুব সুখে আছে,স্বামীর মোটা টাকার মাইনে হাতে নিয়ে থাকে, আগের চেয়ে সুন্দরী হয়েছে, মেয়ে স্বামী নিয়ে সুখে ঘর করছে,

কিন্তু রুপন্তির মনের খবর কেউ রাখছেনা, অভিকের মত তার স্বামী তার শরীর খারাপ নিয়ে উতলা হয়না,
ওসব নাকি ঢং, এই তো বিয়ের আগের কথা সামান্য ব্যাথা হলেও, অভিক কত উতলা হত, বারবার জানতে চাইতো এখন কেমন আছো, ব্যাথা কমেছে, ওষুধ খেয়েছো,
আর যদি কোন রকমে জানতে পারতো অনিয়মের জন্য ব্যাথা বেড়েছে, তাহলেই মুখ ফুলিয়ে আরও অনিয়ম করতে বলতো,

সেই অভিমান টাও কত যে ভালো লাগতো রুপন্তির, ভালবাসার মানুষ টা এত ভালবাসে যে অন্য কারোর কাছ থেকে সামান্য অবহেলাও সহ্য হয়না।

সারাজীবন যখন পাশে থাকার অনুমতি দাওনি ঠাকুর, তাইলে ভালবাসার জন্য অনুমতি কেনো দিলে, আজ অন্তত সংসার টা নিয়ম করে করতে পারতাম।

এই সব প্রশ্নই রুপন্তির মনে ঘোরপাক খেতে থাকে,
বিয়ের পর রুপন্তির স্বামী বলেই দিয়েছিল, লেখাপড়া করেছো ভালো কথা,চাকরি -বাকরি করা চলবেনা।
আমাদের পরিবারের মেয়ে বউরা চাকরি করেনা,
রুপন্তিও মাথা নিচু করে মেনে নিয়েছিল
কারণ ও জানতো যেদিন ও নিজের হাতে ওর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন গলা টিপে হত্যা করেছিল,

স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক শুধু মাত্র রাতে বিছানায় পরিপাটি হয়ে মনোরঞ্জন করা পর্যন্ত,
স্বামী তো পরমদেব, তাঁকে আরাধ্য দেবতার মত অঞ্জলি দিয়ে পুঁজো দিতে হয়,
কিন্তু রুপন্তির তা মনে হয়না, রুপন্তি তার স্বামীর মধ্যে আপাদমস্তক স্বার্থপর রক্তমাংসের অমানুষ খুঁজে পায়,
তাকে সে কি করে আরাধ্য করবে?

তবে রুপন্তি যেনো সব খারাপ সব অনিয়ম মেনে নিতে শিখেছে এক মাত্র প্রত্যয় এর জন্যই বেঁচে আছে।

লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ

মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
shimul2016.bsm@gmail.com

Monday, July 27, 2020

নব শওকত এর কবিতা গুচ্ছ || ক্রুশবিদ্ধ কবি।

অতীত যেন কবির বুকে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আছে। ক্রুশ কী আর কবির কষ্ট বুঝে? না বুঝুক। তাতে কবির আপত্তি নেই। মূলত কোন কিছুরই তোয়াক্কা করেন না কবি। তিনি বরং কষ্ট ও মৃত্যু এসবের ঠোঁটে চুমো দিয়ে সৃষ্টির আনন্দে মেতে উঠতে চান। যদি কলম বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় তবু কবি আঙুলে, রক্তের কালিতে লিখে যাবেন আপন কথা কবিতা রূপে। কবি তার মগজের ক্যানভাসে এঁকেছেন লেলিন, মার্কস আর প্রেমিকার গোলাপের সাথে কিনেছেন সুকান্ত, তাকে বুলেট/মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। কবির কাছে বাঁচা ও বিপ্লব সমার্থক। 

প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ    : জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। 
উৎসর্গ    : ভবিতব্য বিপ্লব কে।







ক্রুশবিদ্ধ কবি 


 
ছবিঃ মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।


ক্রুশ

সব কথা বলা শেষ জানি
তবুও শেষের শরীরে
ক্রুশের মতো লেগে থাকে কিছু স্মৃতি
গত শীতের শিশির,
মেঠোপথ, একটা পরিচিত আকাশ
স্কুলের ঝং ধরা টিনের উপর বসে থাকা নিঃসঙ্গ শালিক
একটা সবুজ চাদর, কুয়াশায় ভিজে থাকা দুটো চোখ,
মনে পড়ে?
থাক, পড়লেই বা কি?
ক্রুশ কি আর জানে যিশুর কি কষ্ট?

তবে জানো নাকি এখন
অন্ধকারের দেয়ালে কান পাতলেই শুনতে পাই
অদূর অতীতের শুদ্ধতম ভুল এর চিৎকার
চোখ খুলে দেখতে পাই নিজ হাতে নিজেকে খুন করার স্বচ্ছ ছবি
হাত নাড়লেই ছুঁতে পাই এক ছিন্নভিন্ন লাশ
যার পাশে শুয়ে থেকে এখনো হুহু করে কাঁদি
যেইভাবে কাঁদতাম অবুঝ শৈশবে একটা নীল সাইকেল এর স্বপ্নে
আহারে, আমি অন্তত এভাবে মরে যেতে চাই নি।

কবি

কবি কী তোমায় ছাড়া জন্ম দিতে পারে না কবিতা?
তবে জানো,
কবি কখনো চায় না সে তার কবিতার কাঙ্ক্ষিত নারীকে স্পর্শ করুক,
কবি কখনো চায় না তার প্রণয় সত্যি হোক,
কবি কখনো চায় না প্রেয়সীর লাল ঠোঁট তার ঠোঁটে আমর্শ হোক ,
কবি কখনো চায় না প্রিয়া বাসন্তী শাড়িতে এক সন্ধ্যায় তার হাত ধরুক৷
কবি কখনো চায় না প্রিয়তমার কাজল হোক তার নামে,
কবি কখনো চায় না কেউ তার অপেক্ষায় থাকুক,
কবি কখনো চায় না কেউ তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করুক।
কবির চাই ক্ষত, একান্ত ব্যাক্তিগত কিছু ক্ষত ;
কবির চাই অন্ধকার, যে অন্ধকারে নিজেকে চেনা যায় ;
কবির চাই শব্দ, যে শব্দ দিয়ে জীবন লিখা যায় ;
কবির চাই মৃত্যুর ঠোঁট, যে ঠোঁটে চুমু দিয়ে কবিতা জন্ম দেয়া যায়।

কবিতা

দেখো আবার নেমেছে বিকেল একই শব্দে, একই রঙ নিয়ে আকাশ ;
হায় আলো? সন্ধ্যা হয়ে হয়ে এলো !
নদীর পাড়, দূ.....রে জোনাকের মতো সভ্যতার আলো,
ইচ্ছে করে নদীর হাওয়ায় মাতাল হয়ে উড়ে যেতে তোমার গাঢ় চুলে!

দেখো আকাশ! একটা নক্ষত্র তোমার লাজুক চোখে চেয়েছে
মেঘের ঘোমটা তুলে।
পাখি হয়ে উড়তে থাকি তোমার কাছে,
জানি এখনি আকাশে অন্ধকার নিবিড় হয়ে উঠবে,
রহস্যময়ী নক্ষত্রও মুছে যাবে, মুছে যাবে তুমি
মুছে যাবে স্মৃতি, হাওয়া, ক্লান্ত নদী, মুছে যাবে পাখি।
কেবল থেকে যাবে, যায় কালের মরুতে পথ হারিয়ে যাওয়া
পোড়া কপালের এক কবিতা।

বিপ্লব

যদি পৃথিবীর সব কলম বাজেয়াপ্ত করে নাও
তবুও আঙুল-রক্তে লিখে যাবো বিপ্লব ;
স্লোগানে স্লোগানে মুছে দিবো কালের বুকে বইতে থাকা
তোমাদের নষ্ট সমাজ নদীর গতি।
আর বুলেট?
যে মগজে ঝুলিয়েছে লেলিন, মার্কস আর
প্রেমিকার গোলাপের সাথে কিনেছে সুকান্ত 
তাকে বুলেট/মৃত্যুর ভয় দেখাও?

 জীবন

জীবনরে কইলাম জীবন লও একলগে ঘুমাইতে যাই? 
তহন জীবন আমারে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়া কইলো
কর্তা আমার মেলা কাম বাকি,
চুলার উপ্রে দুঃখ বসাইয়া আসছি, এদিকে ঘরে নাই সুখ ;
সুখ আনতে অনিশ্চিত অন্ধকারে যাওয়া লাগবো।

খানিক পরেই জীবন আমারে বিরাট ব্যস্ততার লগে
কিছুটা করুণা কইরা কইলো
কর্তা চুলার উপ্রে যে দুঃখ বসাইছি
ঐনে একটু পুরান স্মৃতি ছিটাইয়া নাড়াইতে থাকেন
আর বেশি শুকাইয়া গেলে তিন ফোঁটা চোক্ষের পানি দিয়েন ;
আমি ব্যাগ নিয়া অন্ধকারের দিকে যাই
দেখি সুখ পাওয়া যায় কিনা,
আইজ কাইল-
সব সুখ নাকি নষ্টারা বেজায় দামে খরিদ কইরা ফেলে।


লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ 
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ 
মোঃ শামীম রেজা 
মোঃ মাসুদ মিয়া 
তানজিল আহমেদ আকাশ

Sunday, July 26, 2020

শামীম রেজার কবিতা গুচ্ছ - যে পথে আলো আসে।

বৌদ্ধিক ডুবারু কবি একদম ডুব দিয়েছেন বোধের অতল গহ্বরে। তুলে এনেছেন মণিমুক্তা, পান্না সব। এ সমস্ত মূল্যবান পাথর গুলোই যেন এক একটি শব্দ। আর কবি নিজে সে সমস্ত শব্দ জুড়ো দিয়ে গেঁথেছেন বৌদ্ধিক প্রতিমা। মূলত সে প্রতিমাই কবিতা গুলো। একবার চোখ মেলে তাকালে, তাকিয়ে থাকলে, যেন খোঁজে পাবেন আলো; প্রতিমার গাত্র নিঃসৃত। আলোর ঝলকানিতে আপনার চিরায়ত অন্ধত্ব বিদূরিত হবে। ভাবনার নতুন দিগন্তে খোঁজে পাবেন আপনাকে।
 
 

প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি। 
প্রকাশ    : জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎসর্গ    : তাকে।

যে পথে আলো আসে


প্রশ্ন থেকে আলো


আছড়ে পড়ে শব্দগুলো
মস্তিষ্কের কোষে কোষে
টের পাই মস্তিষ্কজীবী
বুক তার এখনও বেচে আছে
পালসগুলোকে অস্বীকার করে তৃতীয় স্বত্ত্বা
মুচকি হেসে বলে
আয়নায় চোখ রাখ

আশ্চর্য আয়নার কোথাও কোন ক্ষত নাই
দাত নখের ছাপ আছে
মধ্যরাতে নিজেকে খুলে-পাল্টেছে-সাজিয়েছে-রাঙিয়েছে
কত বেসাতি পোষ্য-অপোষ্য গৃহস্থালি।

চে শার্টের কলার থেকে ঘাম রক্ত রক্ত
সেই রক্তে নিজের ছবি আকতে গিয়ে আতকে উঠি
দেখি খন্ড-বিখন্ড ছায়া ক্ষরিত আদিম উপত্যকা
লালন মঞ্চে বিজিত কলিঙ্গ সম্রাট
দ্বন্দ্বমুলক বস্তুবাদ গুনতে চাই
অথচ ক্রুশেড কেন হতে পারে
তখনও জানে না হাড়িরাম সম্প্রদায়।

প্রতিফলনের সামনে একটা ঘোমটা পড়া কলাগাছ দেখি
কলাগাছটা দেখছে একজোড়া গজদন্ত।

প্রথম পুরুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়
দ্বিতীয় পুরুষ ভুলে যাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে
প্রকৃতির অংশজ আবিষ্কার হেতু প্রশ্ন করতে উদ্যত তৃতীয়জন
এবং অবশ্যই প্রশ্ন থেমে গেলে সুখি হয় মানুষ

উত্তর জন্মের প্রেতাত্মা হয়ে ঘোষণা করি ভালো আছি
সমাজ রাষ্ট্র আর কতটুকুই বা বাস্তুক।

বোধের তৃতীয় নয়ন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে যা দেখেছে
তাকে নিত্য অবিনশ্বর বলে।
বস্তুত আলো কখনই প্রবঞ্চক হতে পারে না
প্রশ্নের গর্ভজাত আধারের বুক ফেড়ে নিজ স্বরুপ উন্মোচন করে।

ভালো থাকার শর্ত প্রশ্নের পাটাতন থেকে উৎসারিত হয়
সমগ্র চরাচরে।
এবং নির্লিপ্ত ভালো থাকা
নিজেকে নির্লজ্জের মত বলে ফেলে ভালো আছি
বেহায়ার মত কপটতা করে বলে
আপনি কেমন আছেন।

যেভাবে খুন হয় আমাদের মায়ের ভোর পাখি

আমি আগুন হতে পারিনি বলে আমার পিতা হাপড়  হতে পারিনি
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে
অনুমিতি মান হিসেবে
পিতাকে ক্ষুদ্রশিল্পী  ধরা হয়েছে বার বার।
অতিশুক্ষ্ম হৃদয় কোণে ঠিকই
তাকে পুরুষের বিজয় কেতন
উড়াতে দেখেছি পরাজিত সভ্য ভাগাড়ের উপর।

দেখো জুলিয়াস সিজার
আমাদের বুক তবুও কয়লা শিল্পে কেমন রাঙা হয়ে ওঠে দিনান্তে

কিন্তু খুব অদ্ভুতভাবে আমাদের মা শীতল জলের ন্যায় পড়ে থাকে
গৃহস্থালির কায়কারবারের আপাদমস্তক জুড়ে
আমাদের মা কে কখনও বেহুলা হতে দেখিনি
কিন্তু তাকে ভাসতে দেখেছি
ভাসতেই দেখে যাচ্ছি।

ক্লিওপেট্রা একে আপনি ক্ষুদ্র মহান লৌহ শিল্প বলতে পারেন।
লোহার ডাল সিদ্ধের কাজটা আপনি কখনও করেছেন?
জানেন কোন ছিদ্র বন্ধ করলে ফুটো কলসিতেও জল বয়ে আনা সম্ভব?

আমাদের যৌবনকালে বাবা লাল রঙা নরম লোহার গল্প শুনিয়েছেন
আর মা শুনিয়েছেন ভোরের পাখিদের নীড় ছেড়ে যাওয়ার শব্দ।
পাখিদের শব্দে আমাদের হৃদয় ক্ষণিক ব্যাকুল, মোহিত থাকলেও
আমাদের চোখে থাকে ছিটকে পড়া আগুনের ফুলকি,
হাত শাসিত থাকে কোন পূর্ব-নির্ধারিত আদলে,
ফলে মায়ের শোনানো ভোরের পাখি আত্মহত্যা করে
নীড় থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরপর।
প্রতিদিনই এমন হত্যা দিয়ে শুরু হয় পৃথিবীর ভোর।

আমাদের মা বুকের হাড় পুড়িয়ে জীবনের জ্বালানি হয় রোজ
আর আমরা হয়ে উঠি বাবার হাতের সান দেওয়া অস্ত্র
যা দিয়ে আমাদের পুরুষ বাবা খুণ করে আমাদের
মায়ের ভোরের পাখি।

বিপ্লব ও কবিতা 

আজ অব্দী একটা প্রেমের কবিতা লেখা হলো না।
বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর থাকা মানুষ অপ্রেমে থাকতে পারে?
কেমন বিপ্লবী তুমি কবি?
ঘাতকের মতো কেবল ওতপেতে বসে আছো
সুযোগে সওয়ার হয়ে খুণ করবে অপ্রেম যাপনকে
তাতে উল্লাস মিলবে
প্রেম ধারা দিবে কি?
ঔ শোন ধরাশায়ী জীবনের প্রলাপসমূহ যারা প্রেমের নামে জীবনকে চিনতে গিয়েছিল
ছদ্মবেশী বিপ্লব যাদের প্রেমকে ছুতে পারিনি
একবার জীবন থেকে বিচ্যূত হয় তো আরেকবার প্রেম থেকে।
আধুনিকতার ঘোর তোমার  এখনও কাটেনি কবি
তাই ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্য র নোংড়া ঘুলঘুলিতে হারিয়ে ফেলছো গন্তব্যের খেই
এ মাটি তো প্রেমের কথা বিপ্লবের মুখে বলে
শিকড় পৃথকীকরণ বিদ্যা নিয়ে তুমি গাছ বাচানোর বিদ্যা ফলাতো এসেছো কবি!
কিন্তু অনায়াসে বৃক্ষদের দুঃখ নিয়ে রচে যেত পারো দিস্তার পর দিস্তা কবিতা
তাতে কি বৃক্ষের প্রেম থাকে?
বিপ্লব থাকে?
প্রেমহীন বিপ্লব আর বিপ্লবহীন প্রেমের প্রয়াস
উচ্ছিষ্ট সম্পর্কের ছিনালীপনা ছাড়া আরকি?
ওতে সাময়িক তুষ্টি মেলে বৈকি
স্বস্তির হদিস মেলে কি?
এর বাইরে আসেন ঘাস-লতা-পাতার কীর্তনে কাটায় জীবের বাদবাকি আর্তি।
প্রেমের কবিতা মেলে না
মেলে না বিপ্লবের কবিতা
অথচ দুনিয়াতে প্রেমের বিপ্লব খুব প্রয়োজন
বিপ্লবে প্রেম খুব দরকার
আমরা কেবলই বিভক্ত হচ্ছি
আমি কেবলই বিভক্ত হচ্ছি প্রেম থেকে বিপ্লবে
বিপ্লব থেকে প্রেমে
অথচ তারা অবিচ্ছেদ্য শর্তে থাকে জগতের আগামীর প্রশ্নে
কবি তুমি কোন শর্তে?

প্রতিবিম্বে এক চক্র

আমাদেরই মারা গিটগুলো যখন ফাস হয়ে টান দেয় আমাদের গলা
অবশ্য যাদের গলা নেই আছে জিহ্বা আর আছে অদৃশ্য বন্দিত্বের স্বাধীনতা
বিপক্ষে গেছে তারা
এই যে গিট আর তারা মিলে হয়ে গেছে অবিনশ্বর

সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি র বলয় বিভক্তের মোহে হয়ে গেছে দীর্ন
প্রেম অথবা প্রার্থনা অজস্র বলয়ে হয়েছে বিচ্ছিন্ন
ফলত অখন্ড পাটাতন পায়নি আমাদের দ্রোহ অথবা ভালোবাসার ক্ষেত্র
কি এক মহা বিরহের সারথী হয়ে ক্ষুধা আর অন্যয্যতার চক্রে আবর্তিত হয়েছে
আমাদের পবিত্র রক্তের বলি
এ যে মহাকাল থেকে মুক্তি না পাওয়া তাদের
অর্থাৎ সেই সব ঈশ্বরীয় হল্লার রক্তজ হোলি
শরীর থেকে শুষে যাওয়া রক্তের উপর দাঁড়িয়ে প্রজন্মান্তর
স্বপ্নের ভিতর  হারিয়ে ফেলা পুনরাবৃত্তিক পথে

সভ্যতা বুননের ঊষাকালে তুমি আমি আমরা
প্রত্যয়ের কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলাম
অনাগত ভবিষ্যৎকে চুম্বন করে
আমাদের ঠোটে পেরেক ঠুকে দিয়ে সে
আজ অঞ্জলি হয়ে গেছে প্রেতপুরী র
আমাদের ভাষা হারিয়েছে প্রকাশ ক্ষমতা এবং অর্থবহতা
দীর্ঘ অমানিশার ভিতর জাপটে ধরতে গিয়ে দেখি
বহুপথ ঘুরেফিরে কত শত অনুসন্ধান শেষে
ধুকছে তোমাদের ছায়া
এই ঐতিহাসিক চক্র থেকে বের না হতে পারা তুমি তোমরা
অথবা আমি আমরা
দ্বিপক্ষীয় হয়ে যায় বারবার
অভীষ্ঠতার শর্তে আমাদের তৃষিত লক্ষ্য
প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি
কেবল যোজন দ্বিধা আর ঐতিহাসিক ভ্রুকুটি
শাসন করে আমাদের দুরত্ব
ব্যবধানের গৌরবে আমরা হয়ে উঠি
একেকজন তপস্যাস্নাত শয়তান। 

নিশিতা

জন্মের বিহ্বলতাই জেরবার হয়েছি বারংবার
অসংখ্য ঘুম ভাঙা রাত ফুপরে খুজেছে হাসনাহেনার ঝরেপড়ার সঙ্গ
বিভঙ্গের দহনে মুখ গুমড়ে পড়ে থাকে অপেক্ষার সকাল
তারপর ভোরের স্বপ্ন ডানা মেলে উড়ে গেছে নীল পাহাড়ের দেশে।
পাথুরে পাহাড়ের বুক ভেঙে বের হয়ে আসা জলের স্ফটিক বলে গেছে
নিঃসঙ্গতার কি স্বচ্ছ শান্ত আর্তনাদ থাকতে পারে।
দ্বিধায় উথলে ওঠা অভিমানের বলক
ভীরু সংশয়ের পাড় ভাঙতে পারিনি
বরং গন্ধকের চূর্ণ হয়ে মিশে গেছে বহ্নিমান হৃদয়ের শোণিতে।

এইবার বুঝি রাতজাগা ফসলের গান গাইবে ঘুমিয়ে থাকা অনাবাদী নিস্ফল ভুমি

জন্মের অর্থ কি জানো নিশিতা?
দ্রোহ, প্রেম আর বিপ্লবে
রাতের সংশয় আর বিহ্বলতা পেরিয়ে নিশ্চয়
আমরা একটা ভোর পাবো পেয়ে যাবো
মনে রেখ এ পৃথিবী মানুষের হবে।
আর আমরা সেই স্বপ্নে চলো বাকিটা রাত পেরিয়ে
যাই মহাকালের আহ্বানে। 


লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ 
 পেইজ : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি
মেইল : shimul2016.bsm@gmail.com