Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Wednesday, October 27, 2021

ইমোশন বনাম রিয়েলিটি - ভূবন মুন্সী।



ইমোশন বনাম রিয়েলিটি




আপনি দেশ মানুষ নিয়া ভাবতে এলেন কেন ভাই? 
দেশ দুনিয়া জাহান্নামে যাক, আপনার কি? বিপ্লবের জন্য, বদলের জন্য কেউ কী আপনাকে ভাড়া করেছে? জোর করেছে স্লোগান দিতে? মিছিলে যেতে?

পৃথিবী যে গতিতে পাগলা হয়ে যাচ্ছে - একে লাগাম পড়ানো চাট্টিখানি কথা না! আপনার ইমোশন, রিয়েলিটি, ক্যাপাবিলিটি, নলেজ আর দম লাগবে বিপ্লব করতে। ধৈর্য লাগবে।

কী, আপনার অনেক ইমোশন? কত রাত মানুষের কথা ভেবেছেন? কেন মানুষের কথা ভেবেছেন? মানুষের মুক্তির জন্য, শান্তির জন্য? নাকি বেহুদা ইমোশন?

ইমোশন দিয়া কিচ্ছু হবেনা? তবে ভাই, আপনি গতি আনবেন কোত্থেকে? অন্যের দুঃখে ব্যাথিত হবেন কি করে?

রিয়েলিটি? হ্যা, এটা লাগবে। থাকতে হবে। কিন্তু আপনে রিয়েলিটি রিয়েলিটি কইরা চিল্লাইতাছেন ক্যান! বাস্তবতায় আপনি বেকার, দূব্বল, বাপ চাচা কেউ এমপি মন্ত্রী না। ভাই, এতো রিয়েলিটি নিয়া মানুষের কথা ভাবোন যায়? কার্ল মার্ক্সের রিয়েলিটি কী ছিলো? বঙ্গবন্ধুর রিয়েলিটি?

এতো রিয়েলিটি নিয়া মনুষ গুনতে আইছেন? দেশ দুনিয়ার মানুষ হিসাব করতেছেন? আরে আপনার পরিবারে কয়টা মাথা কনতো! কী চারটা? পাঁচটা? আরেকবার হিসেব করুন। দেখুন তো আপনার বাপ ভাইয়ের মাথাটা বাদ পড়লো কিনা! অতি বাস্তবতায় বুঁদ থাকা ব্যাটারা বউ সন্তান ছাড়া কারো মাথা গুনতে পারেনা। আপনার দ্বারা বিপ্লব, বদল, সঙ্ঘবদ্ধতা? সম্ভব না ভাই।

ধৈর্য? কতদিন ধরছেন ভাই? কী, হিসাব নাই! হ্যা ভাই, এটাইতো ঠিক। আপনি জীবন পুড়িয়ে মানুষের কথা ভাবছেন, এখানে তো হিসাব থাকবোই না। শুধু মানুষের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যতদিন বাঁচবেন, ততদিনই সংগ্রাম করে যাবেন।

আপনি কী পাইলেন? না, আপনি কিচ্ছু পাননি। পাবেনও না! সত্যি বলতে কী, আপনি কী ডিমান্ড রাখেন? কী প্রত্যাশা আপনার? দেশ দুনিয়া যদি আপনার সংগ্রামের মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে, তবে তো সব মানুষ সুবোধ! সুবোধ সমাজের জন্য আপনি এতো ঘাম ঝরাচ্ছেন কেন?

আর যদি সমাজে সুবোধ না থাকে, তবে আপনি কারো কাছে কিছু, এমনকি সম্মান প্রাপ্তিও আশা করতে পারেন না। আদম হতে মুহাম্মদ (সঃ), সক্রেটিস হতে চে, গৌতম হতে  লালন তাঁরা কী প্রত্যাশা করেছিল?

দেখুন, আপনার চোখের সামনেই আদালত আড়াই হাজার বছর পরে সক্রেটিসকে নির্দোষ ঘোষণা করলো। এইতো গত কাল কিংবা পরশু বঙ্গবন্ধুকে ঢাবি তার ছাত্রত্ত্ব ফিরিয়ে দিলো।

সমস্ত সাজানো অপরাধ আর অপবাদ কাঁধে নিয়া তাঁরা একটা জিনিসই প্রত্যাশা করতেন, তা হলো দেশ দুনিয়া মানুষের মুক্তি। তাই না?

তাঁদের আক্ষেপ ছিলোনা, ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ছিলোনা। ছিলোনা, কারণ তাঁরা বন্দীদের জন্য লড়ছেন- কারাগারে, কাঁটাতারে, লোভে মোহে বন্দী মানুষ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু কী দিতে পারে?

ভাই, দমটা তো লাগবে। তেজ বিকাইলে চলবো? যতদিন দম টানতে পারবেন, ততদিন দম রাখবেন। দম না থাকলে আপনার সব কিছুতেই ভয়, দ্বিধা জাগবে। 

ঝিলাম নদীর তীরে পুরুর কথা আপনার মনে আছে? ব্যাটার দম ছিলো। স্বামীজীর কথা মনে করুন, ক্যামন দম! সেই সময় জাত ধর্ম নিয়া কথা কইতে লালনের দম লাগেনি? 

আপনি এইসব ঐতিহাসিক ঘটনা গুলা পৌরাণিক বইলা চালায়া দিয়েন না। ঐতিহাসিক সত্য, রিয়েলিটিকে নাটক ফটক বা ইমোশনালি আলাপ পাড়া ভাইবেন না। সবটাই রিয়েলিটি।

ইতিহাস তো থেমে যায়নি। ইতিহাস রচিত হচ্ছে। হতেই থাকবে। আপনার ইতিহাস। আপনি সিরাজ নাকি মীরজাফর? আপনার নাম আপনি নিজেই লিখবেন ইতিহাসের পাতায়।

ভূবন মুন্সী

Thursday, September 17, 2020

এবং সত্য কথা - এম ইকবাল।

মেসেঞ্জারঅবকসমোলজি



সত্য কথার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে- তুমি কাউকে সবসময় খুশি রাখতে পারবে না যদি সে সত্যের অনুসন্ধানী না হয়।


আমাদের সমাজটাই যেহেতু মিথ্যা আর পঙ্কিলতায় ডুবে আছে তাই আমাদের সবার জীবনে মিথ্যা-ই প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

আমাদের সমাজ যে মিথ্যা, অনাচার, অন্যায় আর পঙ্কিলতায় ডুবে আছে চারপাশে তাকালে এটা যে কেউ বুঝতে পারে। তবুও আমরা সবাই মনে করি নিজে যা করছি ঠিকই তো করছি। সেটাকেই আমরা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ভেবে মেনে চলছি।

কোন এক সময়ে এগিয়ে যাওয়ার শর্তে পূজিবাদী দর্শনকে পৃথিবী গ্রহন করলেও তা আজ কিছু মানুষের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। শিল্প, প্রযুক্তি আর মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকাশ হতে হতে আজ তা দানবে পরিনত হয়েছে। অল্প কিছু মানুষের হাতে চলে এসেছে পৃথিবীর অর্ধেক সম্পত্তি।

বলা হচ্ছে, পৃথিবীর ১ ভাগ মানুষের কাছে পৃথিবীর ৯৯ ভাগ সম্পত্তি চলে এসেছে। অন্যদিকে ৯৯ ভাগ মানুষের হাতে থাকে মোট সম্পত্তির ১ শতাংশ। আর এই ১ শতাংশের মধ্যে থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতায় কামড়া কামড়িতে ব্যস্ত। এদিকে আর্থিক মানদন্ডই সমাজের মুল মানদন্ড হয়ে উঠেছে। 

এই মানদন্ডে কে বড় কে ছোট হলাম এই হিসেব করতেই আমাদের জীবন কেটে যায়। একে অপরকে হেয় করতে, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে বিভেদ করে চলছি। এই বিভেদ করার কূটকৌশল ও শিক্ষানীতি সমাজে তারাই জারি রেখেছে, যাদের হাতে বেশিরভাগ সম্পত্তি বন্দি হয়ে আছে। একদিকে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢালছে সমাজের চলমান দৃষ্টিভঙ্গি টিকিয়ে রাখতে আর অন্যদিকে শিক্ষাখাতে যথাযথ মান বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ করতে সরকারকে বাধা দিচ্ছে।

অথচ এই নীতি চলমান থাকলে পৃথিবীর ৯৯ ভাগ সম্পত্তিই অচিরেই হাতেগোনা কিছু পুজিপতিদের হাতে চলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারা চাইলেই এটা করতে পারে। ফলে ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, ঋণগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, কর্মহীন বেকারের সংখ্যা বাড়তে থাকবে, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই বাড়তে থাকবে, সামাজিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করবে, পূজিপতিরা নতুন নতুন ফর্মূলা এনে দাড় করাবে মানুষের সামনে- মুখের সামনে মুলো ঝুলানোর মত, সর্বোপরি মানুষ কৃতদাসের চেয়েও মূল্যহীন হয়ে পড়বে। পূজিপতিদের দয়া, দান-খয়রাত আর ঋণকার্যক্রম হয়ে উঠবে সাধারণদের বাঁচার একমাত্র মাধ্যম।

একদিকে চলবে কিছু মানুষের বিলাসবহুল জীবনযাপন অপরদিকে দেশজুড়ে চলবে অসহায় মানুষের আর্তনাদ। এমতাবস্থায় বার বার দূর্ভিক্ষ, মহামারী হতেই থাকবে। এগুলোই মানব সৃষ্ট বা কৃত্রিম দূর্যোগ। অথচ পৃথিবীর তাবৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ব্যক্তির হাতে সম্পত্তি কুক্ষিগত হওয়ার এই পথ খোলা রেখেছে। এভাবে যতখুশি সম্পত্তি অর্জন করা বর্তমান ব্যবস্থায় বৈধ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

কথাটাকে এভাবও বলা যেতে পারে, নিজ মেধা, শ্রম, যোগ্যতায় কোনো মানুষ যদি সারা পৃথিবীর সকল সম্পত্তির মালিক হয়ে যায়, আর বাকি সমস্ত মানুষ যদি ভুমিহীন, সম্পত্তিহীন, খাদ্যহীন, বস্ত্রহীন হয়ে যায়, এমনকি অসুস্থ হয়ে মারাও যায় তাতেও ভু-সম্পত্তির মালিককে দায়ী করা যাবে না। সে চাইলে তার সমস্ত সম্পত্তি অনাবাদী রাখতে পারে, তার সমস্ত অর্থ মাটির তলায় জমা করতে পারে, কোনো মানুষকেই তার সম্পত্তির ভাগ নাও দিতে পারে তবুও সে আইনত বৈধ।

পৃথিবীর বর্তমান ব্যবস্থায় তাকে দোষী বলার কোনো সুযোগ নেই। সত্যিকার অর্থেই আমরা এমন একটা ব্যবস্থার মধ্যে বাস করছি এবং এর জন্য অনেকটা আমরাই দায়ী। নিজের ঘাড়ে সমস্যার বোঝা না চাপলে এর তীব্রতা কেউ অনুভব করি না। যেন নিজে বাঁচলেই সব সমস্যা শেষ। চারপাশের সংকটকে নিজের সংকট হিসেবে ভাবতে চাই না তবে চারপাশে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাই ঠিকই। আমাদের এই চরিত্রটাও চলমান ব্যবস্থার ফল। আমাদের চরিত্রটা এই চলমান ব্যবস্থার মতোই স্বার্থান্ধ, মিথ্যা আর অমানবিক।

আসলে মানুষের জন্য বর্তমান পৃথিবীর চলমান ব্যবস্থাটাই অবৈধ হয়ে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দরকার নূতন ব্যবস্থা।

সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জীবনের জন্য এত বড় নির্মম সত্য সামনে চলে আসলেও আমরা সত্যকে একপাশে ঠেলে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবনকেই সত্য থেকে বহুদূরে ঠেলে দিয়েছি। তাই সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও জীবনের সাথে সত্যের সম্পর্ক না থাকার জন্য সত্যকে ঠিকমতো চেনা হয় না, জানা হয় না, উপলব্ধি করা হয় না। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন কথা যদি আমার ফেবারে থাকে তবে তা আমরা সত্য বলে মেনে নেই, খুশি হই, আর ফেবারে না থাকলে তা মিথ্যা বলে ছুড়ে ফেলি, অখুশি হই।

তাই কাউকে খুশি করার উদ্দেশ্য নিয়ে সত্যের সাথে থাকা যায় না। সত্যের সাথে থাকতে হলে নির্মোহ হতে হয়। সত্যের অনুসন্ধান করতে হয় জীবন ও জগৎকে সঠিকভাবে চেনার জন্য, উপলব্ধি করার জন্য, চিন্তা, লক্ষ্য ও কর্মে জগতের সাথে জীবনের ঐক্যতা স্থাপনের জন্য, প্রকৃতির সকল উপাদানের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে ভালো থাকার জন্যে, নিজে ভালো থেকে সবাইকে ভালো রাখার জন্য।

আপডেট পেতে পেইজএ লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।



Saturday, August 1, 2020

রোবটিক সভ্যতা || ভূবন মুন্সী।




যন্ত্রের কটকট শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠি। চেয়ে দেখি কৃত্রিম সূর্যটা প্যাঁচার মতোন অনুভবহীন চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। সরল প্রযুক্তি দিয়ে দাঁত ঝকঝকে করে বেরিয়ে পড়ি রাস্তায়। একবিংশের নতুন সকাল। শতাব্দীর আকীকাটা জরুরী। কোন ডাকনাম যুৎসই?

যন্ত্র নিয়ত নিজেকে বিকাশ করে দখলে নিচ্ছে মানুষের স্থান। নির্মল প্রকৃতি নির্বাসিত, তাই যান্ত্রিক প্রকৃতিতে মানুষের বোধে অটো নেমে এল রোবটিক প্রেম। যান্ত্রিক সংসারে মানুষ গুলো জৈবিক রোবট। জন্মানো শিশুরা স্মল টয়।

জৈবিক রোবট গুলো টয়দের শিক্ষা দিতে খুলে বসে স্কুল নামের ডিজিটাল মার্কেট। প্রশিক্ষত সিনিয়র জৈবিক রোবট গুলো স্মার্ট টয়দের ট্যাকনিক্যালি কোয়ালিফাইড করে গড়ে তুলে। টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরির দুই দশকেই রোবটিক স্বরূপে ডানা মেলে মানুষের সভ্যতা, মূখ্যত আজ ডাকনাম রোবটিক সভ্যতা।

নিকাহ শব্দটা বিলুপ্ত হয়ে ওঠে আসে লিভ টুগ্যাদার। খাদ্য গ্রহন এখন এনার্জি চার্জিং, সেক্স ইজ ওয়ান কাইন্ড অব গেমিং। চোখটা রোবটিক লেন্স আর বোধ এক প্রকার সেটাপ প্রোগ্রামিং।

যন্ত্র আপন বৈশিষ্ট্যেই বোধহীন, মৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় যা কিছু করে তা পূর্ব নির্দিষ্ট বিধায় তা অভিনয়। শব্দ বা দৃশ্য গ্রহণের পর স্পন্দন জাগেনা বলেই মৃত কিংবা ডাকনাম রোবট।

আজ জৈবিক রোবট গুলো নিয়ে পৃথিবীতে বিদ্যমান রোবটিক সোসাইটি। ভাব বিনিময় নেই, আছে সিগন্যাল  সেন্ডিং রিসিভিং। কথা শব্দ নেই, আছে যান্ত্রিক সাউন্ড। সব মত পথ হ্যাঙ হয়ে যায় যান্ত্রিক সভ্যতার টাচ পেলে। সব ব্যার্থ হয়ে যায়।

রোবটিক পথে টার্ন করা এ প্যারালাইজড সভ্যতাকে ইউটার্ন করতে শুরুতেই প্রয়োজন- মানুষ তুমি মানুষ হও। জৈবিক মগজে যে মানবিক আর্তির বসবাস, তাকে যান্ত্রিক জটিলতা মুক্ত করতেই প্রয়োজন সাংস্কৃতিক সংগ্রাম।

আপন হৃদয়ের কম্পন যে বুঝে, সে অবশ্যই বুঝবে অন্য বুক। যে শুনতে পায় নিজ হৃৎপিন্ডের গমগমা ধ্বনি, সে অবশ্যই কালীক আর্তি শুনতে পাবে। আর যারা বধির, জনমান্ধ নয় তারা অবশ্যই রোবটিক বুক চিড়ে বেরিয়ে আসবে মানব প্রেমের সওগাত হাতে।

জন্তু-জানোয়ার বা যান্ত্রিকতার ফাঁদ হতে বেরিয়ে আসাই এ শতাব্দীর প্রধান চ্যালেন্জ।

৩০.০৭.১৯


 
রোবটিক সভ্যতা


Wednesday, July 29, 2020

বিশ্বায়ন,অর্থনীতি ও রাজনীতি এবং আমার ভাবনা || মেহেদী হাসান।

মেহেদী হাসানের কলমে মেসেঞ্জার অব কসমোলজিতে উঠে এসেছে বিশ্বায়ন, রাজনীতি ও অর্থনীতির ভাবনা সমূহ। বদলে যাওয়া বিশ্বের নতুন রূপ আবিস্কারের প্রয়াস আর্টিকেলের পুরোটা জুড়ে। পুড়োটা পড়ুন। মেসেঞ্জার অব কসমোলজির সাথে থাকুন।




বিশ্বায়ন,অর্থনীতি ও রাজনীতি এবং আমার ভাবনা



বিশ্বায়ন

বিশ্বায়ন বিংশ শতকের শেষভাগে উদ্ভূত এমন একটি আন্তর্জাতিক অবস্থা যাতে পৃথিবীর বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা দৈশিক গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তঃদেশীয় পরিসরে পরিব্যাপ্তি লাভ করেছে। এর ফলে সারা বিশ্ব একটি পরিব্যাপ্ত সমাজে পরিণত হয়েছে এবং অভিন্ন বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান,উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ যুগপৎ অংশ গ্রহণ করছে।

এটি পারষ্পরিক ক্রিয়া এবং আন্তঃসংযোগ সৃষ্টিকারী এমন একটি পদ্ধতি যা বিভিন্ন জাতির সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও মিথস্ক্রিয়ার সূচনা করে। এই পদ্ধতির চালিকাশক্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আর এর প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি।

বিশ্বায়ন শব্দটি বতর্মান সময়েবহুল ব‍্যবহৃত শব্দ।আমরা সকলেই কম বেশি এই শব্দটি ব‍্যবহার করে থাকি।তবে ১৯৬০ সালের আগে বিশ্বায়ন শব্দটি খুব একটা ব‍্যবহৃত না হলেও ১৯৬০ সালের পর থেকে ব‍্যাপক হারে ব‍্যবহৃত হতে থাকে এবং বতর্মানে এটি ব‍্যবহারের পাশাপাশি  ব‍্যাপকভাবে প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।সুতরাং প্রাচীনকাল ও মধ্যযুগে বিশ্বায়নের প্রয়োগ  ইউটোপিয়া হলেও বতর্মানে এর প্রয়োগকে আর ইউটোপিয়া বলা যাবে না। কেননা বতর্মান পৃথিবীর বাস্তবতায় কোন মানুষই বিশ্বায়নের বাইরে থাকতে পারবে না। বিশ্বায়ন আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করছে সেটা বুঝতে হলে আমাদেরকে বুঝতে হবে প্রযুক্তি আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করছে। কারণ প্রযুক্তিগত উত্তরণের সায‍্যুতায় পৃথিবী আজ গ্রামের থেকেও ছোট। পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে সেই খবর মিডিয়া বা সোস্যাল মিডিয়া মারফত আমাদের কাছে (না চাইলেও) খুব দ্রুতই পৌঁছে যাচ্ছে যেটা পূর্বে সম্ভব ছিল না।

বর্তমানে বিশ্বায়ন আর প্রযুক্তির প্রভাব  আমাদের উপর কতটুকু সেটা বুঝার উৎকৃষ্ট উদাহরণ কোভিড-19 ভাইরাস। এই ভাইরাসের  উৎপত্তি যেখানেই ঘটুক না কেন এর প্রভাব বা ভয়াবহতার হাত থেকে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রই রক্ষা পাচ্ছে না। উল্লেখ্য যে পৃথিবীর ইতিহাসে পূর্বের কোন সংকটই সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে এভাবে তটস্থ করতে পারে নাই। আবার এই বিশ্বায়নের ফলে আজ এটা সত‍্য হয়ে দাঁড়িয়েছে পৃথিবীর সমস্ত কাঁটাতার থাকবে কি থাকবে না।

অর্থনীতি ও রাজনীতি

বিশ্বায়নের সাথে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল কিছুই অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। সুতরাং অর্থনীতি ও রাজনীতিও এর বাইরে নয়। বিশ্বায়নের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আমরা গ্লোবাল অর্থনীতি ও গ্লোবাল রাজনীতি বলতে পারিণ(তবে এই দুই বিষয় নিয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন থাকতে পারে)। এই গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে পূর্বের অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে কিছুটা ধারনা রাখা প্রয়োজন।

আধুনিক কালে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবে বিশ্বের শাসনকার্য পরিচালনা করার জন্য অর্থনীতি ও রাজনীতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।( অর্থনীতি ও রাজনীতি কে একত্রে করে আলোচনার কারণ সেই প্রাচীনকাল থেকে এই দুইটা পৃথিবীর ইতিহাসে পাশাপাশি অবস্থান করে চলছে)।

1. কলোনিজম বা কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতি

এই কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 1492 সালে কলম্বাসের আমেরিকা দখলের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে 1941 সালের আগষ্ট মাসে তৎকালীন গ্রেট বৃটেনের সাথে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এর একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে। যে চুক্তির কথা 90% মানুষ জানে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার যখন ইংলিশ চ‍্যানেল পাড়ি দিয়ে বৃটেন দখল করতে আসে তখন বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল রুজভেল্ট এর কাছে সাহায্য চাইলে রুজভেল্ট এই চুক্তির মাধ্যমে বৃটেনকে সাহায্য করতে রাজি হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যদি মিত্র শক্তি জয়ী হয় তবে বৃটেন কলোনী প্রথা বিলোপ বা নিষিদ্ধ করবে এবং পরবর্তীকালে 1945 সালে নিষিদ্ধ হয়। আর 1945 থেকে 1949 সালের মধ্যে সমস্ত কলোনি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল বৃটেন, হল‍্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন এই ছয়টি দেশের হাতে।

2. নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতি

নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 1945 সালে রুজভেল্ট এর হাত ধরে জাতিসংঘ, আই এম এফ+বিশ্বব‍্যাক, এবং WBO প‍্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে 2009 সালে(2008 সালের অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে )। এই নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতি  প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ছয় পান্ডবের হাত থেকে একক আমেরিকার হাতে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। এছাড়া ডলারকে একক বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রচলন সহ একাধিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলো পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। এছাড়াও মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক ব‍্যবস্থা প্রচলন করে পৃথিবীর অর্থনীতি মুষ্টিমেয় কিছু ব‍্যক্তির হতে গোচ্ছিত হয়।

3. গ্লোবালাইজেশন বা গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতি

গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 2009 এবং এটি এখন পযর্ন্ত চলমান আছে।
গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্য দিয়ে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আমেরিকার হাত থেকে চীনের হাতে চলে আসবে। আমেরিকা আর চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ যার প্রথম প্রমাণ। চীনের হাতে কেন আসবে তার স্পষ্ট প্রমাণ চীন-ইরান সমোঝতা চুক্তি যা মধ্যপ‍্রাচ‍্য সহ ইউরোপের সকল দেশ সমূহের  চীনের দিকে ঝুকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে যেসকল দেশ বা রাষ্ট্রপ্রধান গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ধারণ না করে কলোনি অর্থনীতি ও রাজনীতি আর নয়া সাম্রাজ্য অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আকড়ে থাকবে সেই দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক  দিক থেকে পেছনে পড়ে যাবে।আর যারা বুঝতে পারবে তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে চীনকে অতিক্রম করতে না পারলেও সম অবস্থানে থাকবে।

এখানে একটা বিষয়ে ধারণা থাকা দরকার গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির পথটা কিন্তু আমেরিকা তৈরি করে দিয়েছে যেমন করে কলোনি অর্থনীতি ও রাজনীতি  সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতির পথ তৈরি করে দিয়েছিল।

আবার আমেরিকা যদি এই গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ঠেকিয়ে রাখতে চায় তা যেমন তারা পারবে না তেমনি গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির সম্পূর্ণ বিষয় যদি ধারণ  করে সেই অনুযায়ী চলেও তবুও সে তার হারানো জায়গা ফিরে পাবে না। ইতিহাস কথা কয়।

সুতরাং এই নয়া অর্থনীতি ও রাজনীতিকে প্রতিটি রাষ্ট্রের মেনে নেওয়াই শ্রেয় আখের পৃথিবী ও তার নিজ দেশের মঙ্গলের প্রশ্নে। আর মেনে না নেওয়া মানে পৃথিবী ও পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল প্রাণীর জন্য অশান্তির বাহক।

কেননা সন্তান প্রসবের যখন সময় হয় তখন কেউ যেমন তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না বা জোর করে ঠেকিয়ে রাখলে যেমন মা সন্তান দুইজনকেই হারানোর সম্ভাবনা থাকে তেমনি নতুন এই অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ঠেকানোর চেষ্টা করা মানে পৃথিবী আর অর্থনীতির দুই টাই ধ্বংসের চেষ্টার সামিল,যা অর্থনৈতিক মন্দা আর বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনা জাগিয়ে তুলে।আর বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া মানে পৃথিবীতে জান্নাতের সুবাস অনুভব করা।

সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ধরিত্রের বুকে শান্তি নেমে আসুক।

Saturday, July 25, 2020

সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে - মোঃ আশরাফুল ইসলাম।






বাস্তুসংস্থানের উপর নির্ভর করে একটা এলাকার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। রাজনীতি যেহেতু সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত বা বিকশিত হয়, তাই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বাসিন্দাদের জৈবনিক ক্রিয়াকলাপ থেকে রাজনীতি বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না বা বিচ্ছিন্নতায় রাজনৈতিক নিয়মাবলি প্রয়োগ হতে পারে না। সেক্ষেত্রে জৈবিক প্রবৃত্তি তথা রাগ, ক্ষোভ, ভালবাসা এগুলো রাজনীতি মারফত সবসময়ই মানুষ বা অন্য জীবের উপর প্রয়োগ হয়ে আসছে।

নাৎসি নেতা হান্স রাইটার জাতি রাষ্ট্র ও চূড়ান্তভাবে তাদের জাতিগত নীতিকে জীববিজ্ঞান ভিত্তিক বলে উল্লেখ করেন।

সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে জৈব ক্ষমতা হল মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ ও ব্যবহার। আদিম কিংবা কিছুদিন পূর্বের সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যায় লাঠিয়াল সর্দার বা মোড়লের পাশে শারীরিকভাবে শক্তিশালী মানুষ থাকতো অর্থাৎ এই শারীরিক শক্তিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হতো। অনেকে জীবন ও শক্তিকে অস্ত্র হিসেবেও দেখিয়েছেন যেমন আত্মঘাতী জঙ্গিবাদ। সাধারণত মানুষের রাজনৈতিক আচরণ বিভিন্ন জীববিজ্ঞানগত প্রদর্শনযোগ্য নিয়ামকের দ্বারা নির্ণীত হয়।

মোটকথা জীবনীতি শাস্ত্র অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রয়োগ হয়ে আসছে। কিন্তু জৈব প্রযুক্তির বিপ্লব আজ সমাজ রাজনীতির এক নতুন দিকের উন্মোচন করেছে। অর্থাৎ জৈব প্রযুক্তির বিভিন্ন প্রয়োগের মাধ্যমে জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যাপক আলোচনা আজ অনিবার্য।

আমরা কী এই জৈব প্রযুক্তি সামাজিক উন্নয়নে তথা সকল ধরনের জীবনের কল্যাণে বা তারা কীভাবে পরস্পর নিজেদের চালিত করবে তা নির্ধারণে ব্যবহার করব? অর্থাৎ এমন কোন কাঠামোর কথা ভাববো, যা সমস্ত জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হবে এবং সেটা অবশ্যই স্ব স্ব ভৌগোলিক বংশগতি ও বৈচিত্র্যকে সমুন্নত রেখে সকল জীবনকে ছুয়ে যাবে? যেটা নীতিমালা, শিক্ষা, শিল্প, সরকার, বিজ্ঞান সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

অথবা এটাকে কি নিছক ক্ষমতার এক নতুন প্রযুক্তি হিসাবে দেখব, যা পূর্বের বিভিন্ন প্রযুক্তির ন্যায় আশীর্বাদ না হয়ে মানব জীবনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।

পরমাণু শক্তি যতটুকু মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে বা তথাকথিত ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করেছে তার চেয়ে ঢের বেশি বিশ্ব রাজনীতিকে অন্তঃসারশূন্য করেছে। বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সামনে আসলেই যেন মনে হয় এই দুচারটা পরমাণু শক্তিধর দেশের ঝগড়াঝাটিটাই বিশ্বরাজনীতি। অথচ বিশ্বরাজনীতির পরিসর কত ব্যাপক! এদের এই শিশুসুলভ ঝগড়াঝাটির মাঝে পৃথিবী পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এসব অনিয়ন্ত্রিত বাজেট দিয়ে অনেক আগেই ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জলবায়ুগত সমস্যা নির্মূল করা যেত। দুঃখের বিষয় এগুলো রাজনীতিবিদদের কাজ নয়, গ্রেটা থুনবার্গের মতো বাচ্চাদের কাজ!

জীব বিজ্ঞান ও রাজনীতির সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন টার্ম জীবনকে কী নিশ্চিত, টেকসই ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে নাকি পশ্চাদপসরণ করবে? তা নিয়ে বিস্তর ভাবার সময় এসেছে বিশ্ব মোড়লদের, সেই সাথে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকেও নিজেদের স্বকীয়তা নিয়ে এর বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে জীবনের তাগিদে।

ইতোমধ্যে বর্তমান মহামারী সৃষ্টির জন্য এক দেশ আরেক দেশকে দোষারোপের কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি যেমন সম্ভাব্য আগামীর বিভীষিকাময় সময়কে ইঙ্গিত করছে, ঠিক তার বিপরীতে এই গাঁয়ের থেকেও ছোট বিশ্ব-সমাজকে আলোর দিশা দেখাচ্ছে।

এখন এই পৃথিবীর মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি সভ্যতার বিনাশ চাইবে নাকি নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় দিগন্তের দিকে চোখ মেলে তাকাবে।

লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ 

Saturday, July 18, 2020

করোনা মহামারী থেকে শিক্ষা - মেসেঞ্জার অব কসমোলজি সম্পাদিত।

মতামত


ছবি : মেসেঞ্জার অব কসমোলজি



সংকট এলেই উন্মোচিত হয় চারিত্রিক বাইবেল। বৌদ্ধিক চোখের ভাঁজ যদি না খোলে তবে তো সংকট ঘনীভূত হতে থাকে। মতাদর্শিক আশ্রয় হিসেবে কম্যুনিজম এখন ছিন্ন ভিন্ন ভেলা। বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন পরবর্তী সময়ে আর কোন প্রদীপ যেন বিশ্ববাসী দেখলোই না। আর বৈশ্বিক কাঠামোগত অসাড়তার কথা জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান থেকে শুরু করে সমকালীন সব চিন্তাবিদ, দার্শনিকের মধ্য দিয়েই উঠে এসেছে। বৈশ্বিক নেতৃত্ব সংকটের কথাও রিপিট হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে শংকা হয়ে জেগে থাকা জলবায়ুর ত্রাস, খুব সম্ভব সে পথ ধরেই করোনা সংকট গোটা বিশ্বের জন্য তীব্রতা ও ব্যাপ্তিতে আরও নতুন। প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক আলগা করে, মুনাফা কেন্দ্রীক অর্থনীতির লাগামহীন বেলেল্লাপনা প্রতিযোগিতায় মেতে সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে, অন্ধকার তরল হচ্ছে।

গলিত অন্ধকারের বুক চিড়ে, ইস্পাত-দৃঢ় সংকটের বেষ্টনী ভেঙে ভোর উঠাবার দায় মানুষেরই। "মেসেঞ্জার অব কসমোলজি" এবার মুখোমুখি হলো কয়েকজন চিন্তাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, কমরেডের সাথে। এ শুধু বিশ্লেষণ নয়, আকাঙ্খা আর আকুতি নয়, নয় ভাড়াটে কলম নিঃসৃত কথা, এটা কথা, স্বপ্ন, এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের তীব্র প্রচেষ্টা। শুধু মুখ নয়, বুক দিয়েও আমরা আশা রাখি, চেষ্টা করি মানবিক মানচিত্র প্রতিষ্ঠার।

নিয়মিত আমাদের সাথে থাকুন। পড়ুন। আপনিও লিখুন। এ পর্বে "করোনা মহামারী থেকে শিক্ষা" শীর্ষক মতামত সমূহ পড়ুন। ধন্যবাদ। 

সম্পাদকীয়।

বিজ্ঞানেই অবলম্বন, ল্যাবরেটরিতেই আস্থা - এম ইকবাল।

কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ



    এই সময়ে পৃথিবীতে হতে পারতো তৃতীয় কোনো বিশ্বযুদ্ধ, যেটা অনেকদিন ধরেই অনেক বুদ্ধিজীবীদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, যদিও বিশ্বজুড়ে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এছাড়াও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া, ভারত-(কাস্মীর)পাকিস্থান, হিন্দু- মুসলিম, (ভারত- NRC, CAA), রোহিঙ্গা নিধন(মিয়ানমার), নির্বাচন ও নেতৃত্বের পালাবদল এবং আরও অসংখ্য রাজনৈতিক ইস্যুকে ঘিরে সারা পৃথিবীজুড়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সাধারন মানুষ থেকে রাষ্ট্রীয় কর্নধার পর্যন্ত সবার মাঝেই এক ভয়াবহ অস্থিরতা কাজ করছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বযুদ্ধ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো নিঃসন্দেহে। যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন অনিবার্য ফল হিসেবে পরবর্তী প্রজন্ম পরম্পরাগতভাবে প্রাপ্ত শত্রুতা লালন করে বেড়ে উঠত। ফলে পরবর্তী আরেকটা যুদ্ধের সম্ভাবনা থেকেই যেত।

    এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস সেই সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। মানুষে মানুষে শত্রুতার বদলে পৃথিবীর মানুষের সামনে নতুন চ্যালেন্জ ছুড়ে দিয়েছে। এতে মানুষ তার অসহায়তা এবং ক্ষমতার সীমাটাকে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারছে। সেই সাথে যতো সময় যাবে এই উপলব্ধিটা ততোই স্পষ্ট হবে।

এটা আমার কথা নয়।
বিগত পৃথিবীর ইতিহাস এটাই বলে।

যতক্ষণ মানুষের সামনে মানুষ ব্যতীত অন্য কোন বিপদজনক শত্রু অনুপস্থিত ছিলো ততক্ষণ মানুষের মাঝেই বিভেদ ছিলো, মানুষই মানুষের শত্রু ছিলো। যখনই মানুষের সামনে তৃতীয় কোন বিপদজনক শত্রু এসে উপস্থিত হয়েছে তখনই মানুষের মাঝে বিভেদের পরিবর্তে ঐক্যতা এসেছে।

তাহলে কি মানুষে মানুষে ঐক্যতার প্রশ্নে তৃতীয় কোন শত্রু অনিবার্য?

সম্ভবত না, অনিবার্য না। ওটা বিগত পৃথিবীর ইতিহাস। এখানেই পৃথিবীতে বড় একটা পার্থক্য ঘটে যাচ্ছে। আগামী পৃথিবীতে মানুষে মানুষে ঐক্যতার কারন হিসেবে তৃতীয় কোন শত্রুর প্রয়োজন পড়বে না। মানুষের নির্বুদ্ধিতার দিন শেষ হয়ে বোধের উন্মেষ ঘটতে যাচ্ছে। এখানেই মানুষ নতুন যুগের শুরু করতে যাচ্ছে।

এই মহামারী থেকে আমরা আসলে কি কি শিক্ষা পেতে পারি?

১. পৃথিবীজুড়ে বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বর্তমান চ্যালেন্জ মোকাবেলায় কতটা অসাড় তা দেখিয়ে দিয়েছে এই করোনা মহামারী। সেই সাথে সুষ্ঠু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা কতটা জরুরী সেটাও এই জরুরী অবস্থা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

২. স্রষ্টাবিশ্বাস মানুষের আত্ববিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে এবং মানুষের মানসিক অস্থিরতা সাময়িক ভাবে দূর করে। জীবন ও যাপনের প্রয়োজনে মানুষ শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানকেই অবলম্বন করে এবং ল্যাবরেটরিতেই আস্থা রাখে।

মানুষ এখনো মুলত প্রকৃতির উপরই নির্ভরশীল - মুরশীদ সেলিন।

রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিশ্লেষক


পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। বাইরে থেকে এসে হাত মুখ ভাল করে ধুতে হবে। হাত না ধুয়ে কোনকিছু খাওয়া যাবে না। বাইরের খোলা খাবার খাওয়া উচিত না। স্বাস্থবিধির এসকল প্রাথমিক শিক্ষা আমার শৈশবেই পেয়ে থাকি এবং তা অনেকটা মুখেমুখেই। কিন্তু ব্যস্ত জীবনের নিরন্তর ছুটে চলার ঘোরে অনেক সময়ই তার চর্চা ভুলে যাই। করোনা আমাদের সেই শিক্ষাটা স্মরন করিয়ে দিয়েছে।

পুঁজিবাদী চিকিৎসা ব্যবসার ঝলকানিতে যে বিষয়টি আমরা প্রায় ভুলতে বসেছিলাম তা হচ্ছে বেশীরভাগ জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখনো মানুষের একমাত্র সম্বল আমাদের শরীরের প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। বিশেষ করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ঔষধ চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থকর ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অভ্যাস পরিহার করা ইত্যাকার বিষয়গুলো আমাদের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা যা সকলেই পেয়েছে। করোনা এসে বুঝিয়ে দিলো যে বিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্বেও বেঁচে থাকার জন্য মানুষ এখনো মুলত প্রকৃতির উপরই নির্ভরশীল।

হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতা লব্ধ মানব সভ্যতার স্বতসিদ্ধ যে সাধারন জ্ঞান, আধুনিকতার নামে আমরা তা যেন ভুলে না যাই। করোনা মহামারী থেকে এটি হতে পারে একটি যথার্থ শিক্ষা।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে - একেএম খাদেমুল বাশার


লেখক ও পর্যটক


‘জীবন নামের রেলগাড়িটা পায়না খুঁজে স্টিশন।‘ এই লাইনটা আজ ভীষণ মনে পড়ছে। মনে পড়বেই না কেন বলুন, করোনাকালীন এই সময়ে এই লাইনটাই যে বাস্তব সত্য। এই সময়ে মানুষ বুঝেছে, যে ইট-পাথরের শহরকে তারা আপন করতে চেয়েছিল তা শুধুই মিছে অভিনয়ই ছিল। শহরের দাম্ভিকতা, একে অপরের থেকে একধাপ এগিয়ে থাকার মিথ্যে প্রতিযোগিতা, মানুষের রোবট হয়ে থাকা, প্রকৃতির সাথে অমানবিক অত্যাচার সহ আরো কতো কি না মানুষ করেছে। একটা বারও মানুষ নিজেকে নিয়ে ভাবেনি।

করোনা বুঝিয়ে দিয়েছে এই শহরের মানুষের সবকিছু ভুল ছিল। এখন প্রকৃতি তার আপন মনে সেজেছে আর মানুষ নিজেকে নিয়েই শঙ্কায়। নিজের জীবন বাঁচানো নিয়ে কতো ব্যস্ত মানবজাতি। বিত্তবানরা ঘরের কোণে থেকে দিন পার করলেও নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্তদের টিকে থাকার আর্তনাদ চোখের কোণে অবলীলায় জল এনে দিতে বাধ্য।

হায়রে মানুষ, রঙ্গিন ফানুস। যাদের দম ফুরালেই ঠুস তারা কেনো এতো স্বার্থপর নিজেদের টিকে থাকার জন্য। কেন এতো নিষ্ঠুর নিজেকে আরেকজনের থেকে উঁচুতে নিয়ে যেতে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কি একটা মানুষ চলতে পারেনা?

করোনা এসব কিছুর সমাধান এনে দিয়েছে। পারিবারিক কলহ দূর করে একত্র হয়ে যৌথভাবে কিভাবে থাকা যায় তা শিখিয়েছে। শহুরে কালচার যে সেরা কালচার নয়, শহুরে জীবনই যে সেরা জীবন নয় তা শিখিয়েছে। মা-মাটি ও প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার যে আকুলতা, ব্যাকুলতা তা বুঝতে শিখিয়েছে। মানুষ মানুষের জন্য এটা বুঝতে শিখিয়েছে। ধনী-গরীব এক হলে দেশে যে অন্য এক আবহ তৈরি হয় সেটা বুঝিয়েছে করোনা।

এই করোনা থেকে যে আসল শিক্ষাটা পেয়েছি তা হলো বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃকোড়ে। এদেরকে এদের মতো করে বেড়ে উঠতে দিন দেখবেন পৃথিবী বদলে যাবে। আপনি আমি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এদের বিপর্যয় না করলেই  পৃথিবী সুন্দর হয়ে যাবে।


গোলাবারুদ নয় গোলাপ চাই  - মিঞা ভাই


কলামিস্ট ও স্টুডেন্ট লিডার


আমরা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে অর্থ, সৈন্য বাহিনী,  অস্ত্র ও পারমাণবিক শক্তি মজুদ করে ছিলাম। অনেকে আবার এইসবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ছিলো৷ অথচ ছোট্ট একটি ভাইরাসের কাছে এইসব মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। এত এত নিরাপত্তার বেষ্টনী, কাঁটাতার, সীমান্তরক্ষী বাহিনী থাকতেও আজকে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় গৃহবন্দী।

"নিজে ভালো থাকলেই জগৎ ভালো " আমরা যারা এই কালেমা জপে ছিলাম এদ্দিন আমরা সত্যিই ভালো আছিতো? খুব জানতে ইচ্ছে করে।
আমাদের এমন করে ভালো থাকাটাই এখন এবং পরবর্তীতে অনেক বেশি খারাপ থাকার কারণ৷

 আমরা আমাদের জীবনে সুখের জন্য যাপনে অনেকটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করি কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে একটা বিষয় স্পষ্ট যে শৃঙ্খল জীবন যাপনেই আমাদের জীবনে সুখ আসতে পারে৷

পৃথিবীটা ধ্বংস করতে এতদিন প্রয়োজন হতো না যতদিন থেকে আমরা পৃথিবীকে সুস্থ করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাই এখন সময়ের দাবী গোলাবারুদ নয় গোলাপ চাই।

পুরনো ব্যবস্থাপনাকে ভেঙ্গে নতুন করে সাজাতে হবে - মোঃ শামীম মিয়া।

কলামিস্ট ও স্টুডেন্ট লিডার


করোনা বৈশ্বিকভাবে সব কিছুই থামিয়ে দিলেও সময় তার আপন গতিতেই জীবনকে সামনে নিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ সহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে হচ্ছে প্রযুক্তির উপর ভর দিয়েই আর প্রযুক্তিই বিশ্বগ্রাম কে একসথে বেঁধে রেখেছে। করোনা মহামারিতে একটা বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝা গেছে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রবাসীদের আয় সব কিছুই সাময়িক সময়ের জন্য সমাধান মনে হলেও কৃষি অর্থনীতিটা আমাদের চোখে জীবননীতি হিসেবেই ধরা দিয়েছে। এটাই হল আমাদের একমাত্র শ্রেষ্ঠ উত্তরণের পথ।
হতাশার ব্যপক বিস্তৃত ক্ষেত্র যেমন দেখেছি সব কিছু উপেক্ষা করে সম্ভবনার প্রচুর উর্বরতাও দেখেছি।  দানবীয় আচরণ করোনা মহামারি কে আরও ভয়াবহ রূপ দান করেছে।
কেউ সুযোগের অপব্যবহার করে এই সময়টাকে আরও দূর্বিষহ করে তুলছে। মানবীয় অবক্ষয়ের চিত্র আগে থেকে দেখে আসলেও সবার চোখে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিচ্ছে এই সময়ে।
পৃথিবীর জন্য এই পুরনো ব্যবস্থাপনার অচলায়তন পথটা কত কঠিন আর শক্ত সেটা উপলব্ধি করতে এখন আর বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
সবাই যখন বিছিন্ন করার জন্য ব্যস্ত তখন সঠিকতার জন্য সচেতন তরুণরাই এগিয়ে এসে উচ্চারণ করছে সামাজিক নয় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন। কিছু মানুষ যখন লকডাউন এর জন্যে খুশি মনে বিশ্রাম নিচ্ছেন তখন কিছু মানুষ সামাজিক দায়িত্ব পাগলে দৃঢ়ভাবে অজানা পথ এগিয়ে চলছেন।  পুরনো ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ভেঙ্গে সাজাতে প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের নতুন স্বপ্ন যা দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হবে আগামীর নতুন পৃথিবী।


বাঁচতে হলে সবাইকে নিয়ে একসাথে বাঁচতে হবে- আব্দুল আলীম।

কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ


মানবসভ্যতার সেই আদিকাল থেকেই মানুষ নানা ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন এবং সেখান থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার প্রশ্নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তেমনি করোনা ভাইরাসের মতোন মরনব্যাধী শিখিয়ে দিলো মানুষের বাসযোগ্য নামক গ্রহটিতে বাস করার জন্য কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

নতুন কোন সমস্যার স্বীকার হলে বাস্তব নিষ্ঠ, বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত আছি সে ব্যাপারে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো।

সংকটকালীন এ সময়ে সরকারের সমাধানিক সিদ্ধান্ত তো এমন হওয়া প্রয়োজন ছিলো যে, মেজরিটি মানুষ সুস্থও থাকবে, পাশাপাশি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাকাও সচল থাকবে।

যন্ত্রের অভিঘাতে সমাজে পরিবর্তন আসে। আর সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব এখন গাঁয়ের চেয়েও ছোট। কিন্তু প্রযুক্তির সুফল এখনো সকল মানুষ ভোগ করতে পারেনি। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকেও প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। এটা সম্ভব হলে করোনা প্রতিরোধে আমরা আরও সফল হতাম।

সমস্যা যেহেতু বৈশ্বিক, সেহেতু সমাধানও বৈশ্বিক ভাবে করতে হবে। কিন্তু বৈশ্বিক কোন কাঠামো না থাকার সীমাবদ্ধতা এখনো বর্তমান। পুরনো খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাঁচার জন্য একটিই পৃথিবী, বাঁচতে হলে সবাইকে নিয়ে একসাথে বাঁচতে হবে।
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
১৮.০৭.২০২০

Sunday, July 12, 2020

আমাদের পৃথিবী : একবিংশ শতাব্দীর দুই দশক - ভূবন মুন্সী।


শুরুতে সমাপ্তির গল্প:

 

"This is a small step for man, but a giant leap for the mankind." হ্যাঁ, ছোট পদক্ষেপ। কিন্তু  রূপকথার মতোন। ১৯৬৯ সন। ২০ জুলাই। কিছু ক্ষণের মধ্যেই চাঁদে প্রথম পা রাখবে মানুষ। নীল আর্মস্ট্রং ইতিহাস হয়ে যাবে। রূপকথার নায়কের মতোন নীল আর্মস্ট্রং আজ ইতিহাস। কিন্তু এটাই সবটা নয়। গত শতাব্দীতে ঘটে গেছে আরও সুন্দর এবং কুৎসিত ঘটনা সব। ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছিলো দেশে দেশে। আবার দেশে দেশে ডানা মেলেছে স্বাধীনতার রকমারী ঝান্ডা। ঘটে গেছে ভয়ংকর ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধ। মানুষ দেখেছে নিউক্লিয় শক্তির শিব তান্ডব : হিরোশিমা, নাগাসাকি। প্রত্যেক মুহূর্তে শঙ্কা জাগিয়েছে স্নায়ু যুদ্ধ। ঘটে গেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং : বেড়ে গেছে সি লেভেল। আমরা দেখেছি প্রযুক্তির উল্লম্ফন পর্ব, মিডিয়ার রেভুলেশন। মানুষ হয়তো আজীবন পৃথক থাকার জন্য গড়ে তুলেছিলো বার্লিন প্রাচীর, আবার ভেঙে ফেলেছে। হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম এবং মৃত্যু। ব্যক্তি স্বাধীনতা, মুক্ত বাজার অর্থনীতির ধারণা আজও লাগামহীন গতি নিয়ে ছুটছে। কোথায়, কোন গন্তব্যে ছুটছে?

মোমবাতির মতোন গলতে থাকলো টুইন টাওয়ার:

 

৯/১১. আগুন ও মৃত্যুর স্মৃতি। তখন সকাল। স্থানীয় সময় ৮:৪৬. শতাব্দীর শুরুতেই বুক পিঠে ছিদ্র হলো টুইন টাওয়ার। লাশের মিছিল গুণতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেলো পৃথিবী। সহস্রাব্দের বরণ বাতি তখনো নেভেনি। অথচ মোমবাতির মতোন গলতে থাকলো টাওয়ার। এ আগুন নেভাতে গিয়েই প্রেসিডেন্ট বুশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আওয়াজ দিলেন। তারই পথ ধরে ধ্বংস স্তুপ হলো আফগানিস্তান, ইরাক এবং আরও। ২০১১ সালে আমেরিকান নেভী সিলের হাতে ওসামা বিন লাদেন এর মৃত্যু হলো। কিন্তু শতাব্দীর সন্ত্রাসবাদের আগুন এখনো নিভলো না। সাদ্দাম হতে বাশার কিংবা ইরাক হতে সিরিয়া আগুন জ্বলছেই।

টুইন টাওয়ার হামলা

চিচিং ফাঁক এবং আলাদিনের চেরাগ:

 

আলিফলায়লাটিক চেইঞ্জ। প্রয়াত পিতাগণ এটা কল্পনাও করতে পারেনি। স্টিভ জবসের হাতে  ২০০১ সালে আইপডের যাত্রা। ২০০৪ এ জাকারবার্গের হাতে ফেসবুকের জন্ম। আজ ২৪৫ কোটি মানুষের ফেসবুক পরিবার। ২০০০ সালে শুরু হওয়া জিপিএস আজ অনায়াসেই খুনিকে ধরে ফেলছে। মানুষের হাঁচি আর কাশি দুটুর কারণই শনাক্ত করে ফেলছে যন্ত্র। স্মার্ট ফোনের বদৌলতে পৃথিবীটা আজ হাতের মুঠোয়। কি সহজে প্রযুক্তির দৈত্যটা সব ইচ্ছা পূরণ করে দিচ্ছে মুহূর্তেই। অচেনাকে চিনিয়ে দিচ্ছে। অজানাকে জানিয়ে দিচ্ছে। ইচ্ছা গুলোও বুঝতে সময় নিচ্ছে না। চিচিং ফাঁক মন্ত্র উচ্চারণের সময়টুকুর চেয়ে দ্রুতগামী আজকের প্রযুক্তি। আলিফলায়লাটিক পৃথিবী।

পানির খোঁজে মঙ্গলে, পৃথিবীতে প্রাণের সংকট:

 

মহাকাশ তন্ন তন্ন করে চষে ফিরছে মানুষ। চাঁদের পর মঙ্গল, অগ্নি দানব সূর্যের দিকেও তল্লাশি চালাচ্ছে পৃথিবী। অথচ কি বিস্ময়! পৃথিবীতে প্রাণের সংকট। আর মানুষ নিজেই স্ব-বিনাশের কারণ। আপাত চোখে এটা মানুষের স্ববিরোধী আচরণ। বস্তুত দেখতে যতটা  নিরীহ মনে হয়, মানুষ ঠিক ততোটাই চতুর ও হিংসাত্মক। মঙ্গলে জল পাওয়া গিয়েছে ২০১৮ সালে। এটা নিয়ে মিডিয়ার হৈচৈ।  অথচ এ সালের হিসেব মতেই শতকরা ৯.২ জন মানুষ চরম খাদ্য সংকটে। সেলুকাস! গত শতাব্দীতেও মানুষ দেখেছে ভারতে বৃটিশদের নারকীয় শাসন। দেখেছে মানুষ কেমন করে  আকাল আর দুর্ভিক্ষ প্রসব করে।

প্লুটো বিদায় নিলো সৌর পরিবার হতে, স্টিফেন হকিং পৃথিবী হতে:

 

২০০৬ সন। প্লুটো সৌর গ্রহ পরিবার হতে বিদায় নিলো। একই বছর ইন্ডিয়ার মুম্বাইয়ে ট্রেন বোম্বিং। ২০৯ জনের মৃত্যু। সদ্য লাঞ্চ করা টুইটারে সে সংবাদ ছড়িয়ে পড়লো। আজ শোক সংবাদগুলো খুব দ্রুতই সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কখনো বুআজিজি বসন্তের আগুন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সোসাল মিডিয়ায়। কাঁপিয়ে দেয় আরব অঞ্চল। শুধু প্লুটো নামক গ্রহ নয়, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্গারেট থ্যাচার, স্টিফেন হকিং কিংবা মাইকেল জ্যাকসনের মতোন অসংখ্য নক্ষত্র এই দুই দশকের মধ্যেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

সুনামির তান্ডব, ফ্লু এবং বৈশ্বিক মন্দা:

 

২৬শে ডিসেম্বর ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ। স্থানীয় সময় ৭:৫৮:৫৩, সূর্য মাথা তুলেছে মাত্র। ৯.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলো ১৪টি দেশে। মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ লক্ষ ২৭ হাজার। দুহাজার দশের হাইতির ভূমিকম্পে মারা গেলো ২ লক্ষ ৩০ হাজার। আহ্। কী দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিল। সে বছরই লাঞ্চ করা ইনস্ট্রাগ্রামে ভাইরাল সব শোক ছবি। বাংলাদেশের রানা প্লাজার সেই শ্রমিকদের বেঁচে থাকার আর্তি আজও বাতাসে ভাসে। ২০০৭-০৮ সনের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা। ৮৭ লক্ষ মানুষ চাকরিচ্যুত। শ্রমিকরাই সব সময় বেশি বঞ্চিত হয়। তারাই বেশি আক্রান্ত হয় সোয়াইন ফ্লু, ইবোলা কিংবা করোনাতে। ভাইরাস কিংবা ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা মানব সৃষ্ট বঞ্চিতরাই বেশি বঞ্চিত হয়। বৈষম্যের চাকা থামবো কখোন?

করোনার পর সকলে স্পষ্ট হলো নেতৃত্ব শূন্য পৃথিবী:

 


প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা
বেনগাজীতে গাদ্দাফির পতন। আরেক গাদ্দাফির মসনদ আরোহন। বুশ কিংবা ক্যারিশমাটিক ওবামা, দিন শেষে দেখলাম তফাত নেই। যখন মোড়ল রাষ্ট্রে একজন খাঁটি বণিক ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বনে গেলেন, তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না মতাদর্শিক ভাবে, রাজনৈতিক ভাবে নেতৃত্ব শূন্য পৃথিবী। মূলত বণিকরাই বিভিন্ন বেশ ধরে পূঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থা চালু রাখছেন দেশে। কলম কিংবা বন্দুক, কিতাব কিংবা খেতাব সবটাই পণ্য হয়ে গেছে।

পৃথিবীর জিভে ক্ষত, নৈতিক সংকট, অস্থিরতা:

 

First genetically modified children were born on November, 2018! এটা খুবই বিস্ময়! মানুষ জীবনের মর্মমূলে হাত দিতে সক্ষম। টেস্ট টিউব বেবি, জেনেটিক বেবি, অধিক ফলনশীল শস্য সবটা বিস্ময়কর। তবু মানুষ কি আজও হৃদয় ছুঁতে পেলো? আলোয় উদ্ভাসিত পৃথিবী। অথচ আত্মহত্যার লাইন ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। সভ্যতা এগিয়েছে পোশাকে। ভেতরে ভেতরে এসেছে নগ্নতা। ওপেন সেক্স, ড্রাগ, ব্রোকেন ফ্যামিলি, সমকামী কোন নিক্তিতে এগুলো বৈধতার লাইসেন্স পেতে পারে? তবুও পেয়ে যাচ্ছে। এখানেই কথিত গণতন্ত্রের গলদ। মন্দটা আইডেন্টিফাই করা গেলেও সাংখ্যিক জোরে থামানো যায় না। Nation is in sleeping pils and sex disease. পৃথিবীর জিভে ক্ষত। জীবনের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না আজকাল। কাশ্মীর, ফিলিস্তিন তো পৃথিবীর জৈবিক জিভে ক্ষত হয়ে সেই কবে থেকে জিইয়ে আছে।

জলবায়ুর পরিবর্তন, জাতীয়তাবাদ ও পুঁজিবাদ সমেত পৃথিবী মৃত্যু শয্যায়:

 

১৯৫০ সালে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের যাত্রা শুরু। একবিংশের সাথে সাথে যাত্রা করেছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। জাতীয়তাবাদের মন্ত্র পাঠে পৃথিবীতে মানুষ একদিন ভেঙেছে পরাধীনতার শিকল। জন্ম দিয়েছে নয়া শৃঙ্খলার। পুঁজিবাদও একদিন পৃথিবীকে নিয়ে বিকাশের পথে হেঁটেছে। শৃঙ্খলা পুরনো হয়ে গেলে সেটা আবার শিকল হয়ে যায়। জাতীয়তাবাদ ও পুঁজিবাদ দুটোই আজ পায়ের শিকল। মানুষের বিকাশ ও ভালো থাকার অন্তরায়। এ দুই ব্যাকডেটেড মন্ত্র হাতে নিয়েই কতিপয় চালাচ্ছে পৃথিবীর উপর বর্বরোচিত বলাৎকার।  মাটি মুখ বুঝে সইতে পারে, জলবায়ু বড্ড জেদী। নিজেকে পাল্টে নিয়ে সে আজ বিপন্ন করে দিচ্ছে পৃথিবীর মানব জীবন। ভাইরাস থেকে ভূমিকম্প সবটা নিয়েই প্রকৃতি খড়গহস্ত। নতুন নতুন মহামারী আর পিছু ছাড়ছেনা।

পৃথিবী বিনির্মানের আহবান:

 

কে জানতো বসন্তের আগুনে পুড়বে নিউইয়র্ক! সেই টুইন টাওয়ার। দুই দশক পূর্বের কথা। দুই দশকের প্রান্তে এসে আঘাত হানলো করোনা। অথচ সেদিনের মতোন আজও মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের প্রস্তুতি চলছিলো। দুই দশক পূর্ব হতে পরিণতির দিকে পৃথিবীর যে যাত্রা আজ যেন তা পূর্ণ হলো। সেদিনের আংশিক থ্রেট খাওয়া পৃথিবী আজ একঘর, একাকার। প্রাযুক্তিক বিকাশে বিশ্ব আজ গাঁয়ের চেয়েও ছোট।

প্রাযুক্তিক বিকাশে এটা আজ স্পষ্ট সমগ্র মানুষের জন্য একটিই পৃথিবী, লাব্ববাইক কন্ঠের অধিকারী শুধুই মানুষ, নষ্টকে নষ্ট বলার বোধ কিংবা মানিনা বলতে পারা অথবা সুন্দরকে ধারন করা বা নতুনকে মেনে চলার সক্ষমতা শুধুই মানুষের।

নষ্ট সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার দায় কিংবা যথার্থ সূর্যটাকে খুঁজে এনে ভোর উঠাবার বীরত্ব শুধুই মানুষের।

ভালোটা তরঙ্গ হয়ে ছুঁয়ে যায় সমগ্র ভুবন, তেমনি মন্দটা বিষ হয়ে বিষিয়ে দেয় সবার যাপন। বেঁচে থাকার বা বাঁচিয়ে রাখার একটিই কিশতি আজ, ভালো বা মন্দ সবটা সবার সাথে একাকার।

মহাবিশ্বের এই সবুজ কিশতিতে অখন্ড মানবিক বোধে আমরা হয়ে উঠি একজন- ইউনিটি অব ম্যান। প্রত্যহ খুঁজে আনি যথার্থ সুন্দর, যথার্থ সূর্য সকাল।

১৩.০৭.২০২০

Thursday, June 25, 2020

"কেমন পৃথিবী দেখতে চাই" - এবার তরুণ চিন্তাবিদ, কবি ও কমরেডের মুখোমুখি মেসেঞ্জার অব কসমোলজি।




জীবনকে ঘিরে সময় নিরিখে বদলে যায় প্রয়োজনীয় প্রত্যাশা, অনিবার্য দাবি, দাবি আদায়ের শপথ। সেই দাবি বা প্রত্যাশার যৌক্তিক দন্ডও সময় নিজে। সমাজিস্থিত কন্ডিশনাল ম্যাটার বা বাস্তব শর্তসমূহ জন্ম দেয় প্রয়োজন, প্রত্যাশার।  প্রাযুক্তিক বিকাশে বিশ্ব এখান গাঁয়ের চেয়েও ছোট। কিন্তু আমরা আমাদের সেকেলে রীতি নীতি সমেত এখনো in situ অর্থে মধ্যযুগীয় বা তৎপশ্চাৎ দেশীয়। নতুন সময়কে আইডেন্টিফাই করেই বৌদ্ধিক মানুষ ফুঁক দিচ্ছে নতুন বাঁশিতে, ধরিত্রীতে তুলতে চাচ্ছে নতুন সুর। সময়ের আহবান উপেক্ষা করার সাধ্য- সে তো ঈশ্বরেরও নেই।

Messenger Of Cosmology মুখোমুখি হয়েছিলো তরুণ চিন্তাবিদ, কবি ও কমরেডের। পড়ুন। স্বপ্ন দেখুন। আপনিও আওয়াজ দিন। ফুঁক দিন নতুন বাঁশিতে। কোমল সুরে সৃজন হোক, কংক্রিট সুরে ভেস্তে যাক জ্বরা, জীর্ণতা, প্রচলিত আচল পাড় ও আসুরিক পুরুষ।
মানুষ মুক্তি পাক। সম্পাদকীয়।

মানবজাতি, প্রকৃতি মেতে উঠুক খুঁনসুটির খেলায় - এ.কে.এম খাদেমুল বাশার।

ছোট একটা ভাইরাস দেখিয়ে দিলো এক নিমিষেই কিভাবে এই পৃথিবীকে বদলে দেয়া যায়। এই পৃথিবীর ওপর দিনের পর দিন যেভাবে অবিচার করা হয়েছে তা ভষাতীত। কালের পরিক্রমায় পৃথিবীর ওপর এ অসহনীয় অত্যাচার আর  কত সহ্য করার মতো ছিল। পৃথিবী এখন মানব জাতিকে বুঝিয়ে দিয়েছে সব সময় সহ্য করা আসলেই কতটা কঠিন। ভাইরাসের কারণে পৃথিবী এখন সেজেছে নতুন রূপে। চারদিকে গাড়ির হর্ণের কোন শব্দ নেই, সবুজের সমারোহে পাখির কলরবে মুখরিত চারদিক। এমনই এক পৃথিবীতো আমরা চাই। যে পৃথিবীতে থাকবেনা দূষণ, থাকবেনা কোলাহল, দৃঢ় হবে পারিবারিক বন্ধন, শিশু বন্ধী জীবনে থাকলেও বাবা-মাকে কাছে পেয়ে তার মন ঠিকই ভরেছে উৎফুল্লতায়। ভাইরাসের কারণে আক্রান্ত রোগী কোটির কাছকাছি গিয়ে পৌঁছেছে, মৃতের সংখ্যা লাখ পেরিয়েছে অনেক আগেই। এতোসব হিসেবের কাতারে পৃথিবীর মানুষ বুঝতে শিখেছে ঘরে বসেও কিভাবে সব কাজ করা যায়, কিভাবে ঘরে থেকেও পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। যদি এভাবেই পৃথিবীকে নতুন রূপে সাজিয়ে নেয়া যায়, তবে মানবজাতির এভাবেই পরিকল্পনা করা উচিৎ। শুধু মানুষই কেন এই পৃথিবীতে বাঁচতে চাইবে, বাঁচুক না আরো নাম না জানা লাখ লাখ প্রাণীকূলও। মানবজাতি, প্রকৃতি মেতে উঠুক খুঁনসুটির খেলায়। সে খেলায় অপরাজিত থাকুক দু'দলই। পৃথিবী ভরে উঠুক সুখে, বেঁচে থাকার মায়ায়।

মানসিক সুস্থতা ও মননের সুষ্ঠ বিকাশের দিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন- হাসান রাকিব।



এই কথাও একদম অমূলক নয় যে চলমান করোনাকালীন এবং করোনা পরবর্তী পৃথিবীবাসী যে সংকটের মুখোমুখী হতে যাচ্ছে তা শুধুই অর্থনৈতিক নয় বরং মনস্তাত্ত্বিক বা মানসিক এবং বুদ্ধিভিত্তিক।
বোধ ও মননের জায়গা থেকে আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী ও আদর্শিক হয়ে উঠতে পরিনি। আধুনিক জীবনসংকট, রাষ্ট্রসমস্যা, আগ্রাসী অর্থনীতি ও আধিপত্যের রাজনীতিতে আমারা জর্জরিত। বোধের কতটুকু যে সুবোধ তা নির্ণয় করা আজ দুরূহ। সমাজব্যবস্থা আমাদের শিখাচ্ছে যে সত্য আমাদের সবসময় সাহায্য করতে পারছে না। এ ধরনের জীবনের নানাবিধ আচরনিক কলাকৌশলে আমরা সব সময় একটা মানসিক অস্থিতিশীলতায় ভোগী। করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানের সংকট আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা আমাদের এই অস্থিতিশীলতাকে আরও গাঢ় করে তুলছে  আর তার সাথে রয়েছে অমীমাংসিত যৌন চাহিদার  মতো সমস্যা।
তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের মানসিক সুস্থতা ও মননের সুষ্ঠ বিকাশের দিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ভোগে বিভোর না থেকে যেতে হবে শিল্প-সাহিত্যের কাছে, দর্শনের সান্নিধ্যে। খুঁজতে হবে- কীভাবে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, অনুভূতি ও কল্পনার রস কীভাবে আস্বাদন করতে হয়।
নিশ্চিত করতে হবে চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা।
থাকতে হবে আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা তাহলেই অর্জন করা যাবে সঠিক মূল্যবোধ তথা   মানুষ্যত্ব।
এমনও তো হতে পারে পৃথিবীর পরবর্তী মহামারী হবে মনস্তাত্ত্বিক অথবা বুদ্ধিভিত্তিক।
নিশ্চিত করে বলা যায় কি কিছু?

মানুষ মানবীয় মর্যাদা ফিরে পাক - মোঃ ইয়াছিন মিয়া।




সত্য-সুন্দর একটা পৃথিবী চাই। পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া সতীত্ব ফিরে চাই। মানুষ মানবীয় মর্যাদা ফিরে পাক;
যেখানে ব্যাক্তিকে বায়োজাপ্ত করে পুঁজিবাদ।
মানিকের ঈশ্বরত্ব ঠাঁই নিক মানুষ নামটিতে।
এটুকুই চাই।

পৃথিবীটা আমার থেকে আমাদের হোক - মোঃ মমিন মিয়া



আমি রাত জেগে স্বপ্ন দেখি দিগন্তের মিছিলে প্রাণ এসেছে। নতুন সমাজ বিনির্মানে, ইতিহাস গড়তে মানুষ পাড়ি দিয়েছে পর্বত হিমালয়, নিজেদের ভাঙতে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে যুদ্ধ আর সামাজিক মানুষ হওয়ার প্রত্যয়ে, আমি থেকে আমরা এই স্বপ্নটা দেখে
হেঁটে যাচ্ছে আগামী পৃথিবীর জন্য।


মানুষের পৃথিবীতে মানুষ বাঁচুক স্বস্থিবোধের কমল নিঃশ্বাসে - মোঃ শামীম মিয়া


পুঁজিবাদের গরম শ্বাস প্রশ্বাস আছরে পড়ে পৃথিবীর আনাচে কানাচে, জীবনে হয়ে উঠে নরকবাস। দ্বন্দ্বের বৈরিতা ভাগ করে দেই উচু নিচু স্তর, কেউ হয় পুঁজিপতি কেউ না খেয়ে খেয়ে চামড়া ঢুকে গেছে হাড়ের ফাঁকে। ভাগাভাগির স্মার্টনেস রক্ষার্থে সীমানায়, কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তাজা প্রাণের গল্প।

পৃথিবীটা কি এখনও মানুষের হয়নি।

তবে আগামীটা যেমন চাই-

মানুষের পৃথিবীতে মানুষ বাঁচুক স্বস্থিবোধের কমল নিঃশ্বাসে, এই বাস গৃহের সব প্রাচীর ভেঙ্গে একাকার হয়ে গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী। নতুন মানবীয় ব্যবস্থাপনায় অখন্ড বিশ্বগ্রামে প্রশান্তি নামুক। আসুন এক সাথে বাঁচি, বসুমাতার সন্তান হিসেবে একে অপরে হই সহযোগী, গৃহদাহ যুদ্ধ বাদ দিয়ে  আবার নতুন করে সাজাই ঘর- বোধের মানুষ, মানবিক মানুষের বাসযোগ্য পৃথিবী।

সংগ্রামটা তাই মানুষ হওয়ার মর্যাদায় আত্ম-অমানবিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে - মোঃ শামীম রেজা




রক্তজ প্রবণতায় আদিমতা, বিভাজনে দাসসুলভ, প্রভুত্বে সামন্ততান্ত্রিক এবং স্বার্থপরতায় পুঁজিবাদী চেতনার আকর সমূলে উৎপাটন করার সময় হয়েছে। জীবন এবং জগতকে ঘিরে যে মূল্যবোধ এবং সেই মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে যে মর্যাদাবোধ তা যদি মনুষ্যত্ব ও মানবিকবোধ উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৃতজ স্বত্ত্বায় একাকার না হতে পারে একাকারের এই মহাক্ষণ মানব জাতীর জন্য মঙ্গলজনক হয়ে ওঠবে না।
সংগ্রামটা তাই মানুষ হওয়ার মর্যাদায় আত্ম-অমানবিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে।

Sunday, May 24, 2020

করোনা ভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে? চীন নয়, দোষ পুঁজিবাদের - লি ঝাং

অনুবাদঃ ভূবন মুন্সী।



চীনে কোভিড -১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই তার উৎস সম্পর্কে ধারণা করার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে। এই ইস্যুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে "নতুন স্নায়ু যুদ্ধ" তে অত্যন্ত রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টেট সেক্রেটারি মাইক পাম্পো এবং রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন সবার বক্তব্য করোনা ভাইরাস উহানের একটি ল্যাব থেকে এসেছে। জবাবে, চীনা সরকারী কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, ভাইরাসটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন ল্যাবে উদ্ভূত হতে পারে।

যদিও এই দোষারূপের খেলাটি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে শিরোনাম তৈরি করছে, ধোঁয়া এবং আয়নার আড়ালে মহামারীটির প্রকৃত কারণটি লুকিয়ে আছে - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং বাকি বিশ্বের ভাগ্যের একটি সাধারণ সমস্যা - পুঁজিবাদ।


Covid-19 এর উৎস সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, আমরা কিছু কিছু জানি। জানুয়ারির প্রথম দিকে নতুন করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবং একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ঐক্য  হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল যে এটি মূলত বাঁদুড়ে  বিকশিত হয়েছিল। সম্ভবত একটি মধ্যস্থতাকারী প্রজাতির মাধ্যমে মানুষের কাছে চলে যায়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দাবি, প্যাঙ্গোলিন, উদ্ভিদ চক্র বা ফেরেট সম্ভবত বৃক্ষ ও মানুষের মধ্যে সেতু হিসাবে কাজ করেছে। ভাইরাস ইচ্ছাকৃতভাবে কোন পরীক্ষাগারে নির্মিত এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়টি বারবার বলেছে যে তারা বিশ্বাস করে যে নতুন ভাইরাসটির উৎস প্রকৃতি।

কিন্তু কিভাবে এই ন্যাচারাল স্পিলওভার উহানে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করেছে? "দোষী চীন" অলঙ্কারটি এখন Wuhan Institute of Virology এর একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা নির্দেশ করে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা- বাঁদুড় থেকে করোনা ভাইরাস এবং নতুন মহামারী তথ্য না আসা পর্যন্ত একটি ল্যাব দুর্ঘটনা জড়িত তত্ত্ব ভুল প্রমাণ করা অসম্ভব হতে পারে। কিন্তু যদি আমরা এটাকে 'ল্যাব লিক' অনুমান করি, তবুও  চীনকে দোষারোপ করাই কী  সমস্যাটি সম্পর্কে চিন্তা করার  সঠিক পথ?

বিপজ্জনক রোগের সাথে জড়িত ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ সমগ্র বিশ্ব অনেকবার ঘটেছে। ২০১৪ সালে, খাদ্য ও মাদকদ্রব্য প্রশাসন একটি অনিরাপদ স্টোরেজ রুমে দুর্ঘটনাক্রমে স্মলপ্ক্স এর ছয়টি বোতল পায়।

একই বছর, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলি দুর্ঘটনাক্রমে তিনটি অনিরাপদ ল্যাবে কার্যকরী অ্যানথ্রাক্স স্পোর পাঠায়, সম্ভবত গবেষকরা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া বহন করছিলেন।। তারপর ২0১৫ সালে, পেন্টাগন দুর্ঘটনাক্রমে নয়টি রাজ্যে এবং এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত জীবন্ত অ্যানথ্র্যাক্স প্রেরণ করে।

সৌভাগ্যক্রমে, সেই দুর্ঘটনায় কোনও মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু এমন কিছু হয়েছে যা মারাত্মক। আমেরিকান জৈবিক সুরক্ষা সংস্থার ক্যারন বেয়ার এর একটি গবেষণার মতে, ১৯৭৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী "ল্যাবরেটরি অর্জিত সংক্রমণ" এর কমপক্ষে ১১৪১ টি উদাহরণ ছিল, যার মধ্যে কয়েকটির ফলাফল মৃত্যু।

স্মলপক্সের সাথে জড়িত কয়েকটি দুর্ঘটনায় ১৯৭০ সালে তিন জনের মৃত্যু হয়। চীনে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস লিক হয়ে ১৯৭০ এর দশকে একটি প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করে যা দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ভেনিজুয়েলা এবং কলম্বিয়াতে এনসেফালাইটিসের একটি মহামারীতে ১৯৯৫ সালে কমপক্ষে ৩১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল সম্ভবত কোনও পরীক্ষাগারের ঘটনার ফলে।

২০০৩ এবং ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং মূল ভূখণ্ড চীনের ল্যাব কর্মীরা দুর্ঘটনাক্রমে এসএআরএস-তে সংক্রামিত হয়েছিল এবং এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং মহামারীটি সংক্রামিত হওয়ার পরে একজনের মৃত্যু ঘটেছিল।

ল্যাবরেটরি দুর্ঘটনা একটি দুর্ভাগ্যজনক কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক এবং মারাত্মক রোগের গবেষণার অনিবার্য পরিণতি। কোন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা করে না।

মূল চাবি হলো, বুঝতে হবে কেন এমন রোগগুলি প্রথম স্থানে পরিণত হয় এবং কীভাবে তাদের প্রতিরোধ করা যায়। এখানে বৈজ্ঞানিক ঐক্যমত্য পরিষ্কারভাবে পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করে এমন কাঠামোগত সমস্যাগুলির দিকে নির্দেশ করে।

প্রথমত, দ্রুত নগরায়ণ এবং বর্ধিত গতিশীলতা স্থানীয় প্রাদুর্ভাবের মহামারী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।  উহান একটি বড় পরিবহন কেন্দ্র এবং চীন এখন বহু বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে।  এই উভয় কারণই করোনাভাইরাস দ্রুত প্রসারে অবদান রেখেছিল।

বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান এবং বন ও পাহাড়ের গভীরে নতুন অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ফলে প্রাণী ও মানুষের মধ্যে নতুন নতুন রোগের ঝুঁকির পরিমাণ বেড়েছে।  গত কয়েক দশক ধরে বর্ধিত গ্রাহকত্বের বিকাশের ফলে বন্য প্রাণী ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

পান্ডোলিনের মতো বন্য প্রাণী, যা খাদ্য এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধের জন্য ব্যবহৃত হয়, মহামারীটির আগে উদ্বেগজনক হারে চীন পাচার করা হয়েছিল।  একই সাথে পল্লী দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়াসে, চীন সরকার কিছু বুনো প্রাণীর বাজারমুখী প্রজনন এবং ই-বাণিজ্য প্রচার করেছিল। উহানের মতো স্যাঁতস্যাঁতে বাজারে বুনো প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে এই অনুশীলনগুলি ঘনিষ্ঠ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ-সংক্রমণকারী মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে করোনা ভাইরাস উদ্ভব হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

শিল্প-মাপের হাঁস-মুরগি ও প্রাণিসম্পদ নতুন প্রাণীগত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা মহামারী হতে পারে।  বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী রব ওয়ালেসের যুক্তি অনুসারে, পুঁজিবাদী কৃষিকাজ "রোগজীবাণুগুলির সবচেয়ে জঘন্য এবং সংক্রামক ফেনোটাইপগুলি বিকশিত করতে পারে তার সঠিক উপায় সরবরাহ করে"।

বন ও অন্যান্য আবাসস্থল ধ্বংস, ভোগবাদ, বন্য প্রাণীর বাণিজ্য এবং শিল্প-স্তরের প্রাণীজ প্রজনন চীনের পক্ষে অনন্য নয়। এগুলি বিশ্বব্যাপী ঘটনা।

এই মহামারীটি যদি চীনে উৎপন্ন হয়, পরেরটি ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোথা হতে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এটাই সত্যি।

এই ট্র্যাজেডির জন্য বাণিজ্যিক দোষরোপ বিশ্ব নেতাদের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সমীচীন হতে পারে এবং ল্যাব ফাঁসের ধারণাটি কার্যকর হতে পারে, তবে এর কিছুই বিশ্বকে এর সাথে আরও ভাল মোকাবেলায় সহায়তা করছে না।

প্রকৃত সমস্যা যা নতুন রোগের জন্ম দেয় এবং বৈশ্বিক মহামারীর কারণ, কেবলমাত্র ল্যাব দুর্ঘটনা নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল এবং অবিচ্ছিন্ন।

২২মে ২০২০,  আল জাজিরা।
লেখক
লি ঝাং।

লি ঝাং, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরভিনের আন্তর্জাতিক স্টাডিজের ভিজিটিং সহকারী অধ্যাপক।

Friday, May 22, 2020

কাশ্মীর এবং অন্যান্য মৃত্যুপুরী - ভূবন মুন্সী



"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই" এ বঙ্গীয় বোধ-বাক্য ধারন, বাস্তবায়ন আজ পৃথিবীর অনিবার্য দাবী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ পথ চলায় প্রাযুক্তিক সভ্যতা যে জায়গাটাতে খুব পশ্চাৎপদ হয়ে আছে তা মানুষ প্রসঙ্গ।

রাজনৈতিক মানচিত্র, জাতিগত মর্যাদা, গোষ্ঠীগত ও ব্যাক্তিগত মুনাফাকে সামনে রেখে চালিত সভ্যতা প্রতিনিয়ত পিঁপড়ের মতো পিষে ফেলছে মানুষ। যাঁদেরকে ঘিরে পৃথিবী সবুজ হয়ে উঠলো, সভ্যতা খোঁজে পেল টিকে থাকার যৌক্তিক সংজ্ঞা, তাঁরাই এক পর্যায়ে হয়ে উঠলো 'এক্সপেরিমেন্টাল ব্যাঙ', লেপ্টে গেলো দর্শনের কালো পৃষ্ঠায়।

আজ কাশ্মীর, কাল ফিলিস্তিন, পরশু রাখাইন; এভাবে চলতেই থাকে আফগান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া; এভাবে চলতেই থাকবে আর মরতেই থাকবে বোধ শ্রেষ্ঠ মানুষ।

বোধ শ্রেষ্ঠ হয়েও কেন এ বেহাল দশা?

মানুষ চাঁদে যায়, প্রতিবেশী আর বাড়ির লোক অনাহারে  মরে; মানুষ মঙ্গলে যায়, ঘরের লোক আত্মহত্যা করে; মানুষ সূর্যের দিকে ক্যাসিনো পাঠায়, সিরিয়া অনলে পুড়ে, পুড়ে যায় কাশ্মীর।

কেন এতো বৈপরীত্যে ঠাঁসা এক পৃথিবীর বুক?

সিরিয় শিশু আইলান কুর্দির জন্য, কঁচুকাটা হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য, ফিলিস্তিনিদের জন্য, ইরাক,আফগান আর কাশ্মীরের জন্য সেই কবে থেকে মানবিক আর্তি! কিন্তু মৃত্যু থামছেনা। যমদূত ক্লান্ত হলেই কেবল কিছুদিন মৃত্যু ঘুমিয়ে থাকে। বখাটে কুকুর গুলো প্রহরায় রাখে মানুষকে; মানুষ যেন না পালায়, যমদূত যেন পুনসংহারে মত্ত হতে পারে তান্ডব লীলায়।

সমস্যা কোথায়, সমাধান কোন দ্বীপে?

হাজারো ইতিহাস, দর্শন, সাহিত্য নির্মিত ও বিশ্লেষিত হয়ে মুদ্রিত ও পঠিত হলেও, মানুষ ও মানবীয় মর্যাদা থেকে গেছে অবেহেলায় কিংবা ভাসা ভাসা গুরুত্বে, কোন 'মানুষ সংবিধান' স্বাতন্ত্রিক মর্যাদায় মুদ্রিত, পাঠ্য ও পঠিত এবং চর্চিত হয়নি আজো; যতটুকু হয়েছে তা অন্য প্রসঙ্গের সাথে রিলেট করে, যেমন ব্যাক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানেও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার, অধিকার ও মর্যাদা আলোচ্য ও চর্চিত হয়, মূখ্যত তা কোন ভাবেই মানুষের সাথে নয়, তা ভোক্তা ও ক্রেতার সাথে; এক্ষেত্রে মানুষ না হয়ে গরু যদি ক্রেতা বা ভোক্তা হতো, তাহলে তাদের সাথেও অনুরূপ ব্যবহার হতো।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ শুধুই মানুষ, মানুষ প্রাসঙ্গিকতায় মানচিত্রও অতিশয় তুচ্ছ বিষয়। মূলত একটি সজীব মানচিত্রই বর্তমান, আর তা মানুষের মানচিত্র। এ সাড়েতিন হাত মানচিত্রের মর্যাদার, তথা যৌক্তিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন হয়ে পরেছে আধুনিক বিজ্ঞাননিষ্ঠ সংবিধান এবং মানুষ  শব্দটা যেহেতু স্থানিক সীমা অতিক্রম করে বৈশ্বিক,  সেহেতু মানুষ অর্থেই সমগ্র পৃথিবীর জন্য প্রয়োজন মৌলিক একক সংবিধান। স্থানিক বাস্তবতার ভিন্নতা, তথা বৈচিত্র্য প্রকৃতিগত শর্ত, তাই সংবিধানও হতে হবে প্রকৃতি উন্মোচিত জ্ঞান তথা বিজ্ঞানকে আধেয় করে মৌলিক পথে। প্রচলিত জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন বা ভাগের সাগরে স্নান করা পন্ডিতের পথ ও মত ক্যানভাসারের মলমের মতে গুণবতী শোনা গেলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে তা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য।

০৬.০৮.১৯

Wednesday, May 20, 2020

মহামারী থেকে শিক্ষা - এম. ইকবাল



আমাদের দেখা এই প্রথম সমগ্র পৃথিবীতে একই সময়ে সব মানুষের মধ্যে প্রাণ হারানোর ভয়, আতংক বিরাজ করছে। কি হয় শেষ পর্যন্ত, কতজন মানুষের মৃত্যু হয়, কিভাবে এর মোকাবেলা করা হবে, এই সব কিছুই এখন পর্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে আছে। সমগ্র দুনিয়া আজ কোভিড ঊনিশ এ আক্রান্ত।   । 

পৃথিবীর মোড়ল দেশগুলোসহ সবগুলো আক্রান্ত দেশই অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউরোপ, অ্যামেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ও এশিয়ার অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর লকডাউন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় এসব শহরের বাসিন্দাদের ঘরে খাবারসহ, পানীয় ও ঔষধ  সরবরাহ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। হঠাৎ করে দুনিয়াজুড়ে জরুরী অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় সব রাষ্ট্রগুলোর ব্যবস্থাপনার অসাড়তা বেরিয়ে আসছে। একমাসের জন্যও মানুষকে ঘরে রেখে খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে টিকিয়ে রাখার অবস্থা রাষ্ট্রগুলোর নেই। যদিও দু'একটি রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অন্ততঃপক্ষে এভাবে ১ মাস জনগনকে হোম কোয়ারান্টিনে রেখে ঝুঁকিমুক্ত হওয়া পর্যন্ত সকল সুবিধা অব্যাহত রাখার ঘোষনা করেছে। সেটাও একান্তই ব্যাক্তিগত মানবিকবোধের জায়গা থেকে এক ধরনের চেষ্টা ও চ্যালেন্জ। সেক্ষেত্রে কানাডা'র প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের ঘোষনা দিয়ে পৃথিবীবাসীর কাছে মহামানবীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেটাও কতটুকু সফল হবেন তার উপর ভরসা না করেই শুধু মানবীয় গুনাবলীর দিক দিয়ে জনাব জাস্টিন ট্রুডো মহামানবের সীমানায় পৌঁছেছেন।

কোন ধর্মীয়, অধর্মীয়, প্রচলিত চিকিৎসা দিয়ে এই মহামারীকে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বানের জলের মতো সবার ঘরেই ঢুকে পড়ছে ভাইরাস আতঙ্ক। স্রষ্টার কাছে মুক্তি চেয়ে সাময়িক মানসিক অস্থিরতা কিছুটা কমলেও শেষ ভরসায় রাষ্ট্রগুলো তাকিয়ে আছে সাইন্স-ল্যাবরেটরি গুলোর দিকে।

এই মহামারী থেকে আমরা আসলে কি কি শিক্ষা পেতে পারি?

১. পৃথিবীজুড়ে বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বর্তমান চ্যালেন্জ মোকাবেলায় কতটা অসাড় তা দেখিয়ে দিয়েছে এই করোনা মহামারী। সেই সাথে সুষ্ঠু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা কতটা জরুরী সেটাও এই জরুরী অবস্থা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

২. ধর্মীয় বিধিবিধান, রীতিনীতি, অনুষ্ঠান, যা মানতে বা পালন করতে গিয়ে আমরা মানুষ ও মানুষের জীবনকে তুচ্ছ করি, আজ জীবনের প্রশ্নে সকল ধর্মের বিধিবিধান, রীতিনীতি ও অনুষ্ঠান আয়োজন থমকে দাঁড়িয়েছে। এটাই ঠিক যে জীবনের জন্য ধর্ম, ধর্মের জন্য জীবন নয়। এছাড়া এটাও প্রমান হয় যে মানুষের সংকটে ধর্ম স্বয়ং আক্রান্ত হয়, আর যা কিছু নিজেই আক্রান্ত হতে পারে তার অন্যকে বাঁচানোর ক্ষমতা খুব বেশি নেই।

৩. স্রষ্টাবিশ্বাস মানুষের আত্ববিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে এবং মানুষের মানসিক অস্থিরতা সাময়িক ভাবে দূর করে। জীবন ও যাপনের প্রয়োজনে মানুষ শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানকেই অবলম্বন করে এবং ল্যাবরেটরিতেই আস্থা রাখে।


১৯.০৩.২০২০

Saturday, May 16, 2020

কোন পথে পৃথিবী? ভূবন মুন্সী



এ এক বাইবেলিক সংকট! পথ জানা নাই। ৭.৮ বিলিয়ন মানুষ পথহীনতায় ঘরে ঢুকতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষজ্ঞগণ মতামত দিচ্ছেন। দার্শনিকগণ সম্ভাব্য পথ ও পরিণতি বাতলে দিচ্ছেন। রাষ্ট্র নেতারাও আশা নিরাশার দোলাচালে জনগনকে আশ্বস্থ করছেন। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, টুইটার, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, স্যাটেলাইট চ্যানেল- সবার উৎসুক চোখ এখন COVID- 19 এ। অন্তত বার্লিন প্রাচীর ভাঙ্গন, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গন, ১ম ও ২য় বিশ্ব যুদ্ধ- এসবে মানুষের চোখ আজকের মতো ব্যাপক ব্যাপ্তিতে উৎসুক ছিলোনা। টুইন টাওয়ার হামলা, আফগানিস্তান - ইরাক -  লিবিয়া হামলা কিংবা লাদেন - সাদ্দাম - গাদ্দাফি সবটা মিলিয়েও মানুষের চোখে এতোটা উৎকন্ঠা জেগে ওঠেনি। এটা প্রভাব ও প্রায়োগিকতায় এবং মাত্রা ও গভীরতায় একদম ভিন্ন, নতুন- রিখটার স্কেলে এর কম্পন মাত্রা দশোর্ধ্ব; সুনামির চেয়েও প্রবল ঝাঁকুনি দিচ্ছে।


এটা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সবলতা- দূর্বলতা সমুহ ওপেন করে দিচ্ছে এবং সমাজ মননের গভীরতর আকুতিকে আরো অধিক স্পষ্টতায় নিরীক্ষণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

আমরা জানি, প্রত্যেক সংকটই বেশ কিছু স্থায়ী এবং অস্থায়ী পরিবর্তন সাধন করে। তড়িঘড়ি করে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়- অনেকটা জরুরী অবস্থা জারী করে কেন্দ্র কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের মতো। জনগনও মেনে নেয় - তাদের মনোযোগ সন্নিবিষ্ট থাকে মহামরীতে বা এ সিদ্ধান্ত হয়তো সংকট উৎরে দেবে- এ আশ্বাসে। এমন পরিস্থিতি রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারী স্বভাবকে আরো সংহত করে।

সংকটকালীন সময়ে (crisis moment) গৃহীত সিদ্ধান্তসমুহ অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক অবস্থায় তা গনবিরোধী, স্বৈরাচারী, শোষণমূলক সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। রাষ্ট্রও সেখান থেকে বেরিয়ে না এসে বরং সে সিদ্ধান্তকেই সর্বদার জন্য যুক্তিযুক্ত গণ্য করে সচল রাখতে থাকে। অন্তত আমরা এটুকু জানি, আপদকালীন সিদ্ধান্ত সমূহ গ্যাটিসমারা সল্যুশন হয়ে থাকে কিংবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাকারণিক সমাধান (grammatical solution) এড়িয়ে যাওয়া হয়।

ব্যাকারণিক সমাধান- এটা বিদ্যমান সংকটের উৎসমূল খোঁজে বের করে। রাষ্ট্রিক, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংকট সমূহের মূলোৎপাটন করতে সচেষ্ট থাকে। শুধু আজকের করোনা নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলবায়ু সমস্যা কিংবা আর্থিক মন্দা অথবা সামজিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান নৈতিক ধ্বস, অবক্ষয়, অস্থিরতা - যা মানুষকে আরও অধিক বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে বা জীবনের প্রতি বিপন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি জাগিয়ে তুলে মানুষকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করছে - এসব সমস্যা কোন ভাবেই ব্যাকারণিক বা দর্শনগত দিশা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।  এ দিশা যেমন দেশজ, সেই সাথে বৈশ্বকতাকে ধারণ করে হতে হবে। কোন মানুষ কিংবা কোন রাষ্ট্রই আজ আর বিচ্ছিন্ন নয় এবং তাদের সমস্যাগুলোও। প্রযুক্তির উল্লম্ফনে বিশ্ব এখন গাঁয়ের চেয়েও ছোট।

মহামারীর এ কালে আমরা রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্পনে চোখ রাখতে পারি।

রাষ্ট্রিক ক্ষেত্রে দেখবো- দায় দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনের যোজন বিয়োজন শেষে রাষ্ট্র সমুহের কপালে ব্যার্থ রাষ্ট্রের কালো টিপ সেঁটে দেওয়া যায়। খুব জোরেশোরে এবং বারবার উপদেশই সম্বল হয়ে উঠছে। ঘরে থাকা বা নিরাপদ থাকার ব্যাপারে রাষ্ট্র ব্যাক্তিকেই প্রধান গন্য করছে এবং মহামারী কালে রাষ্ট্র এটাই করে।

স্বাভাবিক অবস্থায়, উন্নয়নে সবার অংশগ্রহণে জোর তাগিদ দেওয়া হয়, ট্যাক্স বৃদ্ধিকে জন-কল্যাণ বলে প্রচার করা হয়, রাষ্ট্রের সফলতার ব্যানার মোড়ে মোড়ে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়, ঠিক বিপরীতে সংকট কালে ব্যাক্তির পারফরম্যান্সকে মূখ্য বলে প্রচার করা হয়। অর্থাৎ স্ব-উদ্যোগে সংকট মোকাবিলা করুন, ঘরে থাকুন- সুস্থ থাকুন কিংবা ধান বন্যাকবলিত হলে শোনা যায়- বেশি করে আলু খান অথবা ধান, আলু উভয়ই নষ্ট হলে শুনবো- রাষ্ট্রের জন্য রোজা রাখুন ইত্যাদি।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সমুহের ব্যার্থতা হিমালয় বা আল্পসের চেয়ে ভারী। ওপেন-ক্লোজ কিংবা রান-স্টপ ডিসিশনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র যেন আবাল বালক - মতিভ্রম মাথার মতোন হুটহাট ডিসিশন, হুটহাট হুংকার কিংবা হুট করেই সিদ্ধান্ত বাতিল। এটা বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা হয়ে সবখানে। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু বা অবহেলার অস্ত্রে খুন কমন ম্যাটারে পরিণত হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট, ম্যান্টালি সিক অর্থনৈতিক সিস্টেম বলবৎ রয়েছে। অ্যানি হাউ মুনাফা বৃদ্ধিই অর্থনীতির প্রধান কাজ। অর্থাৎ খাবারের জন্য নয়, কেকটা আরও বড় করার জন্যই কেক বানানো হয়েছে। অতীতের চেয়ে উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ, অথচ দুর্ভিক্ষ, অনাহার কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা।

আজাইরা কাজ নিয়েও অর্থনীতিটা বেশ ব্যাস্ত। পয়সা কামানোই হক কথা; ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই- পর্নোগ্রাফি হলেও আপত্তি নেই। দ্রুত মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট সাপ্লায়ের ইচ্ছা, লকডাউন, কোয়ারিন্টিন এর ইন্টেনশনও জন কল্যাণ নয়, বরং ক্ষমতা এবং অর্থ। অন্তত ট্রাম্প এবং তার সচিবের কথা থেকে তা স্পষ্ট।  সচিবতো বৃদ্ধ মানুষকে মূল্যই দিচ্ছেন না বরং ভাবছেন দু-চারজন বৃদ্ধ মরেও যদি অর্থনৈতিক ধ্বস ঠেকানো যায় সেটাই ভলো। অর্থাৎ লকডাউন তুলে নিতে চাই।

সামাজিক ক্ষেত্রে, আত্মকেন্দ্রিক প্রবণতাও অধিক খোলাসা হয়েছে। বিশেষ করে টিস্যু পেপার হাওয়া হয়ে যাওয়া, স্যানিটাইজার উধাও- এসব জন স্বভাবের মানকে প্রতিফলিত করে। তার পরও পৃথিবীতে মানবিক আত্মার ডাক শোনা যাচ্ছে। বাজারী সভ্যতার যুগেও অস্থির হয়ে থাকা মানুষের চেতনার গভীরে অস্পষ্ট মানবিক আত্মার ডাক শোনা যাচ্ছে।  পাশে থাকা বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। উদাসীন রাষ্ট্রের অপেক্ষা না করে ব্যাক্তিগণই প্রথম মানবিক আওয়াজ দিয়ে পাশে থাকার প্রত্যয় দেখিয়েছে। স্পষ্টত সে আওয়াজে দেশ-ধর্মের ভেদ নাই, নারী-পুরুষ নাই, শুধুই মানুষ আর মানবিকতা। হৃদয়ের গভীরতর খাঁদে লুপ্ত থাকা বৌদ্ধিক কন্ঠ শোনা যাচ্ছে - যে খাঁদে অলক্ষ্যে অশ্রুপাত হয় সিরীয় শিশুর জন্য, আফগান রাখালের জন্য, ফিলিস্তিনের বালকের জন্য,লক্ষ কোটি শরণার্থীর জন্য, অনাহারী আফ্রিকানদের জন্য...। খাঁদে নিমজ্জিত সে বোধের প্রকট হওয়া নতুন সূর্যোদয়কে নিশ্চিত করবে।

এ সংকটের সর্বোচ্চ শাস্তির মাত্রা এখনো অনির্ণেয়। এর পর আমরা- অধিক বর্বরতায় পর্যবসিত হবো নাকি মানবিক বিশ্ব গড়ে তুলবো? চীন কেন্দ্রীক নয়া বলয় তৈরি হবে নাকি পুরনো মোড়লই যুদ্ধের হুংকার দেবে? সামাজিক অস্থিরতা আর আত্মহত্যা কি আরও বাড়বে? ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানগণ সিভারলি ড্রাগ এডিক্টেড হয়ে উঠবে আর আন্ডার ওয়ার্ল্ড থেকে কোন মাফিয়া ডন পৃথিবীর ঘন্টা বাজাবে? নাকি বিজ্ঞানের আলোয় পথ চলবে পৃথিবী, মনুষ্যত্বের জয় গান গাইবে?

ড্রামাটিক কোন চেইঞ্জ হয়তো আসবেনা। তবে এ মহামারী পরবর্তী আর্থিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে আঞ্চলিক জোট সমূহ বৃদ্ধি পাবে। বৈশ্বিক জোট ও বৈশ্বিক সংস্থা সমূহ ঘন ঘন রিপোর্ট পেশ করবে, বৈঠক ডাকবে। মানবাধিকার নিয়ে আরও ব্যাপক আলোচনা, আন্দোলন শুরু হবে। করোনা কালের পূর্বে এবং চলমান সংকট সমূহ নির্মূল হবেনা, রিডিউস হবে এবং উদ্ভট গ্যাটিস বা জোড়াতলি শুরু হবে। একটা grammatical solution এ আসতেই হবে। চোখের সামনেই তো জোট সমূহ বেকার হয়ে আছে, পথের অসারতা ওপেন হয়ে আছে। আদি ইউরোপীয় ডাকাত সঙ্ঘের চেয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্ষমতা কমে গেছে, অন্তন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রূপকথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এটাই প্রকাশ পায়।

লিডারের কাজ সচিব করতে পারেনা বা সে দায় টুকুও থাকেনা। বৈশ্বিক মহা সচিবের বর্তমান কর্মতৎপরতা ও ভূমিকা দেখেই তা স্পষ্ট বুঝা যায়। কাজেই সচিব বা আমলা নির্ভরতা নয় বরং জন প্রতিনিধি নির্ভরতায় জাতিসংঘ তার নির্বাক ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। আঞ্চলিক জোট গুলোও যুক্তিযুক্ততা পাবে সে পথেই। আর এটা বাস্তবায়িত করতে গেলে বৈশ্বিক রাষ্ট্র কাঠামো অনিবার্য হয়ে উঠবে, ব্যকারণিক সমাধানটাই মূখ্য হয়ে উঠবে।

এখনতো মৃতের মুঠোয় বন্দী জীবন।

১৬.০৫.২০২০

Wednesday, May 13, 2020

এটা পৃথিবীর পরিবর্তনের সময় - রুটার ব্রিগম্যান


অনুবাদ: ভূবন মুন্সী 

করোনভাইরাস কীভাবে বিশ্ব বদলাবে? আমরা এখনো জানি না।  তবে আমরা জানি মহামারীটি আঘাত হানার আগে আমরা কোথায় ছিলাম: বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ঐতিহাসিক রেকর্ডে পৌঁছেছিল, অস্ট্রেলিয়া শেষের দিকে কয়েক মাস ধরে আগুনে জ্বলছিলো, হাঙ্গেরি এবং ভেনিজুয়েলায় স্বৈরশাসকরা গণতন্ত্রকে দমিয়ে রাখছিলেন, এবং বিক্ষোভের স্রোত বয়ে গেছে ছয়টি মহাদেশে - হংকং থেকে মস্কো, বৈরুত থেকে প্যারিসে।

 এখন আসলো কভিড -১৯।

 ভাইরাসটি বিশ্বের অসাধারণ বৈষম্য এবং অবিচারকে বহন করে। অত্যাবশ্যক পেশাগুলির তালিকা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে প্রকাশিত হয়েছিল। অবাক করে দিয়েছিল যে, "হেজ-ফান্ড ম্যানেজার" এবং "বহুজাতিকের জন্য ট্যাক্স বিশেষজ্ঞ" এর মতো পদগুলি তার মধ্যে ছিল না।  হঠাৎ স্ফটিকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে গেলো- স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে, সুপারমার্কেটগুলিতে কে সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। সাধারণ নিয়মটি দেখে মনে হয়েছিল: আপনার কাজটি যত গুরুত্বপূর্ণ, আপনার বেতন তত কম হবে, আপনার কর্মসংস্থান ততই অনিরাপদ এবং করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপনি অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তাদের মধ্যে যারা আছেন মনে করেন আমাদের মহামারীটি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।  এছাড়াও যারা আছেন তাদের বলছেন আমাদের এখনই কথা বলা উচিত।  আমাদের ভবিষ্যতের বিষয়ে সিদ্ধান্তগুলি সপ্তাহ, দিন, ঘন্টার মধ্যে নেওয়া হচ্ছে। এর পরিণতি কয়েক দশক ধরে অনুভূত হবে।

 আসুন স্পষ্ট হই: এই পরিস্থিতিতে ইতিহাস লেখা হয়।  উদাহরণস্বরূপ, ১৯৩০ এর দশকে আমেরিকা মহামন্দার মাঝে নিউ ডিলের কল্পনা করেছিল।  ১৯৪০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেভারিজ রিপোর্ট - the prime text of the British welfare state - লন্ডনে বোম পড়ার সময় প্রকাশিত হয়েছিল।

 তবে এটি অন্য পথেও যেতে পারে।  ১৯৩৩ সালে রেইচস্ট্যাগ জ্বলানোর পরে, শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য অ্যাডলফ হিটলারের সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ৯/১১ হামলাগুলির পরে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” এবং গোপন সংস্থাগুলি দ্বারা বেসামরিকদের গণ নজরদারি চালানো হয়েছিলো।

গত সপ্তাহ ধরে, একটি পুরনো উক্তি থেকে আমার মাথা সরছে না। এটা মিল্টন ফ্রেডম্যানের- যিনি বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ।  ১৯৮২ সালে তিনি লিখেছিলেন, "কেবলমাত্র একটি সংকট - প্রকৃত বা অনুভূত -  সত্যিকার পরিবর্তন আনতে পারে।  যখন সেই সংকট দেখা দেয়, তখন নেওয়া পদক্ষেপগুলি আশেপাশের ধারণাগুলির উপর নির্ভর করে।

 এই মুহুর্তে, আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংকটে আছি। করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব ২০০৮ সালের মহা মন্দার প্রভাবের চেয়েও বেশি এবং 1930-এর দশকের হতাশার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইতিহাস যদি আমাদের কিছু শিখায় তবে অসাধারণ কিছু সম্ভব। সবকিছু "চারপাশে থাকা ধারণাগুলি" এর উপর নির্ভর করছে।

তাহলে এই ধারণাগুলি কী?

 ২০১১ সালে "The Protester" টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষ সেরা ব্যাক্তি ছিলো। সেই থেকে, যে ধারণাগুলি অযৌক্তিক বা অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করা হত তা মূলধারায় চলে গেছে। চিন্তা করুন, থমাস পাইকেট্টির মতো পূর্বে একাডেমিক ভাবে অচেনা একজন কীভাবে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ হয়েছিলেন।  এক অজানা এশিয়ান-আমেরিকান ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু ইয়াং এর কথা চিন্তা করুন, কীভাবে কয়েক বছর আগে প্রায় ভুলে গিয়েছিল এমন একটি ধারণা (সার্বজনীন বেসিক আয়) দিয়ে কয়েক মিলিয়ন আমেরিকানকে আবেশিত করেছিল। চিন্তা করুন যে একজন সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থানবার্গ এখনও 17 বছর বয়সে কীভাবে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় climate-justice movement শুরু করেছিলেন।

 এপ্রিল মাসে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক কাগজ ফিনান্সিয়াল টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ডের একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিল যাতে দেখানো হয়েছিল যে সময়গুলি কতটা বদলেছে। পত্রিকায় বলা হয়েছে  "গত চার দশকের নীতিনির্দেশক দিকের বিপরীত মৌলিক সংস্কারকে টেবিলে রাখা দরকার"।  "মৌলিক আয় এবং সম্পদ করের মতো সাম্প্রতিক বিবেচিত তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগুলো মিশ্রণে থাকতে হবে”। আমি যা পড়ছিলাম তা আমি খুব কমই বিশ্বাস করতে পারি। এটি কি ফিনান্সিয়াল টাইমস (কোনও বামপন্থী কাগজ নয়) বলেছিলো, আমাদের ধনীদের উপর কর আদায় করা, সরকারের আকার বাড়ানো এবং সবাইকে বিনামূল্যে অর্থ দেওয়া দরকার?

 আপনি বলতে পারেন: আচ্ছা, এগুলি খুব আকর্ষণীয়, কিন্তু সমাজতান্ত্রিক জেরেমি কর্বিনকে ব্রিটেনের নির্বাচনে পিষ্ট হওয়ার বিষয়ে মেমোটি পান নি?  এবং আপনি কি শুনেন নি যে "বিপ্লবী" বার্নি স্যান্ডার্স আসলে মধ্যপন্থী জো বাইডেনের কাছে হেরে গেছেন?  ইউরোপে নির্বাচনের পরে কি সামাজিক গণতন্ত্রীরা নির্বাচন হারাচ্ছেন না?

 সত্য।  তবে যখন আমরা জুম আউট করি, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আরও বড় কিছু চলছে।  "মধ্যপন্থী" বিডেন যে প্ল্যাটফর্মটিতে চলছে তা কেবল দেখুন।  তার ট্যাক্স পরিকল্পনা হিলারি ক্লিন্টনের ২০১৬ সালের ট্যাক্স পরিকল্পনার তুলনায় দ্বিগুণ। তার $ ১.৭ ট্রিলিয়ন জলবায়ু পরিকল্পনায় ক্লিন্টনের ২০১৬ সালের  clean-energy প্রতিশ্রুতি ছিল ৩০ বার এবং চার বছর আগে স্যান্ডার্সের চেয়ে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী।  এবং হ্যাঁ, কার্বইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৭ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন, তবে কনজারভেটিভদের সর্বশেষ পাবলিক-সার্ভিস ব্যয় তাদের নিজস্ব ইশতেহারের চেয়ে লেবারের পরিকল্পনার কাছাকাছি ছিল।

 এদিকে, এটি স্মরণে রাখা জরুরী যে গতকালের তথাকথিত র‌্যাডিক্যাল আইডিয়া যেমন ধনীদের আরো বেশি কর বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী জলবায়ু পদক্ষেপ উন্নত দেশগুলির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখন সমর্থন করে।  গত বছর, ২১ টি দেশের ২২,০০০ জনের জরিপের সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সংখ্যাগরিষ্ঠরাই মনে করে, দরিদ্রদের সহায়তার জন্য সরকারকে ধনীদের আরও বেশি কর দেওয়া উচিত।  জানুয়ারিতে, রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকানদের দুই-তৃতীয়াংশ বিশ্বাস করে যে খুব ধনী লোকদের রিপাবলিকানদের ৫৩% সহ ​​আরও বেশি কর দেওয়া উচিত।

 ঐতিহাসিকরা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন, একটি সংকট সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এই সঙ্কট কীভাবে আমাদেরকে একটি অন্ধকার পথে নিয়ে যেতে পারে তা কল্পনা করা কঠিন নয়।  কোভিড-১৯ -  ৯/১১ এর মতো হতে পারে: ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের দ্বারা নির্যাতিত এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।

 তবে যদি কোনও বিকল্প সম্ভব হয়, তবে এটি সেই সমস্ত বিক্ষোভকারীদের জন্য যারা কল্পনাকে বিশ্বাস যোগ্য  করে তুলেছেন। মহামন্দার পরে আমেরিকা যেমন নিজেকে নতুন করে তুলেছিল, তেমনি এই সংকটে আরও ভাল কিছু হতে পারে।  অতিরিক্ত ব্যক্তিত্ববাদ এবং প্রতিযোগিতার বয়স শেষ হতে পারে এবং আমরা সংহতি ও সংযোগের নতুন যুগের উদ্বোধন করতে পারি।

 আপনি যখন টেলিভিশন চালু করেন এবং টয়লেট পেপার চুরি করা লোকদের কথা শুনে বা সশস্ত্র লোকেরা প্রতিবাদ জানাবেন তখন এ জাতীয় পুনর্জাগরণে বিশ্বাস করা শক্ত হতে পারে।  এই জাতীয় মুহুর্তগুলিতে, এই সিদ্ধান্ত আসে যে বেশিরভাগ লোক স্বার্থপর এবং অহঙ্কারী।

তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে মিডিয়াগুলি প্রায়শই নেতিবাচক দিকে মনোনিবেশ করে। আমাদের আরও বড় ছবিটি একবার দেখে নেওয়া দরকার।  আমরা দেখতে পাব যে সঙ্কট গভীর হওয়ার সাথে সাথে সংহতি প্রকৃতই বৃদ্ধি পাচ্ছে।  পরার্থপরতা ও সহযোগিতার বিস্ফোরণ ঘটছে: বারান্দা থেকে লোকে গান করছে;  প্রতিবেশীরা খাবার সংগ্রহ করছে;  স্বেচ্ছাসেবীরা মাস্ক সেলাই করছে;  ডাক্তার, নার্স এবং ক্লিনাররা তাদের জীবনকে ঝুঁকির সামনে ফেলছে।

 বিগত পাঁচ বছর ধরে, আমি অধ্যয়ন করেছি যে কীভাবে গত দুই দশক ধরে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা মনুষ্যত্বের প্রতি আরও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কাছে এক উদ্বেগ থেকে পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন।  তারা বলছেন, মানুষ লড়াই এবং প্রতিযোগিতা দিয়ে গড়ে উঠেনি, বন্ধু বানিয়েছে এবং একসাথে কাজ করেছে। সহযোগিতা ইউনিক ক্ষমতাটি আমাদের প্রজাতির সাফল্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে।

 অসাধারণ চ্যালেঞ্জের সময়ে, যখন COVID-19 বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকটের পূর্বসূরীর মতো মনে হয়, তখন আমাদের একে অপরের মধ্যে ভালো ধরে নেওয়া দরকার।  ইতিহাসবিদ হিসাবে আমি বলতে পারি না আমি আশাবাদী, তবে আমি আশাবাদী, কারণ আশা আমাদের কাজে উৎসাহ প্রদান করে।

from time magazine:
BY RUTGER BREGMAN MAY 7, 2020 6:07 AM EDT
Bregman is a Dutch historian and staff writer of the Correspondent. His new book, Humankind: A Hopeful History, will be published.