Thursday, December 23, 2021
ফুলগুলো সব কোথায় হারালো - হাসান রাকিব।
Tuesday, December 21, 2021
কবি তন্ময় সাহা'র আলোচনা- ২
| কবি তন্ময় সাহা |
Tuesday, November 30, 2021
মানুষ ও প্রফেশনাল ম্যান - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
Saturday, November 20, 2021
ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল সুমন।
"ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য"
| Messenger Of Cosmology |
Wednesday, November 10, 2021
ছোটগল্প - ভাঙচুর - ভূবন মুন্সী।
| ভূবন মুন্সী |
Monday, November 1, 2021
ছোটগল্প - আড্ডা- ভূবন মুন্সী
আড্ডা
Wednesday, October 27, 2021
পৃথিবী তুমি প্রেমিক খোঁজ
পৃথিবী তুমি প্রেমিক খোঁজ
ইমোশন বনাম রিয়েলিটি - ভূবন মুন্সী।
ইমোশন বনাম রিয়েলিটি
Friday, August 21, 2020
মোহাম্মদ মমিনের কবিতা গুচ্ছ || ভোরের বিদ্রোহী ঠোঁট।
কবি চেয়ে দেখেন- ভালোবাসার অভাবে এখনো অপূর্ণ মানুষ কিংবা হিংসার খেয়ালে ইতিহাস আজ অনেক ছোট। কবি সেকেলে হয়ে ওঠা জাতীয়তাবাদের বাইরে গিয়ে খোঁজতে চেয়েছেন নিজেকে, পেতে চেয়েছেন নিজের ও সামগ্রিকতার মুক্তি। নিঃশ্বাসে আজ মৃত্যুর গন্ধ। তাই কবি দেবতার পায়ে চুমু, কৃষ্ণচূড়ার ঠোঁটে চুমো দিয়ে নিজের ইচ্ছাকে ব্যক্ত করেন; পেতে চান মুক্তি, শান্তি, ভালোবাসা।
উৎসর্গ : ভূবন মুন্সী কে।
প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
স্বত্ব : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
ভোরের বিদ্রোহী ঠোঁট
সময়ের দাবি
আমাকে একটু শান্তি দাও,
দেবতার পায়ে চুমু, বলছি
আমাকে একটু শান্তি দাও।
নিঃশ্বাসে আজ মৃত্যুর গন্ধ।
অসভ্য সেই মানুষের মুখোশ
খুলে দাও তুমি
আমাকে একটু শান্তি দাও।
স্বপ্নের ঘরে ভগ্ন স্বপ্ন।
মেধা শূন্য মানচিত্র
ভেঙে দাও অচলতা
আমাকে একটু শান্তি দাও।
আকালে আজ জ্বলছে পৃথিবী,
আমাকে একটু জায়গা দাও।
দেবতার পায়ে চুমু, বলছি
আমাকে একটু শান্তি দাও।
জাতীয়তাবাদ
আজকের এই রজনীতে তুমি আমি একাকার
নবজন্ম হলো পৃথিবীর।
তবুও কি প্রয়োজন আছে
বর্ডার কিংবা কাটাতার?
আরও পড়ুন - একবিংশ শতাব্দীর দুই দশক
২০২০
সময়ের কসম
পৃথিবী আজ অসহায়,
অসহায় আজ
যাঁরা প্রকৃত মানুষ।
রাজশ্রী
মাঝে মাঝে কলিজা পোড়ার গন্ধ পাই
সিগারেটের ধোঁয়া এখন অসহ্য লাগে
জেতার অভ্যাস ছেড়েছি সেই কবে
তাই হেরে যাবার ভয় তোমার নেই
মোহ আর মমতা জড়ানো আজ
জীবন কী কঠিন রাজশ্রী!
জাতক থেকে জন্মধাত্রী সবারই কলিজা
পুড়ছে আজ।
রাজশ্রী, তোমার কী কাজ?
আরও পড়ুন - সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগনকে নিয়ন্ত্রণ করে।
শুভ্রতা
ভোর বেলার বিদ্রোহী ঠোঁট
দুপুরের কড়া রোদে
সিগারেটের ধোঁয়ায় কালো
সমাপ্তি হলো জীবনের
এপাড় ওপাড়।
তবুও কি বাঁশি বাজবে
গাইবে গান পাখি নতুন সুরে
একাট্টা হয়ে সাজাবে সমাজ
পৃথিবী নতুন?
তুমি কী গাইবে ভোরের পাখি?
অভিন্ন ফটোগ্রাফ
চলোনা একে অপরের কান্না মুছে দেই
কৃষ্ণচুরার ঠোঁটে চুমো দিয়ে বলি
পৃথিবীটা আমাদের
চলোনা একই সুরে গাই গান
ভাঙা সীমান্ত প্রাচীরে মুক্ত করি পাখি
একতারাতে একতাল দেই দুজনার তর্জনীতে
দুটি তুলিতে আঁকি একটি ফটোগ্রাফ
চলোনা সামাজিক মানুষ হওয়ায় প্রত্যয়ে
কিছুটা পথ হাঁটি
দেখি আগামীটাকে একান্ত নিজের চোখে।
আরও পড়ুন - বেকারত্ব ও পরিবর্তনীয় ভবিষ্যতের হাতছানি।
ভালোবাসা পেলে বেঁচে থাকি
পানি তুমি কোথায় একটু চোখে আসো
ভালোবাসা তুমি কোথায় একটু কাছে আসো।
ব্যক্তিক চাওয়া পাওয়ার কাছে
বৌদ্ধিক চোখ গুলো এই আকালে ঘুমিয়ে আছে
মানবতা বলে কিছু নেই, মর্যাদা বলে কিছু নেই
হিংসার খেয়ালে ইতিহাস আজ অনেক ছোট।
এক থেকে একাধিক ভাবাটাই ভুলে গেছি আমরা
বুকের খাপটা খুলে একবারও দেখিনা আজ
অথচ বুকের ক্ষত নিয়ে মাঝে মাঝে চমকে উঠি
চেয়ে দেখি
ভালোবাসার অভাবে এখনো অপূর্ণ মানুষ।
অগোছালো জীবন যাপন
দিন শেষে স্বার্থের লেজ আর বেহায়া
উন্মাদনা, আত্মহত্যার চেয়ে জঘন্য আমি বারবার
বেঁচে থাকি।
নিজের হাতে তুলে নিয়েছি ধ্বংসের মরচে পড়া অস্ত্র,
প্রতিনিয়ত মৃত্যু হয় আমার চেতনার অভাবে।
জাল্লাদি চোখে লালসার দৃষ্টি আঁচড় করে আমার গায়ে, সময়ের ব্যবধানে যুদ্ধে যাবার ছেলেটা হারিয়েছে
তার মনুষ্যত্ব।
নিজের কামনার দৃষ্টি মায়ের উপর, জন্মভুমি আজ অসহায়, অসহায় আজ কিছু নটির দালালের কাছে।
একাত্তর থেকে আজ-অব্দি পুরনো ঘেঁউ ঘেঁউ,
সন্ধ্যা হলে নেমে আসে অন্ধকার।
কোথায় পাবো মুক্তি, এই অগোছালো জীবন যাপনে
কে দেবে আমায় মুক্তি আমার?
আরও পড়ুন
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ এ
মেইল করুনঃ
shimul2016.bsm@gmail.com
Monday, August 10, 2020
আজ বৃষ্টি হোক - আলী রীয়াজ।
কবির প্রত্যাশা আজ বৃষ্টি হোক। এই অস্থির সময়, কলঙ্ক কালিমা সব ধুয়ে যাক। পৃথিবীর গভীরতর অসুখে, পাথরের মতোন এই পাষাণ কালে – মমতার প্লাবন আসুক। নিপুণ কৌশলে, তুমুল তেজে সব কিছুকে পুড়িয়ে শুদ্ধ করা যায়। সবই তো দাহ্য বস্তু। কে জ্বালাবে আগুন- এই প্রতীক্ষা শুধু।
প্রকাশক : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
. আজ বৃষ্টি হোক - আলী রীয়াজ
আজ বৃষ্টি হোক
আজ আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামুক,
মাটি ফুঁড়ে উঠুক বৃক্ষের সম্ভাবনা,
লতাগুল্মগুলো ধুয়ে মুছে সবুজ হয়ে তাকাক আকাশে;
আজ আকাশ ভেঙে নামুক জলের ধারা|
গ্রীষ্মের আগুন নিভিয়ে দিয়ে
সন্তানহারা মায়ের অশ্রুধারার মতো
মমতার প্লাবন আসুক,
আনন্দের ঝর্ণাধারার মতো নামুক বৃষ্টি;
বৃষ্টি ধুয়ে দিক -
জনপদ, অস্থির সময়, অনিশ্চিত দিনরাত্রি|
আজ আকাশ ভেঙে নামুক করুণার ধারা|
এই বৃষ্টিতে সবাই নামুক উঠোনে, পথে
কলুষের কালিমা মুছুক
মৃত্যুর ভীতি হোক অপসৃত
আলিঙ্গনে বদ্ধ হোক মানুষেরা|
আজ আকাশ ভেঙে নামুক স্বপ্ন,
দুঃসময় দূর হোক
শিশুরা মাতুক কলহাস্যে
কিশোরেরা জমে থাকা জলে ব্যস্ত হোক
ক্রীড়ায়, কৌতুকে;
সলজ্জ্ব তরুণী খুঁজুক প্রিয়জন,
তরুণের চোখের তারায় জ্বলুক স্বপ্নের রেখা,
আজ আকাশ ভেঙে নামুক ভালোবাসার জলধারা,
বৃষ্টি হোক - আজ বৃষ্টি হোক|
২০ জুলাই ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে?
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে?
আকাশ ভেঙে, বিস্তৃত জনপদকে ধুয়ে ফেলে
এই যে শহর তার প্রতিটি ধুলোকণা স্পর্শ করে
মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে যাচ্ছে এলোমেলো বৃষ্টির বাতাস|
আমাদের যতটা কালিমা ছিল
তার সবটুকু মুছে দিতে
কোথাও কি বৃষ্টি হচ্ছে?
ব্যস্ততার, জীবনের, জীবিকার অন্ধ বৃত্তে
আমাদের হয়নি দেখা এই যে প্রকৃতি
তার কাছে কতটুকু ঋণী,
পৃথিবীর গভীর অসুখ যখন
যখন আমরা সবাই একাকী, দূরত্বের কুহকে বন্দী
তখন কি আকাশ ভেঙে নামছে জলের ধারা?
এই যে আকাশ আমি ভাগ করি সকলের সাথে
নিঃশ্বাসে ভাগ করি আমাদের প্রাণ
সেখানে যতটা কালিমা ছিলো
হিংসা ছিল, বিদ্বেষের বিষ ছিল
সবটুকু ধুয়ে যাবে?
এই মৃত্যু-সময় কি ধুয়ে যাবে?
একদিন, কোনো এক বৃষ্টি সকালে
আমরাও হাতে হাত হেটে যাবো,
তখনও বৃষ্টি হবে অপরিচিত কোনো জনপদে|
অপত্য স্নেহে জননী আঁকড়ে ধরে শিশুর আঙ্গুল
ফিরে যাবে তাঁদের শৈশবে|
আজ এই বৃষ্টি ধুয়ে দিক
সব কিছু ধুয়ে দিক|
২৮শে এপ্রিল ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
সব কিছু দাহ্য বস্তু
সব কিছু দাহ্য বস্তু যদি জানো জ্বালাতে আগুন,
জলেও আগুন জ্বলে
অশ্রুতে বারুদ থাকে
পোড়াতে পারে রাজ সিংহাসন।
বৃক্ষে-বৃক্ষে আলিঙ্গনে অকস্মাৎ পুড়ে যায় বন,
অগ্নিগিরি মাটি শুধু, পদতলে
যতক্ষণ লাভাস্রোত তাকে না দীর্ণ করে;
লাভার আগুন কাকে গ্রাহ্য করেছে?
একখানা বিস্মৃত দেশলাই তৈরি করে আগুনের
লেলিহান শিখা;
সবকিছুই দাহ্য বস্তু,
যদি কেউ জ্বালায় আগুন।
১১ই অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
আরও পড়ুন -
শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ - লাল রঙ
ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ - ইস্পাতের ঠোঁট
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেইলে পাঠাতে -
shimul2016.bsm@gmail.com
Sunday, August 9, 2020
ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ || ইস্পাতের ঠোঁট।
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি থেকে ভূবন মুন্সীর কবিতা গুচ্ছ "ইস্পাতের ঠোঁট" প্রকাশিত হলো। আশাকরি পাঠকদের ভালো লাগবে। যখন চেয়ে দেখি একগলা নোংরা জলে ডোবে আছে মানচিত্র তোমার আমার, তখন প্রবল ঝাঁকুনিতে রাষ্ট্র ও তার পিঠে বসে থাকা মানুষদের জাগতে হয়, জাগাতে হয়, আর জাগতে ও জাগাতে সে প্রবল ঝাঁকুনির নামই 'ইস্পাতের ঠোঁট'। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখের খোয়াব ভাঙতে প্রবল ঝাঁকুনির নামই 'ইস্পাতের ঠোঁট'।
প্রকাশনা : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
স্বত্ব : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
উৎসর্গ : পথশিশু ; যাদের মা বাংলাদেশ, রাষ্ট্র একান্ত অভিভাবক। মা বাকরুদ্ধ, উদাসীন অভিবাবকের তুমুল অবহেলা পেয়ে নষ্ট হয়ে গেলো তারা। একটি শিশুও নক্ষত্র হয়ে জ্বলে উঠলো না। অথচ জ্বলতো।
ইস্পাতের ঠোঁট - ভূবন মুন্সী
ভূবন মুন্সীর আরও লিখা
রাষ্ট্র তোমাকে বলছি
মাননীয় রাষ্ট্র মহোদয় তোমাকে বলছি
তুমি কান পেতে শোন
তোমার দুটি কান
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে শুনতে হবে দ্বিগুণ
তোমার বুকের স্লেটে হিজিবিজি অক্ষর
বাঁকাত্যাড়া অর্থহীন ব্যর্থ অক্ষর
আঁতুড় ঘর থেকেই তোমার শিশু
অবোধ হয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে দোয়াড়
তারপর ঘুরছে গ্রাম গঞ্জ আর
শহর নগর।
রাষ্ট্র তুমি চোখ মেলে দেখো
তোমার দুটি চোখ
রোবটিক নয়, প্রাণজ দুটি চোখ – সরল
তোমাকে নিয়ে খেলছে কিছু লম্পট
দেখো ধর্ষিতা বোনের শরীর
কেমন কাতর
চেয়ে দেখো পাড় ভেঙে বেয়ে পড়া
থরো থরো কম্পিত ঘৃণার জল।
রাষ্ট্র তুমি কিছু একটা করো
পুরনোকে নষ্ট করো
গড়ো সৃষ্টির নতুন বলয়
তোমার দুটি হাত
বিকল নয়, অবিকল ঈশ্বরের হাত
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে করতে হবে দ্বিগুণ।
রাষ্ট্র তোমার একটি মাথা
প্লিজ, একটু উর্ধ্বে তোল
পাহাড়ের মতোন আসমান বরাবর
তুমি তর্জনীতে টোকা দিলেই
জমি হবে উর্বর
থমকে যাওয়া মেঘের বর্ষণে।
রাষ্ট্র মহোদয় তুমি হাঁটো
তোমার দুটি পা
যৌক্তিক নিরিখে তোমাকে হাঁটতে হবে দ্বিগুণ
প্রত্যেক জনপদে
তোমার পায়ের ছাপ
বদলের স্বাক্ষর হয়ে জেগে থাক রাত দিন।
রাষ্ট্র তোমার একটি বুক
কাকে ঠাঁই দেবে
প্রেমিক নাকি লম্পট?
মাননীয় রাষ্ট্র তোমার একটি মুখ
মুখ্যত তুমি বলবে কম
যদি বুকের জমিনে জেগে থাকে আবাদী প্রেম বাগান
এইতো সময়
স্পষ্ট করে বলো – দূর হ লম্পট।
সোনামুখী হাঙ্গর
সোনা খাও সোনামুখী,
টনকে টন কয়লা আর গুপ্তধন
রাস্তার বিটুমিন, ইট - পাথর
তুমি সবটা গিলে নাও সোনামুখী হাঙ্গর।
লিমনের খোঁজ নেই-
তার পা টা খাও,
ফেলানীর রক্তমাখা শরীর,
রিজার্ভের টাকা, পদ্মার পাইলস, রানা প্লাজার পিলার,
বসুন্ধরার আগুনে পুড়ে পুড়ে খাও।
কলম খাও; পত্রিকার পাতা আর সাংবাদিক।
সাগর-রুনি তোমাদের কে খেয়েছে গিলে?
ইলিয়াসের এখন কী খবর?
আজ হাজার ফেলানী বলে- বাবা দেশটা কার?
এত এত অফিসার! শাকিলের ছিন্ন ভিন্ন লাশ,
কে যেন খেয়ে গেছে রক্ত চুষে।
উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে,
কার কী অপরাধ, কোথায় বিচার?
সব নথি গিলে নিলো সোনামুখী হাঙ্গর।
ট্রেন গুলো এত অসহায়!
বৃদ্ধার মতো ঠেকে ঠেকে পথ হাঁটে,
সব চাকরি কি নিয়ে গেছে উড়ন্ত গাঙচিলে!
ওরা এত বেকার কেন?
হলমার্ক এর পিছনে কোন্ হুলুটা ছিলো?
কী লাভ, কে পেলো লাভের অধিকার?
হলি আর্টিজান এর যুবকটি চিৎকার করে বলে-
দেশটা কার?
ভোট তো গিলে খেয়েছো কবেই,
খেয়েছো স্বস্থির সবুজ ঘাস,
অস্থির করেছো নিরাপত্তার ঘর,
বুকের ভিতর বুলেট নিয়ে একরামুল কেঁদে বলে-
এবার শান্ত হও সোনামুখী হাঙ্গর।
সমরেশ বিএসসি
যে কথা বলার ছিলো
শুরু করার পূর্বেই ঝরে গেছে সে কথার ফুল;
ব্যর্থ বকুল।
অনুচ্চারিত অক্ষর
অনুজের মতোন বায়না ধরেছিলো;
তাকে যেন পাঠ করি সুধী সমাবেশে।
মিছিল চেয়েছিলো
সমাবেশ থেকে সে মার্চ করবে বৃক্ষ তলায়;
কৃষ্ণচুড়ার ঝরা পাপড়ি যেখানে বিছিয়ে দিয়েছে
রেড কার্পেট।
বেকার বি.এস.সি
রাষ্ট্রের কাছে ঘর চেয়েছিলো,
চেয়েছিলো অষ্টাদশী বউ।
ভেবেছিলো তার দাবী পেশ করবে কেউ,
কোন একজন সুধী।
স্বার্থের ক্যাওয়াজে স্থগিত হয়েছে আহুত সমাবেশ।
একা পথে প্রতিবাদে আজ নিহত সমরেশ!
বস্তি পাড়ার মাইক
ছিনাল সময়, দিকে দিকে বেহায়াপনা, খানকীর দুনিয়া!
পতিত পৃথিবীতে,মাগীদের ভীড় ঠেলে, মদের দোকান-
পাশ কেটে দেশে যেতে চাই- বৃক্ষের নিচে, মাটির বিছনায়;
গায়ে লেগে যায় মদের গন্ধ, শৃঙ্গার রস, টাটানো বীর্য-
এখানে সেখানে।
জন্মের পরে যাদেরকে জেনেছি মানুষ- মানুষ আজ
কথা বলে পশুর ভাষায়।
ইশারা পাই-
কিছু মানুষ শকুনের মতোন
কিছু শিয়াল কুকুর হাঙর
কেউ বিধাতার বরে অসুরের মতোন, কেউ বা
বিষধর সাপ, কেউ চতুর স্রষ্টার অভিশপ্ত জীব।
জন্মান্তরে মানুষ হয়তো প্রাণি হয়ে ফিরে- কিছু কিছু প্রাণিতে
কিঞ্চিত মানুষের সাঁজ; আবার প্রাণিরা মানুষ হয়ে ফিরে,
ফিরে আসে পালক ফেলে, দন্ত নখ আর লেজ কেটে; তবু
আমরা জেনে ফেলি- আমরা বলি-
শালা বানচোৎ এক মস্ত হায়েনা, বিরাট হাঙর,
চতুর শিয়াল আর বাদ বাকি
সব শালা জোকার বানর, নিরীহ বিড়াল।
পৃথিবীর আবর্তনের মতোন নাপাক ফিরে ফিরে আসে
ঘিরে রাখে আমাদের কুগন্ধ বায়ু
ঘিরে রাখে আমাদের খুন-হত্যা-গুম, নিষিদ্ধ প্রণয়
ঘিরে রাখে ব্যক্তিক লকারে সম্পদ সঞ্চয়ের প্রচন্ড অন্যায়।
ছাই চাপা, গোবর চাপা এক মাটির প্রদীপ সন্তান প্রসবের
মতোন কাঁটা কাঁটা কষ্ট নিয়ে, কচ্ছপের মতোন
মাথা উঁচিয়ে সূর্য হতে চায়;
যদি কেটে যায় পাপের কাল,
কেটে যায় অন্ধকার, বাতাসের বুক থেকে মদ, বীর্যের গন্ধ।
নটিরা হাসে, খিল খিলিয়ে হেসে ওঠে বেহায়া সময়!
জানি তবু, অন্ধকার ধ্রুপদী নয়।
বসুমতী, কবে তুই পোয়াতী হবি? কবে?
এক দেশ মানুষ দে।
টেলিভিশন
এই কি তবে ছিনালপনা!
আজ আমি নির্বিচারে সয়ে যাই,
বৃক্ষের মতো, জল-মাটি-কাদার মতো
মিসরীয় দাসের মতো ঘাড় নামিয়ে
নিশ্চুপ নির্বিচারে সয়ে যাই,
পাড়ারের মতো কুম্ভক করে বসে থাকি
আগত সকল অনাচারে।
আমি ভুলে যাই জন্ম ও জননীর কথা
পূর্বজ পিতার কথা; অথচ
তীব্র শীত,হায়েনার হিংস্রতা আর অরণ্যের অন্ধকার আমি মাড়িয়ে এসেছি,
ইবলিসীয় তীর-তরবারী আর সামন্তের হুংকার ও জিঞ্জির ছিন্ন করে এসেছি,
সহস্র ব্যর্থ প্রত্যয়ের পরও আগুন জ্বালিয়েছি সরু গুহার কঠিন অন্ধকারে-
বৈদ্যুতিক প্রদীপে রাতকে করেছি দিনের মতো সমুজ্জ্বল, সাগর জলের বুক
চিড়ে চষে বেড়িয়েছি আমার আস্ত পৃথিবী, বুকের পাঁজরকে কুঠার করে
ছিন্ন করেছি শত্রুর মস্তক, অযাচিত আগুন্তক তাড়িয়ে, কুরুক্ষেত্র-কারবালা
পেরিয়ে উড্ডীন করেছি ন্যায়ের শুভ্র নিশান।
তবু অন্ধকার আপাং কাঁটা হয়ে সেঁটে থাকে
তবু মিথ্যা মস্তকে তাজ হয়ে উর্বর জ্বলে
তবু জাহেলিয়াত জারি থাকে এখানে সেখানে
আর আমিও নাক্ষত্রিক প্রত্যয়ে
বায়ান্ন থেকে একাত্তর পেরিয়ে
তখনও তরুন
সদ্য স্বাধীন।
কিন্তু আজকের এই ভিন্ন কালে নতুন আকালে আজন্ম দাসী পুত্রের মতো
আমি নির্বিকার, বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে থাকা আমার নয়া অভ্যাস,
এ কেমন বেহায়াপনা!
কেন আজ আমি দাসানুদাস?
চকবাজারের কন্ঠে আগুন
গোপন ভিলেনের মতো লুকিয়ে ছিলো
তারপর ঠা ঠা হাসিতে হঠাৎ আত্মপ্রকাশ
ওর ঠোঁটে মৃত্যু ছিলো
আগুন ঠোঁটে কেড়ে নিলো জন্ম এখন,
একাশি হয়েও অমীমাংসিত
সংখ্যার প্রকৃত হিসাব হয়তো জানবেনা কেউ।
দ্রষ্টব্যঃ যথারীতি উড়ে এলো
ফায়ার সার্ভিস- আগুনে জল সেচার কাজে,
সিআইডি- তদন্তের কাজে,
ক্যামেরা- লাইভ টেলিকাস্ট হবে,
জানিয়ে দেবে সব, কিন্তু
এটা মৃত্যু নাকি মার্ডার?
মৃত্যু কি এতই সহজ!
কে ঢেলে দিলো এত সহজ মৃত্যু?
অভাগা দেশ হয়তো জানবে একদিন।
এদেশে মৃত্যু ও মার্ডারে শোকের প্রকাশ
স্যরি বলার মতোই মামুলি ব্যাপার,
দেখুন, চকবাজারের দিকে ধেয়ে আসছে
শোক শব্দমালা।
দুই বর্ণের শোক
তুমি কি মৃত্যুকে ঠেকাতে পারো,
পারো কি মুছে দিতে বিয়োগ ব্যাথা?
ওরা কি আসবে,
আবার ঠোঁট রাখবে কি প্রিয় ঠোঁটে?
ওরা কি জাগবে?
হে মৃত, তোমরা জেগে ওঠ-
রাষ্ট্রীক শোক এসে গেছে,
দল, বিরোধীদলের শোক ডাকছে,
সুশীলদের কোমল কন্ঠ শোক
ঘুর ঘুর করছে তোমাদের পাশে,
মানবাধিকার, দুদকের শোক
দেশীয় মাতব্বর আর বাণিজ্যিক নাগরের শোক
ডাকছে তোমাদের।
ওরা জাগছেনা
ওরা জাগবেনা
তোমাদের লাম্পট্যে ওদের আস্থা হারিয়ে গেছে;
তোমরা চুরি করো ব্যালট ও ভোট
দাও মিথ্যে আশ্বাস
কেড়ে নাও শস্য ও শ্রম, প্রয়োজনে
একদিন একমাত্র জনম।
কোথা হতে আসে
কেন বারবার আসে বেহায়া আগুন
কেন জন্ম মরে যায় আগুনে পুড়ে!
নিমতলী থেকে চকবাজার
এত এত মৃত্যুর দায় কে নেবে?
দ্বায়িত্বে কে ছিলো
লাইফ সেফের দ্বায়িত্ব কার
তোমার নাকি আমার?
অপহরণ
এটা এক উদ্ভট গল্প!
রংহীন অদৃশ্য বাজপাখি
অথবা রকমারি রংধারী গিরগিটির মতোন
বহুরূপী বাজ
চঞ্চু ও নোখে ছু মেরে
পালকের তলে লুকিয়ে রাখে সূর্য সকাল
তারপর হাওয়া!
তন্ন তন্ন করে তালাশে ফিরে
পরিচিত তস্করের ঘর
প্রহর দশ পেরিয়ে গেলে
মাকালিক সরকারের নিপুণ কৌশলে
উদ্ধার!
বুড়িগঙ্গার পাড়ে
পড়ে আছে মৃত সূর্য সকাল;
সূর্যের আধবোঝা চোখ
সকালের গলাতে ছুরির আঘাত!
এটা এক উদ্ভট গল্প!
প্রত্যাহ খুন হয় সূর্য সকাল
মৌলিক তস্কর হাওয়া!
আমরা তো জেনে গেছি,
খুনীকে বাঁচিয়ে রাখে তক্তের ছায়া।
ভেসে আসা শব্দবীজ
আমি সুবর্ণচর থেকে বলছি
ডাকনাম মাটি
মানচিত্রও বলতে পারো
আভিধানিক অর্থে বাংলাদেশ।
আমার কথা যারা শুনছো
তোমরা যারা শুনছোনা
সকলের চরিত্র নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
সন্দেহ চারিত্রিক সনদ নিয়ে
চারিত্রিক সনদে স্বাক্ষর করেছে যে প্রথম শ্রেণীর অফিসার
তার চরিত্র নিয়েও সন্দেহ আছে।
প্রথম শ্রেণীর অফিসার পড়েছে পাঠশালায়
পাঠদান করেছে যে শিক্ষক
সম্পৃক্ত যতো আমলা-কামলা, মন্ত্রী-মেম্বার, অফিসার ও কেরানী
সকলের চরিত্র নিয়ে সংশয়-দ্বিধা-সন্দেহ
বৈধতার লাইসেন্সধারী সতেরোকোটি
নাগরিকের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন আজ
সত্যিই কি ওরা বৈধ?
নাকি অবৈধ গর্ভঘরে কোলে পিঠে বড়ো হয়ে
নষ্ট কাল নিরিখে
ন্যাংটো হয়েও সভ্য নায়ক!
সন্দেহ-দ্বিধা-সংশয়!
শংকা-ভয়-ত্রাসে
ধর্ষন-গন ধর্ষন- ভয়ংকর সন্ত্রাসে
কন্ঠের কথা কেঁপে কেঁপে উঠে।
কতগুলো গন্ডার
কতজন লম্পট
কয়টি শুয়োরের বাচ্চা জন্ম নিলো সাতচল্লিশ বছরে?
জানি, পরিসংখ্যান নেই তোমাদের।
দেশের বুকে কতজন সুবোধ আছে
তোমাদের জানা নেই মূর্খের দল!
কথিত উন্নয়নের পৃষ্ঠাজুড়ে তোমাদের চোখ
লেখচিত্রে, সূচক রেখা আর রকমারি পাইচিত্রে।
দিবসের মেকি উৎসবে তোমাদের মন।
অথচ আমি আজও শুনতে পাই
পরাধীনতার শব্দ
শুয়োর, গন্ডার, বন্য প্রাণীদের দেখি
অবাধ বিচরন
দেখি নটির মতোন খিল খিল করে হাসছে
হায়েনার হিংস্র দাঁত।
তোমরা যারা বধির
অন্ধ যারা
যারা বিশ্বাসঘাতক বেহায়ার সন্তান
কিছুই দেখোনা
শুনতে পাওনা কিছুই।
অথচ মানুষের চোখে যদি দেখতে সে
বীভৎস দৃশ্য
যদি মানুষের কানে শুনতে সে
আর্তনাদ
মরে যেতে চাইতে সবাই।
কিন্তু, তোমরাতো মৃত।
মৌলিক পতন
আমি আজও পতনের শব্দ শুনি
বিকট শব্দ, একদম ঊষর ;
গাঁজাতে যাদের চোখ ঢুলুঢুলু
যারা স্বার্থের সিসাতে ভরে নিয়েছে শব্দ পথ
তারা শুনছেনা।
শোনা যাচ্ছে পতনের মৌলিক ধ্বনি,
সুধী বৃন্দ, আপনারা কেউ কী শুনছেন?
সুশীল সমাজ তুমুল তর্কে মগ্ন আছে
গোলটেবিলে উত্তেজিত থাপ্পরের শব্দ;
তারা শুনছেনা।
জাতীয় সংসদে দারুণ শব্দ
হ্যা বলুন, হ্যা বলুন, হ্যা বলুন;
হ্যা শব্দে তলিয়ে গেছে পতনের ধ্বনি;
তারা শুনছেনা।
ডাক্তারের আরদে রুগীর মিছিল
সিফিলিস গনোরিয়া সাইক্রেটিয়া করোনা;
রুগ্নরা শুনেনা কিছু।
ডাক্তার ও শিক্ষক মৌলিক ব্যবসায়ী আজ
বেনিয়া বাজার চেনে, পতনের শব্দ শুনেনা।
ডিজিটাল ক্যামারা বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে আছে
সামনে উখিয়া ক্যাম্প – মানবতা
সামনে ব-সাগর – সমুদ্র জয়
ক্যামারার পিছনে সুবর্ণচর – ধর্ষণ
সম্মুখ দরোজাতে খিল এঁটেছে স্বার্থের চোখ
পশ্চাৎগামী দরোজাই খোলা। কে ফেরাবে পতন?
ভয়ে কম্পিত বাংলাদেশের বুক।
আরও পড়ুন -
এম ইকবালের কবিতা গুচ্ছ - ভালোবাসাহীন মানচিত্র
শামীম রেজার কবিতা গুচ্ছ - যে পথে আলো আসে
নব শওকতের কবিতা গুচ্ছ - ক্রুশবিদ্ধ কবি
শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ - লাল রঙ|রেড সিগনাল
মুরশীদ সেলিনের কবিতা গুচ্ছ - পরস্পরের ইতিবৃত্ত
যারিন তাসনীমের কবিতা গুচ্ছ - ইশক
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
মোঃ শামীম রেজা
মোঃ মাসুদ মিয়া
রিয়া মাইতি
ভূবন মুন্সী
মেইল করুনঃ
shimul2016.bsm@gmail.com
mdmominali.bsm@gmail.com
কবি মুরশীদ সেলিনের কবিতা গুচ্ছ || পরস্পরের ইতিবৃত্ত।
কবি মুরশীদ সেলিন বর্তমান দেশ দুনিয়াকে দেখতে চেয়েছেন তাঁর কবিতায়। তিনি খোঁজতে চেষ্টা করেছেন বহমান সংস্কৃতি, জীবন যাপন। শহর ও গ্রাম, প্রকৃতি ও পরিবেশ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধে বারবার ফিরে আসে। নিচের "পরস্পরের ইতিবৃত্ত" কবিতা গুচ্ছেও তিনি সমাজের নষ্টকে খোঁচা দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখেছেন নতুন প্রভাতের।
প্রকাশনা : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।
প্রকাশ : আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎস্বর্গ : 'মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক' কে।
পরস্পরের ইতিবৃত্ত - মুরশীদ সেলিন
এখানে জীবন
এখানে জীবন ফুটপাতহীন রাজপথে হেঁটে চলা,
মিথ্যের পাশে মিথ্যে বসিয়ে সত্যের মত বলা।
এখানে জীবন আনাচে কানাচে মরে পরে থাকা লাশ,
বাঁচার আশায় প্রতি দমে দমে দূষনের হাসফাস।
এখানে জীবন বিত্ত বিলাসে বেড়ে ওঠা যত লোভ,
অসহায় শত বঞ্চিত মনে তিলে তিলে জমা ক্ষোভ।
এখানে জীবন সব মেনে নিয়ে মুখ বুজে বসে থাকা,
সাদাকালো রঙে নিত্য নতুন রঙ্গীন স্বপ্ন আঁকা।
এখানে জীবন রবি, নজরুল, লালনের গান শোনা,
কল্পিত কোন মহানায়কের পথ চেয়ে দিন গোনা।
ইতিবৃত্ত
আমরা চিরকাল উলঙ্গ থাকবো না,
একদিন আমাদের পরনে চুড়িদার পায়জামা হবে,
গায়ে শোভা পাবে রেশমি গরদের পাঞ্জাবী,
কারুকার্য খচিত কলাপুরী চটি পায়ে
আমরা রাজপথে হেঁটে যাবো
নতুন কোন প্রভাতফেরীর গানে সুর মিলিয়ে।
শুধু একপাল বৃদ্ধ কুকুরের লেজের দোলাচল,
গুপ্তাঙ্গের অবিন্যস্ত সফেদ কেশরাশি,
আর লকলকে জিভে ফোটা ফোটা রস
কালের সাক্ষ্য দিতে ইতিহাস হবে।
শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে বলে যাবে
উলঙ্গ যুগে অশ্লীল নৃত্যের ইতিবৃত্ত।
এই শহরে
আমি থাকব না ভাই এই শহরে থাকব না,
ম্যানহোলের ঐ ঢাকনা ছাড়া ফুটপাতে আর হাঁটবো না।
হেথায়,
সকাল বেলায় পাখির গানের নেইকো কোরাস,
যন্ত্র দানব পিষ্ট করে নতুন বধু,
রক্ত ধারায় ঝরছে সকল জীবন মধু,
রুক্ষ হাতে পড়ছে তালি চড়াস চড়াস।
নাক দিয়ে যায় কয়লা গুড়ো,
বক্ষে আমার যক্ষ্মা ধরায় ময়লা বাতাস,
আবর্জনার গন্ধে সবাই দারুণ হতাশ,
অল্প দিনেই হচ্ছি বুড়ো।
ভণ্ড সকল মিছিল মিটিং,
মুক্ত মনের নেইকো প্রকাশ,
শুধুই বাহাস, ঘৃণার বিকাশ,
রাজনীতিতে চলছে চিটিং।
অন্ধ গলির অনাথ শিশু,
বন্দি সবাই,
লোড শেডিং এ অন্ধ সবাই,
হচ্ছে জবাই
বুদ্ধ ও রাম, মুস্তফা আর যীশু।
থাকব না ভাই এই শহরে থাকব না,
এই শহরকে আর এমন করে রাখবো না।
এক তুড়িতে উড়িয়ে দেব বন্দি আকাশ,
পুড়িয়ে দেব মুখোশ গুলো,
সরিয়ে দেব চোখের ধুলো,
মুক্ত স্বাধীন মনের হবে বহিঃপ্রকাশ।
পরস্পর
তোমরা কেউ ভালবাসা ভেবে ভুল করোনা,
আসলে সব দেনা পাওনার খেলা।
পৃথিবীটা এক বিরাট হাটবাজার,
এখানে শুধুই বিকিকিনির মেলা।
এখানে সবাই ক্রেতা,
এখানে সবাই পণ্য,
সভ্যতা সেতো মেকী,
আসলে সবাই বন্য।
তোমরা কেউ দুঃখ ভেবে ভুল করোনা,
আসলে সব সুখের মূল্য পরিশোধ।
অল্প অধিক সবাই বিত্তবান,
মূলধন শুধু জীবনের মূল্যবোধ।
এখানে সবাই দুঃখী,
এখানে সবাই সুখী,
হাসি কান্নার ছলে,
প্রাণেপ্রাণে মাখামাখি।
ভালবাসা আর দুঃখ পাবার ছলে,
অসীমের পানে ছুটে চলা,
প্রতিদিন, প্রতিক্ষন, প্রতিপলে।
শিরোনামহীন
পুষ্প সুশোভিত আলোকোজ্জ্বল মঞ্চে
ক্ষয় রোগাক্রান্ত বিগতযৌবনা শিল্পী
বেসুরো গান ধরে।
অন্তরা আর সঞ্চারী জুড়ে খুশখুশে কাশি,
তবলায় তাল নেই,
হারমোনিয়ামে হাওয়া নেই,
ঝংকার নেই সেতারের তারে।
মুদিত নয়নে বেতালের মুগ্ধতা নিয়ে
বিদগ্ধ শ্রোতা মাথা নাড়ে হেলে দুলে,
যেন রাতের আধার শেষে
কোনদিন আসবে না ভোর।
উল্লাস নাচানাচি, মুহুর্মুহু করতালি
বাজখাঁই গলা ছেড়ে
সমস্বরে সীৎকারে,
ওয়ান মোর, ওয়ান মোর, ওয়ান মোর।
আরও পড়ুন
Monday, August 3, 2020
কবি যারিন তাসনীম এর কবিতা গুচ্ছ - ইশক
প্রেমিক
গুটিকয়েক বসন্ত পেরিয়ে,
অম্লান বদনে,যেই তোমার দরজায় কড়া নেড়ে ছিলাম,
অমনি তোমার উড়ো প্রশ্নের আঘাত,
ক্ষুরের মত হৃদয় ছিন্নভিন্ন করেছিলো।
অবশ্য তা আমি বুঝতে দেয়নি,
হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম,
এই আশায়,হয়তো দীর্ঘদিন পরে দেখা হবার
আনন্দে বুকে টেনে নিবে !
কিন্তু তুমি তো
বুক পকেট থেকে টুপ করে ৫ টাকার আধুলি দিয়ে বলেছিলে
বিদেয় হওতো বাপু ।
তবে এমন তো কথা ছিল না,
তুমি তো প্রেমিক, শত শত জনম পেরিয়ে,,,
তোমার দ্বারে যে রুপেই দাড়ায় না কেনো?
তোমার তো এক পলকে চিনে নেবার কথা,,
তাহলে কি, আমার জানা প্রেমিকের সংজ্ঞাটা ভুল ছিল?
আমার পিপাসিত আত্মা ঘুরে ফিরে শুধু তোমাকেই
খোঁজে,
এই খোঁজ অনন্তকাল ধরে চলছে,এ যেন মহা সমুদ্র
ছেঁচে গভীর থেকে এক অদৃশ্য খাজনার বাক্স খোঁজার
মত,
কত শত বছর পেরিয়ে কত সহস্র প্রেমিকের ওষ্ঠাদেশ ছুঁয়েও মেলেনি সেই পিপাসা মেটানোর উৎস
হাজারো রজনী স্বার্থবাদী প্রেমিকের বাহুডোরে কাটানোর পরে মনে হলো, উফফ তুমি হীন তৃষ্ণার্ত জীবন আর কত জন্মে আমি পাবো?
তুমি জানো বিছানার পর বিছানা পাল্টেছি,,সঙ্গী ও পাল্টে দেখেছি, তোমাকে পাওয়া যায় কিনা,?
নাহ আমি প্রতিবারই হতাশ বদনে উল্টো রথের বৃষ্টি বিলাস করেছি,
আর আশায় বুক বেঁধেছি এবার না হলেও ফের পরের রথে আমার জগন্নাথ ঠিক আসবে।
রহস্য
আমিই সকল ক্লান্তি তোমার
আবার শরীরজুড়ে শান্তি,
ঠোঁটের কোণে হাসির কারণ
মিছে মায়ার ভুল-ভ্রান্তি
আমিই তোমার দেহ-তরী
রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছি
যন্ত্রণা হয়ে হৃদয়ে ঢুকে
সুখের মলম লাগিয়ে রাখি
আমিই তোমার বুকের ব্যামো
পথ্য রুপে আমিই আছি
দেহের মাঝে রুহ আমি,
দুরে থেকেও কাছে থাকি,
আমিই তোমার রাগ হয়ে
অভিমানে প্রেম ছড়ায়
আমি তোমার ঘৃণা হয়ে
লোভের ভেলা ভাসায়
আমিই তো দুঃখের কারণ
তোমার সুখের প্রলোভন
জীবন নামের মায়া নদীতে
বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ
বন্ধুর পথে চলার সাহস
আমিই তোমার আশা,শেষ ভরসা বটেও
আমি পুণ্য,আমিই পাপ
অভিশাপ ও আমি,
আমিই তোমার আশীর্বাদ
আমি কর্ম,আমিই ফল
চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল,
ভোরের সূর্য, পাখির ডাক,নির্মল হাওয়া,
দুপুর বেলা প্রখর তাপে অস্থিরতা
দুপুর গড়িয়ে বিকেল যেনো স্বস্তির হাতছানি,
গোধূলি লগ্নে সূর্য্যি ডোবার বিদায় বেলাও আমি,
নদীর টলমল জল,নৌকো ভরা জেলের দল,
নদীর মাছ,পেটের ক্ষুধা
ক্ষুধা মেটানোর রাস্তা যে সব,
ঘুর্ণিঝড়ে উথাল পাথাল ঢেউ
উদাস দুপুরের ঘরহীনের হাহাকার
শেষ বিকেলে বটের ছায়ায় আশ্রয়
বড্ড অট্টালিকায় উঠে মুখ ফিরিয়ে রই,
আমি পাহাড়, আমি ফসল,
আমিই ধ্বংস, আবার আমিই সৃষ্টি
আমি প্রেম, আমিই প্রেমিক,
আমিই চিরকাল বিপ্লবী
আবার আমিই রক্ষণশীল,
একদিকে আমি গড়ি,অন্য দিকে নষ্ট করি,
আমি তোমার অস্তিত্ব , তোমার অনুভুতি
আমি যন্ত্রণা দানকারী,
সেই আমিই তো উপশমকারী,
আমি উপকারী হয়ে উপকার করি,
আমিই সব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করি,
আবার আমিই মহা দানবীর,
তোমাকে জ্বালায় আমি,আবার আমি নিজেও জ্বলি,
পঞ্চমী তে করি প্রেম নিবেদন
ষষ্ঠী তে তার বোধন,
সপ্তমী তে যায় ছেড়ে
আমিই এসে অষ্টমী তে ধরি হাত,
নবমী তে ঘুরবো বলে
দশমি তে যায় বিসর্জন
আবার আমি লক্ষ্মী হয়ে আসি ফিরে
কখনও বা সরস্বতী
কলিযুগের রাধা আমি
কলির কেষ্ট সেও আমি,
তোমার বুকে আমারই তো বসবাস,
রক্ত হয়ে শিরায় উপশিরা চলাচল,
আমিই তোমার মুখের বুলি,
প্রতিবাদী আন্দোলন
রাজপথে লাশের মিছিলে,মানবতার আত্মহনন
আমিই তাল সুর ছন্দ মিলিয়ে
দেয় তোমায় আনন্দ
আমিই অনুভূতি হয়ে কবিতায় পাই ঠাঁই,
আমি শিল্পী, আমি আঁকি জীবনের সব চিত্র
অভিনয়ে মাতিয়ে রাখি মর্ত,
আমিই করি ভেদাভেদ, আবার বুক ফুলিয়ে বলি আনো সমতা,
আমি ধর্ম, ধর্মের নিয়মে অধর্ম দেখে বিস্মিত হয়ে বলি
আমার সৃষ্টি কত বোকা???
আমি বহুরূপী, আমি শুধু ধরা দেয় প্রেমিকের চোখে,
আমি থাকি তোমাদের মাঝেই,
কেনো খোঁজ দিগ্বিদিকে??
জীবন
পূর্নিমার আলোয় চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে রুপন্তির অভিকের কথা মনে পড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর খুনসুটি আজও ওর একাকিত্বের সঙ্গী।
ঠিক সে সময় প্রত্যয় এসে বললো, মাম্মা মাম্মা পাত্তা পাত্তা(পাস্তা,পাস্তা) খাবো,
আচ্ছা মামনি চলো বানিয়ে দিচ্ছি,
যে মেয়েটা কখন রান্নাঘরে পা রাখেনি,কখনও ইচ্ছে করেও চুলার ধারে যায়নি,আজ তাকে সব করতে হচ্ছে,
চুন থেকে পান খসলেয় মহাবিপদ, রুপন্তিও সব যেনো মিষ্টি হাসি দিয়ে মেনে নিতে শিখেছে।
যে মেয়েটা ওজন বেড়ে যাবে তা জেনেও খাওয়াতে কখনও ধ্যান দেয়নি,
আজ সেই মেয়েকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কোমড়ের ভাজ টা ঠিক আছে কিনা দেখতে হয়,কারণ ওখানে যদি চর্বিরা বাসা বাঁধে তাহলে স্বামীর কটুক্তির থেকে বাঁচা মুশকিল,
আজ মেকাপ করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে হয়,
কিন্তু এইতো সেদিনের কথা পড়াশোনার চাপে কালো দাগ পড়া চোখ নিয়েও অভিকের সামনে দাঁড়ালে অভিকের কাছে মা দুর্গার চেয়ে কম কিছু মনে হত না,
আচ্ছা ভালবাসা আর সুখ টা একসাথে কেনো থাকতে পারেনা??
সবাই জানে রুপন্তি খুব সুখে আছে,স্বামীর মোটা টাকার মাইনে হাতে নিয়ে থাকে, আগের চেয়ে সুন্দরী হয়েছে, মেয়ে স্বামী নিয়ে সুখে ঘর করছে,
কিন্তু রুপন্তির মনের খবর কেউ রাখছেনা, অভিকের মত তার স্বামী তার শরীর খারাপ নিয়ে উতলা হয়না,
ওসব নাকি ঢং, এই তো বিয়ের আগের কথা সামান্য ব্যাথা হলেও, অভিক কত উতলা হত, বারবার জানতে চাইতো এখন কেমন আছো, ব্যাথা কমেছে, ওষুধ খেয়েছো,
আর যদি কোন রকমে জানতে পারতো অনিয়মের জন্য ব্যাথা বেড়েছে, তাহলেই মুখ ফুলিয়ে আরও অনিয়ম করতে বলতো,
সেই অভিমান টাও কত যে ভালো লাগতো রুপন্তির, ভালবাসার মানুষ টা এত ভালবাসে যে অন্য কারোর কাছ থেকে সামান্য অবহেলাও সহ্য হয়না।
সারাজীবন যখন পাশে থাকার অনুমতি দাওনি ঠাকুর, তাইলে ভালবাসার জন্য অনুমতি কেনো দিলে, আজ অন্তত সংসার টা নিয়ম করে করতে পারতাম।
এই সব প্রশ্নই রুপন্তির মনে ঘোরপাক খেতে থাকে,
বিয়ের পর রুপন্তির স্বামী বলেই দিয়েছিল, লেখাপড়া করেছো ভালো কথা,চাকরি -বাকরি করা চলবেনা।
আমাদের পরিবারের মেয়ে বউরা চাকরি করেনা,
রুপন্তিও মাথা নিচু করে মেনে নিয়েছিল
কারণ ও জানতো যেদিন ও নিজের হাতে ওর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন গলা টিপে হত্যা করেছিল,
স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক শুধু মাত্র রাতে বিছানায় পরিপাটি হয়ে মনোরঞ্জন করা পর্যন্ত,
স্বামী তো পরমদেব, তাঁকে আরাধ্য দেবতার মত অঞ্জলি দিয়ে পুঁজো দিতে হয়,
কিন্তু রুপন্তির তা মনে হয়না, রুপন্তি তার স্বামীর মধ্যে আপাদমস্তক স্বার্থপর রক্তমাংসের অমানুষ খুঁজে পায়,
তাকে সে কি করে আরাধ্য করবে?
Monday, July 27, 2020
নব শওকত এর কবিতা গুচ্ছ || ক্রুশবিদ্ধ কবি।
ক্রুশবিদ্ধ কবি

ছবিঃ মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।

Sunday, July 26, 2020
শামীম রেজার কবিতা গুচ্ছ - যে পথে আলো আসে।
উৎসর্গ : তাকে।
যে পথে আলো আসে
প্রশ্ন থেকে আলো
আছড়ে পড়ে শব্দগুলো
মস্তিষ্কের কোষে কোষে
টের পাই মস্তিষ্কজীবী
বুক তার এখনও বেচে আছে
পালসগুলোকে অস্বীকার করে তৃতীয় স্বত্ত্বা
মুচকি হেসে বলে
আয়নায় চোখ রাখ
আশ্চর্য আয়নার কোথাও কোন ক্ষত নাই
দাত নখের ছাপ আছে
মধ্যরাতে নিজেকে খুলে-পাল্টেছে-সাজিয়েছে-রাঙিয়েছে
কত বেসাতি পোষ্য-অপোষ্য গৃহস্থালি।
চে শার্টের কলার থেকে ঘাম রক্ত রক্ত
সেই রক্তে নিজের ছবি আকতে গিয়ে আতকে উঠি
দেখি খন্ড-বিখন্ড ছায়া ক্ষরিত আদিম উপত্যকা
লালন মঞ্চে বিজিত কলিঙ্গ সম্রাট
দ্বন্দ্বমুলক বস্তুবাদ গুনতে চাই
অথচ ক্রুশেড কেন হতে পারে
তখনও জানে না হাড়িরাম সম্প্রদায়।
প্রতিফলনের সামনে একটা ঘোমটা পড়া কলাগাছ দেখি
কলাগাছটা দেখছে একজোড়া গজদন্ত।
প্রথম পুরুষ প্রশ্ন করতে ভুলে যায়
দ্বিতীয় পুরুষ ভুলে যাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে
প্রকৃতির অংশজ আবিষ্কার হেতু প্রশ্ন করতে উদ্যত তৃতীয়জন
এবং অবশ্যই প্রশ্ন থেমে গেলে সুখি হয় মানুষ
উত্তর জন্মের প্রেতাত্মা হয়ে ঘোষণা করি ভালো আছি
সমাজ রাষ্ট্র আর কতটুকুই বা বাস্তুক।
বোধের তৃতীয় নয়ন আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে যা দেখেছে
তাকে নিত্য অবিনশ্বর বলে।
বস্তুত আলো কখনই প্রবঞ্চক হতে পারে না
প্রশ্নের গর্ভজাত আধারের বুক ফেড়ে নিজ স্বরুপ উন্মোচন করে।
ভালো থাকার শর্ত প্রশ্নের পাটাতন থেকে উৎসারিত হয়
সমগ্র চরাচরে।
এবং নির্লিপ্ত ভালো থাকা
নিজেকে নির্লজ্জের মত বলে ফেলে ভালো আছি
বেহায়ার মত কপটতা করে বলে
আপনি কেমন আছেন।
যেভাবে খুন হয় আমাদের মায়ের ভোর পাখি
আমি আগুন হতে পারিনি বলে আমার পিতা হাপড় হতে পারিনি
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে
অনুমিতি মান হিসেবে
পিতাকে ক্ষুদ্রশিল্পী ধরা হয়েছে বার বার।
অতিশুক্ষ্ম হৃদয় কোণে ঠিকই
তাকে পুরুষের বিজয় কেতন
উড়াতে দেখেছি পরাজিত সভ্য ভাগাড়ের উপর।
দেখো জুলিয়াস সিজার
আমাদের বুক তবুও কয়লা শিল্পে কেমন রাঙা হয়ে ওঠে দিনান্তে
কিন্তু খুব অদ্ভুতভাবে আমাদের মা শীতল জলের ন্যায় পড়ে থাকে
আমাদের মা কে কখনও বেহুলা হতে দেখিনি
কিন্তু তাকে ভাসতে দেখেছি
ভাসতেই দেখে যাচ্ছি।
ক্লিওপেট্রা একে আপনি ক্ষুদ্র মহান লৌহ শিল্প বলতে পারেন।
লোহার ডাল সিদ্ধের কাজটা আপনি কখনও করেছেন?
জানেন কোন ছিদ্র বন্ধ করলে ফুটো কলসিতেও জল বয়ে আনা সম্ভব?
আমাদের যৌবনকালে বাবা লাল রঙা নরম লোহার গল্প শুনিয়েছেন
আর মা শুনিয়েছেন ভোরের পাখিদের নীড় ছেড়ে যাওয়ার শব্দ।
পাখিদের শব্দে আমাদের হৃদয় ক্ষণিক ব্যাকুল, মোহিত থাকলেও
আমাদের চোখে থাকে ছিটকে পড়া আগুনের ফুলকি,
প্রতিদিনই এমন হত্যা দিয়ে শুরু হয় পৃথিবীর ভোর।
আমাদের মা বুকের হাড় পুড়িয়ে জীবনের জ্বালানি হয় রোজ
আর আমরা হয়ে উঠি বাবার হাতের সান দেওয়া অস্ত্র
যা দিয়ে আমাদের পুরুষ বাবা খুণ করে আমাদের
মায়ের ভোরের পাখি।
বিপ্লব ও কবিতা
আজ অব্দী একটা প্রেমের কবিতা লেখা হলো না।
বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর থাকা মানুষ অপ্রেমে থাকতে পারে?
কেমন বিপ্লবী তুমি কবি?
ঘাতকের মতো কেবল ওতপেতে বসে আছো
সুযোগে সওয়ার হয়ে খুণ করবে অপ্রেম যাপনকে
তাতে উল্লাস মিলবে
প্রেম ধারা দিবে কি?
ঔ শোন ধরাশায়ী জীবনের প্রলাপসমূহ যারা প্রেমের নামে জীবনকে চিনতে গিয়েছিল
ছদ্মবেশী বিপ্লব যাদের প্রেমকে ছুতে পারিনি
একবার জীবন থেকে বিচ্যূত হয় তো আরেকবার প্রেম থেকে।
আধুনিকতার ঘোর তোমার এখনও কাটেনি কবি
তাই ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র্য র নোংড়া ঘুলঘুলিতে হারিয়ে ফেলছো গন্তব্যের খেই
এ মাটি তো প্রেমের কথা বিপ্লবের মুখে বলে
শিকড় পৃথকীকরণ বিদ্যা নিয়ে তুমি গাছ বাচানোর বিদ্যা ফলাতো এসেছো কবি!
কিন্তু অনায়াসে বৃক্ষদের দুঃখ নিয়ে রচে যেত পারো দিস্তার পর দিস্তা কবিতা
তাতে কি বৃক্ষের প্রেম থাকে?
বিপ্লব থাকে?
প্রেমহীন বিপ্লব আর বিপ্লবহীন প্রেমের প্রয়াস
উচ্ছিষ্ট সম্পর্কের ছিনালীপনা ছাড়া আরকি?
ওতে সাময়িক তুষ্টি মেলে বৈকি
স্বস্তির হদিস মেলে কি?
এর বাইরে আসেন ঘাস-লতা-পাতার কীর্তনে কাটায় জীবের বাদবাকি আর্তি।
প্রেমের কবিতা মেলে না
মেলে না বিপ্লবের কবিতা
অথচ দুনিয়াতে প্রেমের বিপ্লব খুব প্রয়োজন
বিপ্লবে প্রেম খুব দরকার
আমরা কেবলই বিভক্ত হচ্ছি
আমি কেবলই বিভক্ত হচ্ছি প্রেম থেকে বিপ্লবে
বিপ্লব থেকে প্রেমে
অথচ তারা অবিচ্ছেদ্য শর্তে থাকে জগতের আগামীর প্রশ্নে
কবি তুমি কোন শর্তে?
প্রতিবিম্বে এক চক্র
আমাদেরই মারা গিটগুলো যখন ফাস হয়ে টান দেয় আমাদের গলা
অবশ্য যাদের গলা নেই আছে জিহ্বা আর আছে অদৃশ্য বন্দিত্বের স্বাধীনতা
বিপক্ষে গেছে তারা
এই যে গিট আর তারা মিলে হয়ে গেছে অবিনশ্বর
সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি র বলয় বিভক্তের মোহে হয়ে গেছে দীর্ন
প্রেম অথবা প্রার্থনা অজস্র বলয়ে হয়েছে বিচ্ছিন্ন
ফলত অখন্ড পাটাতন পায়নি আমাদের দ্রোহ অথবা ভালোবাসার ক্ষেত্র
কি এক মহা বিরহের সারথী হয়ে ক্ষুধা আর অন্যয্যতার চক্রে আবর্তিত হয়েছে
এ যে মহাকাল থেকে মুক্তি না পাওয়া তাদের
শরীর থেকে শুষে যাওয়া রক্তের উপর দাঁড়িয়ে প্রজন্মান্তর
স্বপ্নের ভিতর হারিয়ে ফেলা পুনরাবৃত্তিক পথে
সভ্যতা বুননের ঊষাকালে তুমি আমি আমরা
প্রত্যয়ের কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলাম
অনাগত ভবিষ্যৎকে চুম্বন করে
আমাদের ঠোটে পেরেক ঠুকে দিয়ে সে
আজ অঞ্জলি হয়ে গেছে প্রেতপুরী র
আমাদের ভাষা হারিয়েছে প্রকাশ ক্ষমতা এবং অর্থবহতা
দীর্ঘ অমানিশার ভিতর জাপটে ধরতে গিয়ে দেখি
বহুপথ ঘুরেফিরে কত শত অনুসন্ধান শেষে
ধুকছে তোমাদের ছায়া
এই ঐতিহাসিক চক্র থেকে বের না হতে পারা তুমি তোমরা
অথবা আমি আমরা
দ্বিপক্ষীয় হয়ে যায় বারবার
অভীষ্ঠতার শর্তে আমাদের তৃষিত লক্ষ্য
প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি
কেবল যোজন দ্বিধা আর ঐতিহাসিক ভ্রুকুটি
শাসন করে আমাদের দুরত্ব
ব্যবধানের গৌরবে আমরা হয়ে উঠি
একেকজন তপস্যাস্নাত শয়তান।
নিশিতা
জন্মের বিহ্বলতাই জেরবার হয়েছি বারংবার
অসংখ্য ঘুম ভাঙা রাত ফুপরে খুজেছে হাসনাহেনার ঝরেপড়ার সঙ্গ
বিভঙ্গের দহনে মুখ গুমড়ে পড়ে থাকে অপেক্ষার সকাল
তারপর ভোরের স্বপ্ন ডানা মেলে উড়ে গেছে নীল পাহাড়ের দেশে।
পাথুরে পাহাড়ের বুক ভেঙে বের হয়ে আসা জলের স্ফটিক বলে গেছে
দ্বিধায় উথলে ওঠা অভিমানের বলক
ভীরু সংশয়ের পাড় ভাঙতে পারিনি
বরং গন্ধকের চূর্ণ হয়ে মিশে গেছে বহ্নিমান হৃদয়ের শোণিতে।
এইবার বুঝি রাতজাগা ফসলের গান গাইবে ঘুমিয়ে থাকা অনাবাদী নিস্ফল ভুমি
জন্মের অর্থ কি জানো নিশিতা?
দ্রোহ, প্রেম আর বিপ্লবে
রাতের সংশয় আর বিহ্বলতা পেরিয়ে নিশ্চয়
আমরা একটা ভোর পাবো পেয়ে যাবো
মনে রেখ এ পৃথিবী মানুষের হবে।
আর আমরা সেই স্বপ্নে চলো বাকিটা রাত পেরিয়ে
যাই মহাকালের আহ্বানে।
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
পেইজ : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি
মেইল : shimul2016.bsm@gmail.com



