| কবি তন্ময় সাহা |
Tuesday, December 21, 2021
কবি তন্ময় সাহা'র আলোচনা- ২
Saturday, December 11, 2021
দায়হীন সর্দারপনা স্বৈরাচারী - ভূবন মুন্সী।
থাকো দেশে অথচ গীত গাও নাঙের - ভূবন মুন্সী।
| messenger of cosmology |
Tuesday, November 30, 2021
মানুষ ও প্রফেশনাল ম্যান - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
Saturday, November 20, 2021
ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল সুমন।
"ধন্যবাদ, নতুন দলকে সুযোগ দেবার জন্য"
| Messenger Of Cosmology |
Wednesday, October 27, 2021
প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় সরকার - মুরশীদ সেলিন।
| মেসেঞ্জার অব কসমোলজি |
ইমোশন বনাম রিয়েলিটি - ভূবন মুন্সী।
ইমোশন বনাম রিয়েলিটি
Thursday, September 17, 2020
এবং সত্য কথা - এম ইকবাল।
সত্য কথার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে- তুমি কাউকে সবসময় খুশি রাখতে পারবে না যদি সে সত্যের অনুসন্ধানী না হয়।
Tuesday, August 18, 2020
মনরে কৃষি কাজ জানো না - মোঃ শামীম রেজা।
মনরে কৃষি কাজ জানো না
প্রাচীনকালে ভারতবর্ষের শিক্ষা পদ্ধতি ছিল গুরুগৃহ কেন্দ্রীক। শিক্ষার্থীরা গুরুর আশ্রমে দীর্ঘদিন থাকতো এবং গুরু শিক্ষার্থীদের জীবন-যাপন থেকে শুরু করে প্রচলিত বিশেষায়িত বিষয় সমুহের উপর অধ্যায়ন করাতেন আগ্রহ এবং মেধা অনুসারে। ঔ সময়ের শিক্ষার ভিতর কৃষিকাজ হাতে কলমে শিক্ষা করা ছিল সব শিক্ষার্থীর জন্য অক্ষরজ্ঞান অর্জন করার মতই মৌলিক এবং বাধ্যতামূলক বিষয়। অক্ষর জ্ঞান প্রদানের সাথে সাথে তাদের প্রত্যেককেই আলাদা আলাদা টুকরো জমি প্রদান করা হত এবং সেই জমিতে গুরুর নির্দেশ মত আবাদ করে ফসল ফলাতে হত।
এই শিক্ষা পদ্ধতির দরুন শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রথম পর্যায়েই নিজ দেশের মাটি-জল-আবহাওয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হত এবং অধীত বিষয়ের সাথে খুব সহজে তার দেশের মাটির সংযোগ স্থাপন এবং প্রয়োগ করতে পারতো। ভারতবর্ষে অপ্রায়োগিক/অপ্রয়োজনীয় জ্ঞানের চর্চা কখনো ছিল না। এর ফলে পান্ডিত্যের অসার -অহমিকা তৈরি হওয়ারও কোন সুযোগ থাকতো না বরং অর্জিত জ্ঞান কত বেশি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো যায় সেটাই ছিল শিক্ষা অর্জনের মৌলিক উদ্দেশ্যগত দিক। খুব অবাক করা বিষয় হলো এদেশের অক্ষরজ্ঞানহীন জনসমাজের ভিতর এখনও বিলুপ্ত প্রায় এরকম বিশ্বাস টিকে আছে যে এদেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ তাদের অন্ধকার ভাগ্যাকাশে কোন একদিন সূর্যের মত জ্বলে উঠবে। রাতের অন্ধকারে নিজের শেষ সম্বলটুকু ও বিলিয়ে দিয়ে কেউ কেউ দুঃসাহসে বলে ওঠে "আমরা ওদের প্রদ্বীপের তেল জোগাবো ওরা আমাদের আলো জোগাবে"।
শিক্ষা পদ্ধতির ধারাবাহিক ক্রম-বিবর্তন, সমাজ, রাষ্ট্র,বিজ্ঞান ইত্যাদি পরিবর্তন মারফত কালের ফেরে বর্তমানে যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে করে বাংলাদেশের মত দীর্ঘ উপনিবেশ শাসিত দেশের ছেলেমেয়েরা সেই অর্থে নিজের আগ্রহই আবিষ্কার করতে পারে না, করতে পারলেও সে বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করার পথ বিভিন্ন কারণে সুগম্য হয় না, পড়ালেখা করতে পারলেও অধীত বিষয়ের জ্ঞান প্রয়োগে এ দেশের মাটি খুজে পায়না।
প্রসঙ্গান্তরে একটু ভিন্নবিষয়ের অবতারনা করতে হচ্ছে...
বাংলাদেশে ষাটের দশকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আসাদের প্রায় সবাই ছিল তৎকালিন ক্ষয়িষ্ণু সামন্ত জমিদার পরিবার থেকে উঠে আসা। ফলে বিপ্লব প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয়তা তাদের বোধে যতটুকু না ছিল বাস্তবিক তার চাইতে অনেক বেশি ছিল সোভিয়েত-চীন-ভিয়েতনাম-কিউবা র তাত্ত্বিক প্রতিফলন।
সামন্ত পরিবারের এই বিপ্লবীরা পারিবারিক ভাবে স্বচ্ছল থাকার কারণে শিক্ষা-দীক্ষা, রাজনীতি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসছে একই সাথে পুজিঁর চরিত্র্য এবং মালিকানার পরিবর্তন আসছে সেটাও বুঝতে পেরেছিলেন। ক্ষমতা এবং ঐতিহ্যের পাড়ায় তারা সর্বহারার স্লোগানের ভিতর নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলেন। খুব সংকীর্নদৃষ্টিতে এমনটাই দেখা যায় অন্তত বর্তমান পরিস্থিতি দিয়ে বিচার করতে গেলে। তবে সেটা ছিল এক ঐতিহাসিক পরিস্থিতি যা ঘটা ছিল অনিবার্য।
(আরও পড়ুন - শ্রী রীতির কবিতা গুচ্ছ)
এসব কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের কথায় বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষ স্বাধীনতার পরও ঘর থেকে বের হয়ে গেছে সর্বহারাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তারা মার্ক্স, লেলিন, মাও সে তুং এর নাম মুখস্থ করতে শিখেছিল। তারা আমেরিকা, রাশিয়া, চীনের গল্প রূপকথার মত বিভোর হয়ে শুনতে শিখেছিল সে সময়।
৯০ এর দশকে এসে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ধরনটা পাল্টে যেতে থাকে। সচেতনভাবে দেশে বিরাজনৈতিক চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করার আয়োজন চলে বিভিন্ন মাধ্যমে। যার ফলাফল একবিংশ শতকে এসে বাংলাদেশে তরুণদের ভিতর রাজনৈতিক এনার্কির বর্ধিত সংক্রমন।
কমিউনিস্ট নেতাদের বিপ্লবী আদর্শ এদেশের মাটি-জল-আবহাওয়া পেল না ফলে আদর্শিক শক্তির বিকৃত প্রকাশ ঘটার ইতিহাস আমাদের সবার জানা। পার্টি গুলোর ভিতর বিভাজন, শ্রেণী শত্রু খতমের নামে খুন-খারাপি বাড়তে থাকায় একসময় এদেশের মানুষের কাছে তারা গনবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী দল হিসেবে পরিচিতি পেল।
শিক্ষার সীমাবদ্ধতা হলো তা জ্ঞাত অর্থে সার্বজনীন হলেও প্রয়োগ অর্থে দেশ-কাল-পাত্র শর্ত মুক্ত হতে পারে না। এই শর্তগত কারণেই শিক্ষা পদ্ধতির কাঠামো এবং বিষয় দেশ বা কালাত্তীর্ণ নয় বরং পুরোটা দেশজ ও কালিক হতে প্রয়োগগত কারণেই বাধ্য।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবী বা উদার গণতান্ত্রিক ধোঁয়া তোলা শিক্ষিত সমাজের নেতারা এদেশের জনগনের উন্নয়নের জায়গাটা আদতে কোথায় তার শিকড়টাই অনুসন্ধান করার তাগিদ অনুভব করেনি বা করতে চাননি। (চাইলে নদী গুলোর এই অবস্থা হত না, বন জঙ্গল ধ্বংস করে প্রকৃতি পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাতো না, এ দেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা বিদেশী কোম্পানি গুলোর নিকট জীম্মি হয়ে যেত না।)
এদেশের গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় চলমান বিচার ব্যবস্থা, উৎপাদন-বন্টন তথা সাংস্কৃতিক বোধ সমাজকে পরিচালনা করার জন্য এবং সমাজ প্রগতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পরিবর্তিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার সাথে তা সমাজ দর্শন এবং রাজনৈতিক দর্শনের নিরিখে বিচার-প্রয়োগ করার কোন দায়ই কেউ নেয়নি।
যারা এসব একটু আধটু বোঝার চেষ্টা করে এরা রাজনীতি বিমূখ দায়হীন শুকনো জ্ঞানের হম্বি-তম্বি করে বেড়ানো বুদ্ধিজীবি গোছের আর যারা এসব বোঝেনা কিন্তু এটা বোঝে যে সমাজে ক্ষমতার উপযোগিতা কতটুকু আর সেই ক্ষমতার কেন্দ্র রাজনীতি দ্বারা আচ্ছাদিত। সুতরাং তাদের যেতে হয় ক্ষমতার চর্চা করতে রাজনীতিতে। পুজিঁর সাথে ক্ষমতার সম্পর্ক যত সমান্তরাল হতে থাকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সাথে সাথে পুজিঁও কেন্দ্রীভূত হতে থাকে।
এদেশের জনগন কোন রাজনৈতিক নেতাকে বিশ্বাস করতে চাই না এমনকি শিক্ষিত শ্রেণী কেও তারা বিশ্বাস এবং সম্মান কোনটাই করে না। শহুরে বেশিরভাগ শিক্ষিত মানুষগুলো যে ধড়িবাজ তা তারা এখন বুঝে ফেলেছে। এই অবিশ্বাস আর হরিলুটের যুগে দু-একজন যে কর্ম-যোগী, জ্ঞান-যোগী নেই তা সর্বতোভাবে বলা যায় না।
এদেশের জন্য সত্যি সত্যি কিছু করতে হলে এদেশের নদী, মাটি, ফসল, বীজ, বন, পাহাড় বুঝতে হবে আগে। এসব বুঝতে হলে এসবের সাথে যাদের নাড়ীর সম্পর্ক তাদের বুঝতে হবে। দুর থেকে বই পড়ে বোঝার ফলাফল পেয়ে আসছে এদেশ। মাঠে নামলে হয়তো চেয়ারে বসে চুরি করার ইচ্ছেটা আর নাও থাকতে পারে। চোর বা রাজনীতিবিদ বা বিপ্লবী প্রথমে ভিন্ন হয় চেতনাবোধে তারপরে ভিন্ন বা সমগোত্রীয় হয় চেতনা প্রয়োগে।
শুভ বোধের উন্মেষ ঘটুক এবং উন্মেষিত বোধ যথাযথ প্রয়োগের দিশা/কাঠামো পাক।
আরও পড়ুন: শামীম রেজার...
মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের...
দেশীয় অর্থনীতি বনাম যোগান বিধি
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
মোঃ শামীম রেজা
মোঃ মাসুদ মিয়া
শ্রী রীতি
ভূবন মুন্সী
মেইল করুনঃ
shimul2016.bsm@gmail.com
Wednesday, July 29, 2020
বিশ্বায়ন,অর্থনীতি ও রাজনীতি এবং আমার ভাবনা || মেহেদী হাসান।
বিশ্বায়ন বিংশ শতকের শেষভাগে উদ্ভূত এমন একটি আন্তর্জাতিক অবস্থা যাতে পৃথিবীর বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা দৈশিক গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তঃদেশীয় পরিসরে পরিব্যাপ্তি লাভ করেছে। এর ফলে সারা বিশ্ব একটি পরিব্যাপ্ত সমাজে পরিণত হয়েছে এবং অভিন্ন বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান,উৎপাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশ যুগপৎ অংশ গ্রহণ করছে।
এটি পারষ্পরিক ক্রিয়া এবং আন্তঃসংযোগ সৃষ্টিকারী এমন একটি পদ্ধতি যা বিভিন্ন জাতির সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের মধ্যে সমন্বয় ও মিথস্ক্রিয়ার সূচনা করে। এই পদ্ধতির চালিকাশক্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আর এর প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি।
বিশ্বায়ন শব্দটি বতর্মান সময়েবহুল ব্যবহৃত শব্দ।আমরা সকলেই কম বেশি এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকি।তবে ১৯৬০ সালের আগে বিশ্বায়ন শব্দটি খুব একটা ব্যবহৃত না হলেও ১৯৬০ সালের পর থেকে ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হতে থাকে এবং বতর্মানে এটি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।সুতরাং প্রাচীনকাল ও মধ্যযুগে বিশ্বায়নের প্রয়োগ ইউটোপিয়া হলেও বতর্মানে এর প্রয়োগকে আর ইউটোপিয়া বলা যাবে না। কেননা বতর্মান পৃথিবীর বাস্তবতায় কোন মানুষই বিশ্বায়নের বাইরে থাকতে পারবে না। বিশ্বায়ন আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করছে সেটা বুঝতে হলে আমাদেরকে বুঝতে হবে প্রযুক্তি আমাদের জীবনে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করছে। কারণ প্রযুক্তিগত উত্তরণের সায্যুতায় পৃথিবী আজ গ্রামের থেকেও ছোট। পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে সেই খবর মিডিয়া বা সোস্যাল মিডিয়া মারফত আমাদের কাছে (না চাইলেও) খুব দ্রুতই পৌঁছে যাচ্ছে যেটা পূর্বে সম্ভব ছিল না।
বর্তমানে বিশ্বায়ন আর প্রযুক্তির প্রভাব আমাদের উপর কতটুকু সেটা বুঝার উৎকৃষ্ট উদাহরণ কোভিড-19 ভাইরাস। এই ভাইরাসের উৎপত্তি যেখানেই ঘটুক না কেন এর প্রভাব বা ভয়াবহতার হাত থেকে পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রই রক্ষা পাচ্ছে না। উল্লেখ্য যে পৃথিবীর ইতিহাসে পূর্বের কোন সংকটই সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে এভাবে তটস্থ করতে পারে নাই। আবার এই বিশ্বায়নের ফলে আজ এটা সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে পৃথিবীর সমস্ত কাঁটাতার থাকবে কি থাকবে না।
বিশ্বায়নের সাথে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সকল কিছুই অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। সুতরাং অর্থনীতি ও রাজনীতিও এর বাইরে নয়। বিশ্বায়নের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আমরা গ্লোবাল অর্থনীতি ও গ্লোবাল রাজনীতি বলতে পারিণ(তবে এই দুই বিষয় নিয়ে এখনও অনেক গবেষণার প্রয়োজন থাকতে পারে)। এই গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে জানতে হলে আমাদেরকে পূর্বের অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে কিছুটা ধারনা রাখা প্রয়োজন।
আধুনিক কালে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবে বিশ্বের শাসনকার্য পরিচালনা করার জন্য অর্থনীতি ও রাজনীতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।( অর্থনীতি ও রাজনীতি কে একত্রে করে আলোচনার কারণ সেই প্রাচীনকাল থেকে এই দুইটা পৃথিবীর ইতিহাসে পাশাপাশি অবস্থান করে চলছে)।
1. কলোনিজম বা কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতি
এই কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 1492 সালে কলম্বাসের আমেরিকা দখলের মাধ্যমে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে 1941 সালের আগষ্ট মাসে তৎকালীন গ্রেট বৃটেনের সাথে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এর একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে। যে চুক্তির কথা 90% মানুষ জানে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে বৃটেন দখল করতে আসে তখন বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল রুজভেল্ট এর কাছে সাহায্য চাইলে রুজভেল্ট এই চুক্তির মাধ্যমে বৃটেনকে সাহায্য করতে রাজি হয়। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যদি মিত্র শক্তি জয়ী হয় তবে বৃটেন কলোনী প্রথা বিলোপ বা নিষিদ্ধ করবে এবং পরবর্তীকালে 1945 সালে নিষিদ্ধ হয়। আর 1945 থেকে 1949 সালের মধ্যে সমস্ত কলোনি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কলোনি কালীন অর্থনীতি ও রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ছিল বৃটেন, হল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন এই ছয়টি দেশের হাতে।
2. নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতি
নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 1945 সালে রুজভেল্ট এর হাত ধরে জাতিসংঘ, আই এম এফ+বিশ্বব্যাক, এবং WBO প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে 2009 সালে(2008 সালের অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে )। এই নয়া সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ছয় পান্ডবের হাত থেকে একক আমেরিকার হাতে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ চলে আসে। এছাড়া ডলারকে একক বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে প্রচলন সহ একাধিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলো পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। এছাড়াও মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলন করে পৃথিবীর অর্থনীতি মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির হতে গোচ্ছিত হয়।
3. গ্লোবালাইজেশন বা গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতি
গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির সূচনা ঘটে 2009 এবং এটি এখন পযর্ন্ত চলমান আছে।
গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির মধ্য দিয়ে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আমেরিকার হাত থেকে চীনের হাতে চলে আসবে। আমেরিকা আর চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ যার প্রথম প্রমাণ। চীনের হাতে কেন আসবে তার স্পষ্ট প্রমাণ চীন-ইরান সমোঝতা চুক্তি যা মধ্যপ্রাচ্য সহ ইউরোপের সকল দেশ সমূহের চীনের দিকে ঝুকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে যেসকল দেশ বা রাষ্ট্রপ্রধান গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ধারণ না করে কলোনি অর্থনীতি ও রাজনীতি আর নয়া সাম্রাজ্য অর্থনীতি ও রাজনীতিকে আকড়ে থাকবে সেই দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে পেছনে পড়ে যাবে।আর যারা বুঝতে পারবে তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে চীনকে অতিক্রম করতে না পারলেও সম অবস্থানে থাকবে।
এখানে একটা বিষয়ে ধারণা থাকা দরকার গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির পথটা কিন্তু আমেরিকা তৈরি করে দিয়েছে যেমন করে কলোনি অর্থনীতি ও রাজনীতি সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতি ও রাজনীতির পথ তৈরি করে দিয়েছিল।
আবার আমেরিকা যদি এই গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ঠেকিয়ে রাখতে চায় তা যেমন তারা পারবে না তেমনি গ্লোবাল অর্থনীতি ও রাজনীতির সম্পূর্ণ বিষয় যদি ধারণ করে সেই অনুযায়ী চলেও তবুও সে তার হারানো জায়গা ফিরে পাবে না। ইতিহাস কথা কয়।
সুতরাং এই নয়া অর্থনীতি ও রাজনীতিকে প্রতিটি রাষ্ট্রের মেনে নেওয়াই শ্রেয় আখের পৃথিবী ও তার নিজ দেশের মঙ্গলের প্রশ্নে। আর মেনে না নেওয়া মানে পৃথিবী ও পৃথিবীতে বসবাসকারী সকল প্রাণীর জন্য অশান্তির বাহক।
কেননা সন্তান প্রসবের যখন সময় হয় তখন কেউ যেমন তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না বা জোর করে ঠেকিয়ে রাখলে যেমন মা সন্তান দুইজনকেই হারানোর সম্ভাবনা থাকে তেমনি নতুন এই অর্থনীতি ও রাজনীতিকে ঠেকানোর চেষ্টা করা মানে পৃথিবী আর অর্থনীতির দুই টাই ধ্বংসের চেষ্টার সামিল,যা অর্থনৈতিক মন্দা আর বিশ্বযুদ্ধের সম্ভবনা জাগিয়ে তুলে।আর বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া মানে পৃথিবীতে জান্নাতের সুবাস অনুভব করা।
সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ধরিত্রের বুকে শান্তি নেমে আসুক।
Saturday, July 25, 2020
সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে - মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
নাৎসি নেতা হান্স রাইটার জাতি রাষ্ট্র ও চূড়ান্তভাবে তাদের জাতিগত নীতিকে জীববিজ্ঞান ভিত্তিক বলে উল্লেখ করেন।
সরকার জৈব ক্ষমতা দ্বারা জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে জৈব ক্ষমতা হল মানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ ও ব্যবহার। আদিম কিংবা কিছুদিন পূর্বের সমাজের দিকে তাকালেই দেখা যায় লাঠিয়াল সর্দার বা মোড়লের পাশে শারীরিকভাবে শক্তিশালী মানুষ থাকতো অর্থাৎ এই শারীরিক শক্তিকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হতো। অনেকে জীবন ও শক্তিকে অস্ত্র হিসেবেও দেখিয়েছেন যেমন আত্মঘাতী জঙ্গিবাদ। সাধারণত মানুষের রাজনৈতিক আচরণ বিভিন্ন জীববিজ্ঞানগত প্রদর্শনযোগ্য নিয়ামকের দ্বারা নির্ণীত হয়।
মোটকথা জীবনীতি শাস্ত্র অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রয়োগ হয়ে আসছে। কিন্তু জৈব প্রযুক্তির বিপ্লব আজ সমাজ রাজনীতির এক নতুন দিকের উন্মোচন করেছে। অর্থাৎ জৈব প্রযুক্তির বিভিন্ন প্রয়োগের মাধ্যমে জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ব্যাপক আলোচনা আজ অনিবার্য।
আমরা কী এই জৈব প্রযুক্তি সামাজিক উন্নয়নে তথা সকল ধরনের জীবনের কল্যাণে বা তারা কীভাবে পরস্পর নিজেদের চালিত করবে তা নির্ধারণে ব্যবহার করব? অর্থাৎ এমন কোন কাঠামোর কথা ভাববো, যা সমস্ত জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হবে এবং সেটা অবশ্যই স্ব স্ব ভৌগোলিক বংশগতি ও বৈচিত্র্যকে সমুন্নত রেখে সকল জীবনকে ছুয়ে যাবে? যেটা নীতিমালা, শিক্ষা, শিল্প, সরকার, বিজ্ঞান সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
অথবা এটাকে কি নিছক ক্ষমতার এক নতুন প্রযুক্তি হিসাবে দেখব, যা পূর্বের বিভিন্ন প্রযুক্তির ন্যায় আশীর্বাদ না হয়ে মানব জীবনের অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
পরমাণু শক্তি যতটুকু মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে বা তথাকথিত ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করেছে তার চেয়ে ঢের বেশি বিশ্ব রাজনীতিকে অন্তঃসারশূন্য করেছে। বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সামনে আসলেই যেন মনে হয় এই দুচারটা পরমাণু শক্তিধর দেশের ঝগড়াঝাটিটাই বিশ্বরাজনীতি। অথচ বিশ্বরাজনীতির পরিসর কত ব্যাপক! এদের এই শিশুসুলভ ঝগড়াঝাটির মাঝে পৃথিবী পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এসব অনিয়ন্ত্রিত বাজেট দিয়ে অনেক আগেই ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জলবায়ুগত সমস্যা নির্মূল করা যেত। দুঃখের বিষয় এগুলো রাজনীতিবিদদের কাজ নয়, গ্রেটা থুনবার্গের মতো বাচ্চাদের কাজ!
জীব বিজ্ঞান ও রাজনীতির সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন টার্ম জীবনকে কী নিশ্চিত, টেকসই ও সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে নাকি পশ্চাদপসরণ করবে? তা নিয়ে বিস্তর ভাবার সময় এসেছে বিশ্ব মোড়লদের, সেই সাথে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকেও নিজেদের স্বকীয়তা নিয়ে এর বিরুদ্ধে দাড়াতে হবে জীবনের তাগিদে।
ইতোমধ্যে বর্তমান মহামারী সৃষ্টির জন্য এক দেশ আরেক দেশকে দোষারোপের কাঁদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি যেমন সম্ভাব্য আগামীর বিভীষিকাময় সময়কে ইঙ্গিত করছে, ঠিক তার বিপরীতে এই গাঁয়ের থেকেও ছোট বিশ্ব-সমাজকে আলোর দিশা দেখাচ্ছে।
এখন এই পৃথিবীর মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি সভ্যতার বিনাশ চাইবে নাকি নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় দিগন্তের দিকে চোখ মেলে তাকাবে।
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
Wednesday, July 22, 2020
দেশীয় অর্থনীতি বনাম যোগান বিধি - মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এর কলমে মেসেঞ্জার অব কসমোলজিতে উঠে এসেছে সেই সব সমস্যা ও সমাধানিক দিশা।
এদেশের শতকরা প্রায় ৭০ জন লোক গ্রামে বাস করে। অদ্যবধি জাতীয় অর্থনীতির সিংহভাগ আসে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে। তাই, গ্রামীণ অর্থনীতির আয়তন বৃদ্ধি কল্পে- কৃষি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ বিনিয়োগ ব্যতিত অর্থনীতির আয়তন বৃদ্ধি পায় না। আবার অর্থনীতির আয়তন না বাড়লে জিডিপি এবং প্রবৃদ্ধিও বাড়ে না। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে- বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাথে- জিডিপি বৃদ্ধির এক ঊর্ধ্বমুখি সম্পর্ক বিদ্যমান। বর্তমানে, বৃহৎ আয়তনের জাতীয় অর্থনীতি এবং জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার- বেসরকারি বিনিয়োগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই গ্রহণ করেছে। কারণ পূর্বেই জেনেছি, বিনিয়োগ না বাড়লে অর্থনীতিও এগোয় না। অতীতের যে কোনো সময় কে ছাপিয়ে বিনিয়োগ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে সরকার ইতোমধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
এদেশে বেসরকারি বিনিয়োগের সিংহভাগই আসে মূলত সেবা খাতে তৎপরবর্তী শিল্প ও কৃষি খাতে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এদেশীয় অর্থনীতি কৃষি নির্ভরশীল। ‘Based on Ecology’ তথা ভূ-প্রকৃতি অনুসারে এদেশ কৃষি নির্ভর, কৃষি প্রধান দেশ। সে অনুযায়ি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ কৃষিতে বাড়ার কথা থাকলেও তা আশানুরূপভাবে হচ্ছে না। বরং, শিল্প-অর্থনীতির (artificial-Economi) উপর বিনিয়োগ বাড়ছে দিনকে দিন।
অথচ, ‘বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রবৃদ্ধি গতিশক্তি- টেকসই দারিদ্র বিমোচন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে, বিশ্বব্যাংক বহুকাল পরে- ফলদ, পশুপালন, মৎস চাষের মতো উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের দিকে মনোযোগী হতে বলেছে বাংলাদেশকে। এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পূরণ হবে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা। এছাড়া কৃষি খাতে ১০ শতাংশ আয় বাড়লে অকৃষি খাতে আয় বাড়ে ৬ শতাংশ। জমি, শ্রম, সারসহ কৃষি খাতের উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিদান বা ফল যা পাওয়া যায় তাকে বলা হয়- টিএফপি (টোটাল ফ্যাক্টর প্রডাকটিভিটি)। দেড় দশকের (১৯৯৫-২০১০) পরিসংখ্যান অনুযায়ী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কৃষি খাতে মোট উৎপাদিকা শক্তি তথা টিএফপি সবচাইতে বেশি বাংলাদেশে- ২ দশমিক ৭ শতাংশ। গত এক দশকের ব্যবধানে কৃষি খাত থেকে গ্রামীণ পরিবারগুলোর আয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে- গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানে এখনো কৃষিই প্রধান খাত। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন- আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি যদি ৩ দশমিক ০৫ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশে উন্নীত করা যায় তাহলে অনায়াসেই ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব (সূত্র: প্রথম আলো, ১৮ মে, ২০১৬)।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের আয়ের উৎস হলো কৃষি। কৃষি খাতই দেশের দারিদ্র বিমোচনে মূল ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু কৃষিকে আরো উচ্চপ্রবৃদ্ধিশীল করার জন্য বাংলাদেশ এখনো খুব বেশী অগ্রসর হতে পারেনি।
ক্ষুদ্র আয়তনের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর্থিক মন্দার কবলে পড়ে উন্নত বিশ্ব যখন দিগ্বিদিক ছোটার উপক্রম তখন তার ছিঁটেফোটাও লাগেনি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল ৩০ জুন, ২০১৬ খ্রিঃ বিনিয়োগ বোর্ডের সেমিনারে ব্রেক্সিট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব বিশ্লেষণে বলেন- ব্রেক্সিট, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও অর্থনীতিতে তেমন কোনো প্রভাব যে ফেলবে না, তার উদহরণ স্বরূপ তিনি বলেন- ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সময় বাংলাদেশের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ (সূত্র: সমকাল, ৩০ জুন, ২০১৬)। অর্থাৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন অর্থনৈতিক ‘জোট বা ভোট’ এর হেরফেরগত বৈশ্বিক মন্দা বা অচলাবস্থা- এদেশীয় অর্থনীতির অভ্যন্তরে তেমন কোন রেখাপাত ঘটাতেই পারে না। আর এর কারণ শিল্প অর্থনীতি নয়- এদেশীয় অর্থনীতির মূলে রয়ে গেছে কৃষি ব্যবস্থাপনা।
বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে এদেশীয় অর্থনীতির কোথায় যেন রয়ে গেছে অল্প বিস্তরে ব্যাপক পার্থক্য। গত ১৭’ই মে, এনসিসি ব্যাংকের ২৩ বছরপূর্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে, বিনিয়োগ ও শেয়ার মার্কেট প্রাসঙ্গিকতায়- ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক- এ জেড এম সালেহ, তাঁর ভাষায়- ‘অদ্ভুত অর্থনীতি আমাদের’ (সূত্র: বিডি নিউজ ২৪ ডটকম, ১৭.০৫.২০১৬)।
আর এ অদ্ভুত অর্থনীতির স্বরূপ’ই বা কিরূপ? তা অনুসন্ধানে- ‘এডাম স্মিথিয়’ বা ‘স্যামুয়েল্সীয়’ ধারার দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে এদেশীয় অর্থনীতির মূল বৈশিষ্ট্য বা মোজেজাটাই ‘উদ্ভট’ বা ‘অদ্ভুত’ অর্থে প্রতিফলিত হয়েছে। হিমালয়ের স্বচ্ছ জলপ্রবাহ, পলি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান বঙ্গ তথা এদেশীয় ভূ-বৈশিষ্ট্য কে দিয়েছে এক অনন্য উর্বরা শক্তি। অর্থাৎ ভূমি বৈশিষ্ট্য ও ভূমি ব্যবস্থাপনা (চাষ-বাস)’ই যে এদেশীয় অর্থনীতি ও উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি তা পাশ্চাত্য তথা ‘এডাম স্মিথিয়’ বা ‘স্যামুয়েল্সীয়’ ধারার অর্থনীতিতে উপেক্ষিত। তাই এদেশীয় অর্থনীতির মোজেজা- চাষা-ভূষা তথা সর্ব সাধারণের কাছে বোধোদয় হলেও, অধরা থেকে যায় অর্থনীতির বিজ্ঞজনদের কাছে।
এদেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনীতি প্রাথমিক ধারনা বা অর্থনীতির মোজেজা- অর্থনীতির বিজ্ঞজনদের কে হাতে-কলমে বোঝানোর জন্য ‘যোগান বিধির’ আশ্রয় নিলে বিষয়টি সহজে বোধোদয় হয়ে ওঠবে। যোগান বিধি অনুসারে- দাম বাড়লে, যোগানের পরিমান বাড়ে। এখানে দামের ক্ষেত্রে উলম্ব রেখায় ‘কৃষি উৎপাদন’ আর যোগানের ক্ষেত্রে ভূমিজ রেখায় ‘এদেশীয় অর্থনীতি’ কল্পনা করলে দাড়ায়- ‘কৃষি উৎপাদন’ বাড়লে, ‘এদেশীয় অর্থনীতি’ বাড়ে অর্থাৎ সমৃদ্ধ হয়। এটাই এদেশীয় অর্থনীতি।
![]() |
| লেখচিত্র : কৃষি উৎপাদন বনাম এদেশীয় অর্থনীতি। |
যোগান বিধি অনুসারে- এদেশীয় অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি কৃষি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি উৎপাদনের পরিবর্তন হলে এদেশীয় অর্থনীতির পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে এদেশীয় অর্থনীতির উর্ধ্বমুখি সম্পর্ক বিদ্যমান। অন্যান্য বিশেষ অবস্থা (প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বন্যা-খরা ইত্যাদি) ব্যতিরেকে,
স্বাভাবিক অবস্থায় কৃষি উৎপাদন বাড়লে এদেশীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং কৃষি উৎপাদন কমলে এদেশীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি ব্যহত হয়। এটাই এদেশীয় অর্থনীতির মোজেজা- আর বাকি সব খুচড়া-খাচড়া।
ভূ-প্রকৃতি ও বাস্তুসংস্থান (Ecology) তথা প্রকৃতিগত নৈব্যর্তিক শর্তেই- এদেশে প্রাধান্যে চলে আসে কৃষি। আর প্রকৃতিগত নৈব্যর্তিক শর্ত কে কাজে লাগিয়ে প্রকৃতি ও পরিবেশ অনুবর্তিতায় গঠনমূলক উন্নয়ন’ই ‘টেকসই উন্নয়ন’ যা প্রকৃতি-পরিবেশ অর্থে (Ecology) বা বাস্তুসংস্থান কে রক্ষা করে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই কৃষি ভিত্ত্বিক অর্থনীতির এদেশে- অর্থনীতির সূচকের উন্নতি ঠিক ততটাই সম্ভব যতটা সম্ভব- কৃষি ব্যাবস্থাপনা, কৃষি বিনিয়োগ, কৃষির আধুনিকায়ন ও কৃষি উন্নয়ন। ‘Based on Ecology’ তথা ভূ-প্রকৃতি অনুবর্তি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে- ভূমির ব্যবহার। অর্থাৎ চাষ-বাস সংশ্লিষ্টতায়- প্রকৃতি-পরিবেশ অনুবর্তিতায় বিনিয়োগ বান্ধব ‘কৃষি ব্যবস্থাপনার’ টেকসই উন্নয়ন।
সুতরাং ভূ-বৈচিত্র্যকে আমলে নিয়ে বিনিয়োগ বান্ধব "কৃষি উৎপাদনের" স্বপ্ন ভূমি হয়ে উঠুক আগামির বাংলাদেশ।
উপস্থাপক ও গবেষকঃ
মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল
E-Mail: smibrahim1986@gmail.com
লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুনঃ
মেসেঞ্জার অব কসমোলজি পেইজ
মেইলঃ shimul2016.bsm@gmail.com
Wednesday, July 8, 2020
নতুন সকালের প্রতীক্ষায় ( পার্ট - ১) - মোঃ শামীম রেজা
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ধারণায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বাজার নীতির মডেল অনুসরণ করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকে যে চলক গুলো শক্তিশালী হিসেবে দেখা যায় সেখানে এদেশের সামাজিক এবং দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক কোন নীতি আদৌ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা সেটা স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পর এসে হিসেব করলে বেরিয়ে আসবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে উন্নয়নে সামিল হতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হয় এবং সেই পরিকল্পনাকে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রয়োজন হয় সময়োচিত দূরদর্শীতা আর বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা। সে অর্থে ১ম, ২য়,৩য় শিল্প বিপ্লব হয়ে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে পৃথিবী। শিল্প বিপ্লবের এই স্তরায়ন শিল্পবাদী কারখানা তাত্ত্বিকেরা করেছেন যেখানে প্রযুক্তিকে অর্থনৈতিক ক্রিয়ার অনুবর্তী হিসেবেই কেবল বিবেচনা করা হয়। প্রযুক্তির এই অভিঘাতে মানুষের সাংষ্কৃতিক পরিস্থিতির অবস্থা কিরূপ প্রভাবিত হয় এবং সেই প্রভাব সার্বজনীন মানবিকতার নিক্তিতে কতটা মানবিক সেটা দেখার ও কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ধারণা গোটা পৃথিবীর সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে অন্য এক স্তরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। এখানে প্রযুক্তির যে বিষয়গুলো উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করার বিষয় নিয়ে কাজ চলছে সেগুলো হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং,
উন্নতমানের রোবোটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অফ থিংস, ব্লক চেইন প্রযুক্তি, থ্রি-ডি প্রিন্টিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, উন্নত মানের জিন প্রযুক্তি, নতুন ধরনের শক্তি।
বৈশ্বিক রাজনীতির ডিলটা আসে অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে। সে অর্থে গোটা মানব বিশ্বকে তিনটা জাত অংশে দেখা যেতে পারে ১. রাষ্ট্র ২. জনগন ৩. ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
রাষ্ট্র জনগনের জাগতিক জীবনের সামগ্রিক কল্যাণার্থে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান যা ধারাবাহিক ক্রম ব্যবস্থাপনার সচেতন পরিবর্তনীয় মানুষের প্রয়াস। সে অর্থে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা থাকে সেটা যথাযথ প্রয়োগ হওয়া না হওয়া এখানে অপ্রাসঙ্গিক। ব্যবসায়ের যে ধারণা সেখানে মুনাফা একমাত্র মানদন্ড। ব্যবসায়ের প্রয়োজনে মানুষের মধ্যে ঔ ব্যবসায়ের পণ্যসমূহকে জায়েজ করার জন্য প্রতিষ্ঠান গুলো মানুষের ভৌগোলিক সীমানায় যতরকম সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রয়েছে তার সবগুলোকে কাজে লাগায়। আপনার ধর্ম, সংস্কৃতি সব ঠিক আছে এগুলো র সাথে শুধু আমাদের পণ্যগুলো যোগ করে নিন তাহলে আপনাদের ধর্ম, সংস্কৃতি অধিক মাত্রায় উদ্ধার হয়ে যাবে। এই বোধে উত্তীর্ণ শিক্ষিত জনগন খুব দ্রুতই বিভক্ত হয়ে যায় ভোগবাদীতার নিক্তিতে।
প্রান্তিক হয়ে পড়া এই অসভ্য প্রতিযোগীতার বাইরে থাকা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি সহ যারা এর বাইরে থাকতে চেয়েছে এই বাণিজ্যিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে চেয়েছে তাদের এই বর্বর সওদাগরি সভ্যতা অনাধুনিক বা অসভ্য তকমা দিয়েছে।
অখন্ডায়নের এই যুগে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সভ্যতা-সংস্কৃতির মান বিচার এর ব্যতিক্রম হয়নি বিশেষত উপননিবেশিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার দরুণ তা বেশ মজবুত হয়ে আছে শহুরে শিক্ষিত সমাজে। এতদ বিচারে জনগনের সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জনগনের সম্পর্কটা প্রকৃত অর্থে কেমন এবং এই তিনের মিথস্ক্রিয়ায় সংস্কৃতি-সভ্যতার গতি সেই গতির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কার হাতে বেশি, কেন বেশি, বেশি হওয়ার দরুণ কি ঘটে সমাজে সেগুলো নৈর্ব্যক্তিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিল্প-বিপ্লবের কোন পণ্য আমরা শিল্পায়িত করবো নাকি আমরা পণ্য হয়ে উঠবো?
উন্নয়ন সূচকের গজকাঠি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্মুখীনতাকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নির্দেশ করে। তো কল্যাণ রাষ্ট্র বা উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র যাই হোক না কেন দেশজ অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারনের সাথে সাথে বৈশ্বিক রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ডিলিংসটাও করতে হয়। এর সাথে জড়িয়ে থাকে সাধারন মানুষের জীবন। ধর্ম, শিক্ষা, আচার, প্রথা ইত্যাদি;
যেগুলো মানুষের জ্ঞান চর্চার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে "রাষ্ট্র" ব্যবস্থাপনার কাজ করছে রাজনৈতিক মানচিত্রের সীমানায় এবং অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে বিভিন্ন চুক্তি-বিনিময় করে। রাষ্ট্রের এই প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক চরিত্র একরকম হওয়ার কথা নয় উদ্দেশ্যগত ভিন্নতার কারণেই। রাষ্ট্র যদি মানবিক সূচকগুলোকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই (যা আল্টিমেটলি উন্নয়ন সূচকগুলোর সাথেই সম্পর্কযুক্ত) ব্যক্তির ভিতরেও সেই প্রচেষ্টার অঙ্কুর থাকার কথা।
প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান-চর্চার প্রায় সবগুলো মাধ্যম রাষ্ট্রের জীম্মায়। কিন্তু ব্যক্তি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতই আত্ম-অর্থ-উন্নয়নের মডেলে চলার প্রবণতায় থাকার দরুণ তার অর্জিত সকল জ্ঞান প্রয়োগ হচ্ছে ঔ জায়গাতে।
(প্রশ্ন হলো সেটা কিভাবে হতে পারে? কেন এমনটা ঘটে? সম্পদ মালিকানা ব্যবস্থাপনাগত কারণ? এগুলো কি দেশের ইন্টেলেকচুয়াল এবং রাজনীতিবিদরা বোঝেন না?)
তখন অর্জিত জ্ঞানের সমস্ত ইথিকস-মরালিটি একটা গাজকাঠি দ্বারা জাস্টিফাইড হচ্ছে "আপনি বাঁচলে বাপের নাম"। সে অর্থে সভ্যতার অগ্রযাত্রায় জ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে কিন্তু তার প্রবণতা আদতে কোনদিকে ধাবিত হয়েছে? উন্নয়ন যাই ঘটুক না কেন তা ব্যক্তির জ্ঞানের সাথে যদি মানবিকতাকে আধেয় না করতে পারে সেই জ্ঞান দানবীয় বা আসুরিক হয়ে উঠবে।
আর সেই উন্নয়ন অতি দ্রুত অরাজকতার কারণ হয়ে উঠতে পারে। রাজনীতি আর অর্থনীতির এই রসায়নটা মার্কেটিং পলিসি সবচাইতে ভালো বোঝে এবং বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার শর্তগত কারণেই বৈশ্বিক রাজনৈতিক (বিশেষ করে পুঁজিবাদী দেশগুলোতে) ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনই আসুক না কেন সেটা তাদের উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।
চলমান...
০৭.০৭.২০২০
Monday, June 22, 2020
সংগ্রামটা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে - মোঃ শামীম রেজা
এমন একটা সময় পার করতেছি আমরা যখন আমাদের বিশ্বাস, অভ্যস্ততা, মূল্যবোধ সবকিছুতেই একটা বড় ধরনের ধাক্কা লেগে গেছে। এই ধাক্কা সামষ্টিক এবং ব্যক্তি জীবনের সমগ্রব্যাপী প্রভাব বিস্তার করে ফেলছে। আচার-সংষ্কার-প্রথা সবকিছুতেই শুধু ভাবনাগত পরিবর্তনই ঘটছে না বরং ক্রম পরিবর্তনীয় এক নতুন বাস্তবতার ভিতর প্রবেশ করছি এবং এগুলোকে সহিয়ে নেওয়ার জন্য যে ধীর-স্থির বাস্তবতার প্রয়োজন সেটাও ঘটে যাচ্ছে।
একাকারের যে যুগে পৃথিবী প্রবেশ করেছিল প্রযুক্তির হাত ধরে সেটা ছিল যান্ত্রিক বাস্তবতা। প্রযুক্তির এই অগ্রগামীতার সাথে ঠিক তাল মেলাতে পারছিল না মানুষের তৈরি সামাজিক-রাষ্ট্রিক নিয়ম, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, সর্বোপরি প্রকৃতিজ সমন্বয়করণ গ্যাপটা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছিল।
ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় এবং সাংস্কৃতিক বলয় থেকে উৎসারিত মানবিকতা বোধের এবং জীবন কেন্দ্রীক মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে সময় বাস্তবতার উপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে নিয়ম-নীতি-আচার-প্রথা-বিশ্বাস। এই বিষয়গুলোর মধ্যে থাকে বিয়ে-থা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের কর আরোপ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পর্যন্ত। খন্ডিত পৃথিবীর বাস্তবতায় (যোগাযোগের বাস্তবতা যার নির্ধারক) একেক অঞ্চলের বাস্তবতা অনুসারে নিয়ম-নীতি-আচার-প্রথা-বিশ্বাস গড়ে ওঠেছিল যা ছিল অনেকটা প্রকৃতি নির্ভর।
মানুষের প্রয়োজন বোধ এবং সেখান থেকে সৃষ্ট সন্তুষ্টি বোধ মানুষের পুরোজীবনকে গতিময় করে। এই গতি সামগ্রিক জগত-সংসারে কতকিছু যে সৃষ্টি করে ফেলতে পারে তার উদাহরণ মানব-সভ্যতার ইতিহাস।
আধুনিক অর্থনীতি শাস্ত্র মানুষের এই সন্তুষ্টিকে অর্থনীতিকরণের মাধ্যমে তার রূপরেখা এবং সংজ্ঞা বাতলে দিয়েছেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই ভোক্তা আচরণ কেমন হলে বাজার চাঙ্গা থাকবে সে বিষয়ে নিরন্তর গবেষণা চলেছে এবং চলে। তো সন্তুষ্টি বোধের সাথে মানুষের চেতনাবোধের এবং সংস্কারের ত্রিমাত্রিক সমান্তরাল একটা সম্পর্ক রয়েছে।
উপযোগিতা হলো অর্থনীতির ভাষায় সন্তুষ্টি। সাধারন অর্থে সন্তুষ্টি বলতে যা বোঝায় অর্থনীতির সন্তুষ্টি একটু ভিন্ন।
তো কেমন সে সন্তুষ্টি?
কোন পণ্য বা সেবা বা ঘটনাসমূহ থেকে উদ্ভূত যা ব্যক্তিকে সন্তুষ্টি দিতে সক্ষম তাকেই ঔ পণ্যের উপযোগিতা বলে। এই উপযোগিতার কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটা হলো "উপযোগ মানসিক ধারণা"। আরেকটি হলো "উপযোগের ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতার বিষয় বিবেচিত হয় না"।
উপযোগ হলো সন্তুষ্টি। এই সন্তুষ্টি হলো ভোক্তার। পক্ষ হলো দুটো, পণ্য এবং ভোক্তা।
ভোক্তা তো স্বয়ংক্রিয় কোন স্বত্ত্বা নয়। ভোক্তা একজন ব্যক্তি। তো ব্যক্তির উৎপত্তি, কর্মবলয়, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিক সম্পর্কসমূহের কেন্দ্রে থাকেন ঔ ব্যক্তিটি। এমন করে প্রত্যেকটি ব্যক্তিই এক একটা কর্মকান্ড এবং সম্পর্কের কেন্দ্র এবং প্রত্যেকটা ব্যক্তিই মহাকালের মধ্যবর্তী সময়ে অবস্থান করে তার সাপেক্ষে।
তার পিছনে থাকে লক্ষ বছরের বিগত ইতিহাস আর সামনে থাকে অনাগত মহাকাল। ব্যক্তির জীবন থেকে উৎসারিত বোধ এবং সেই বোধের প্রয়োগই যাপনে প্রতিফলিত হয় (তবে সেটা সাধারন অর্থে সমাজ, রাষ্ট্র বিধি মেনে)।
ব্যক্তি কে?
ব্যক্তি হলো একটা বোধ স্বত্তা।
বোধ কি স্বয়ং গড়ে উঠে?
বোধ গঠিত হয় স্থান-কাল-পাত্র বিবেচিত মানদন্ড অনুসারে। শিশু জন্ম নেওয়ার পর ব্যক্তি হয়ে উঠতে থাকে। বিনির্মাণ হতে থাকে তার পরিচয় সমূহ। এইসব পরিচয় তার আইডেন্টিটি তৈরি করে সে নিজে থেকে এই আইডেন্টিটি তৈরি করতে সক্ষম নয়। এই আইডেন্টিটি বস্তুজগত এবং অবস্তুজগতের সাথে তার কিরূপ সম্পর্ক এবং সম্পর্কজাত ক্রিয়া কেমন হবে সেটা নির্ধারণ করে দেয় সময়ের সাপেক্ষে।
মানুষ হওয়ার শর্তগত কারণেই ব্যক্তি সমাজ থেকে প্রাপ্ত এই আইডেন্টিটি কে একসময় মাড়িয়ে যেতে সক্ষম সাংস্কৃতিক অভিযোজনের কারণে এবং মাড়িয়ে গিয়ে বিনির্মাণ করে নিজের মনুষ্যত্ব বোধের ন্যায়দন্ডে নতুন দিনের নতুন পরিচয়। একই সাথে খোলনলচে পাল্টে ফেলতে পারে জীবন কেন্দ্রীক যাবতীয় প্রচল মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গি। সফলতা-বিফলতা সুখ-শান্তি-মুক্তি এই সব জীবনের সার সূচক গুলো যে রঙে তাকে সমাজ-পরিবার -রাষ্ট্র রাঙিয়ে দেয় তার মনের আকাশ জুড়ে একদিন সেই সব রঙকে মিথ্যা ঘোষণা করে বেরিয়ে পড়তে পারে। তার উদাহরণ ইতিহাসে আছে। সন্তুষ্টি বোধের ধারণা ব্যক্তি নির্মাণ করতে পারে যদি ব্যক্তি সামষ্টিক হয়ে উঠতে পারেন। অন্যথায় ব্যক্তির বোধের সাথে ব্যক্তিবোধের রূচিগত সমাজতাত্ত্বিক তেমন কোন ভিন্নতা নাই।
ব্যক্তির সন্তুষ্টিবোধ গড়ে ওঠে এই বস্তুগত এবং অবস্তুগত সম্পর্ক ক্রিয়া থেকে। সন্তুষ্টি প্রাপ্তির জন্য যে ক্রিয়াদি ব্যক্তির করতে হয় সেসব ক্রিয়ার যদি লেনদেন এবং বাজারী মূল্য না থাকে তো সেই সন্তুষ্টি অর্থনীতির সন্তুষ্টি নয় এবং সেসব কর্মসমূহকে ইরেশনাল বিহ্যাভিয়ার বলে গণ্য করা হয়। রেশনাল এবং ইরেশনাল মানুষের সাধারন এবং স্বাভাবিক মান বিচারে নিযুক্ত দুটি শব্দ। যখন ইরেশনাল বলা হয় তখন সেটা মানুষের সাধারন বৈশিষ্ট্য থেকেই খারিজ করে দেওয়া হয়।
ব্যক্তির সন্তুষ্টি বোধ কোথা থেকে আসে? কিভাবে গড়ে ওঠে সন্তুষ্টি বোধের সংস্কার? পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র তথা পারস্পারিক সম্পর্কজাত হয়ে তথ্য বিনিময় এবং গড়ে ওঠা অভ্যাসের মাধ্যমে। এমনকি খাদ্যের যে স্বাদবোধ বা নান্দনিক বোধ সেটাও তো ঔ পরিবার-সমাজ-তথা সংস্কৃতি থেকেই প্রাপ্ত হয়।
ব্যক্তি দুটো পদ্ধতিতে আত্মীয়করণ করে তার স্বভাব, বৈশিষ্ট্য, চরিত্র এবং আচরণ গড়ে তোলে। অভ্যস্তকরণ এবং দীক্ষিতকরণ। অভ্যস্তকরণ প্রক্রিয়ায় থাকে ব্যক্তি এবং বস্তগত ঘটনাবলির সাথে সার্বক্ষণিক মিথস্ক্রিয়া, আর যে মাধ্যমে সে সংযোগ স্থাপন করে তা হলো দীক্ষিতকরণ। দীক্ষিতকরণ প্রক্রিয়ায় তথ্য হয় প্রধান এবং মৌলিক শর্ত। একজন পাকা কৃষক মাটি দেখলেই বুঝতে পারেন কখন বীজ বুনতে হবে। এটা তার পূর্ব অভিজ্ঞতাজাত শিক্ষা, শুধু তথ্য নয়। ব্যক্তির ভিতরে আগমনকারী সব তথ্যই শিক্ষায় রূপান্তর হয়না। দীক্ষিতকরণ এই কাজটা করে কোন তথ্যকে শিক্ষায় রুপান্তর করতে হবে সেটা সে নির্ধারন করে নেয় এবং ঔ মোতাবেক ব্যক্তির ভিতর কাজ চালাতে থাকে।
সন্তুষ্টিবোধ স্বয়ং ব্যক্তির ভিতর হাজির হয় না এটা সমাজ-সংস্কার থেকেই আসে। সমাজ সংস্কার তৈরি হয়, সন্তুষ্টিবোধ স্বয়ং ব্যক্তির ভিতর হাজির হয় না এটা সমাজ-সংস্কার থেকেই আসে। সমাজ সংস্কার তৈরি হয় সেই সমাজের উৎপাদন এবং বন্টন পদ্ধতি এবং জগত ও শরীর মনের সাথে তার যে নিত্য সংযোগ সেই সংযোগের সম্পর্ক বিবেচনার উপর।
একটা হিংস্র বাঘ কেবল অভুক্ত থাকলেই শিকারে প্রবৃত্ত হয় কিন্তু মানুষ! মানুষের এই লোভ সভ্যতায় সৃজনশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। মানুষ মানবিকতার সীমা রেখে টেনেছে স্বজাতীর স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে, বিভাজনের প্রাথমিক এই বলয়টা ভেঙে ফেলা দরকার। এরপর মানব সমাজে রাষ্ট্র, লিঙ্গ, ধর্ম, নীতি, অর্থ ইত্যাদি বিষয়গুলোকে বিভাজন এবং ইত্যাদি বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে যে পদ্ধতিতে জ্ঞানকান্ডের শাখা-প্রশাখা বিস্তার হয়েছে তা একেবারে গোড়া থেকে ছেটে ফেলার সময় হয়েছে।
রক্তজ প্রবণতায় আদিমতা, বিভাজনে দাসসুলভ, প্রভুত্বে সামন্ততান্ত্রিক এবং স্বার্থপরতায় পুঁজিবাদী চেতনার আকর সমূলে উৎপাটন করার সময় হয়েছে। জীবন এবং জগতকে ঘিরে যে মূল্যবোধ এবং সেই মূল্যবোধের উপর দাঁড়িয়ে যে মর্যাদাবোধ তা যদি মনুষ্যত্ব ও মানবিকবোধ উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৃতজ স্বত্ত্বায় একাকার না হতে পারে একাকারের এই মহাক্ষণ মানব জাতীর জন্য মঙ্গলজনক হয়ে ওঠবে না।
সংগ্রামটা তাই মানুষ হওয়ার মর্যাদায় আত্ম-অমানবিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে।
২২.০৬.২০২০
Monday, June 1, 2020
রাজনীতিই বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে - মোঃ ইয়াছিন মিয়া
প্রকৃতির বিবর্তনের ফলেই মানুষের বিবর্তন এসেছে। আমার পূর্বপুরুষদের বীরত্বগাথা প্রকৃতিরই অংশ। মানুষ এক প্রাকৃতিক প্রাণী। বিবর্তনিক পথে আধুনিক মানুষ।
পূর্ব ইতিহাস ছিল শ্রমের সংগ্রামের। প্রকৃতির সেই উদয়হীন সংগ্রামের একক ছিল শক্তি-শ্রম, বুদ্ধিদীপ্ত তারুণ্যতা। সেই শক্তি সংগ্রামের মূলে ছিল জল, খাদ্য, বাতাস। জলে বিশুদ্ধতা ছিল, খাদ্যে এতোটা ভেজাল ছিল না, বাতাসে অর্থের গন্ধ ছিল না।
ক্রমিক ধারায় বিবর্তনিক মানুষ এক দারুণ দুনিয়ার জন্ম দিয়েছে। বাতাসের আদিম রূপ হারিয়ে গেছে। 'অর্থ-বাতাসে' পৃথিবীর নিশ্বাস-প্রশ্বাস চলে। অর্থ এখন প্রকৃতিটাকেও হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। বিবর্তন এখন মানুষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, প্রকৃতির উষ্ণতা-আদ্রতা অনেকাংশে কৃত্তিমতায় চলে। একমাত্র টাকাই দরিদ্রকে উষ্ণতা দিতে পারে।
পুঁজিবাদী দুনিয়ায় প্রতীকী একটা গোলাপের কোন মূল্য নেই। সমরেশ বলেছিলেন, 'একটি গোলাপের কুড়ি যদি সুখাদ্য হতো তাহলে হয়ত আমরা কখনোই একটি ফুটন্ত গোলাপ দেখতে পেতাম না।'
বর্তমান বিশ্বের প্রাকৃতিক হুমকি অর্থনৈতিক দুঃশাসন ঢেকে রেখেছে। পুঁজিবাদী দুনিয়া ক্রমেই পরিবেশকে ভারসাম্যহীনতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
যার প্রমাণ ইতোমধ্যে আমাদের মাঝে রয়েছে। করোনা ভাইরাসকে যদিও ভাল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী ব্যাক্তি প্রতিহত করতে পারে, তবুও হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে; অধিকাংশ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং পাশাপাশি কোন রোগে আক্রান্ত; বরফ গলে হাজার বছরের জীবাশ্ম গলে নতুন নতুন ভাইরাসের প্রকোপ সৃষ্টি করছে; পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার ফলে মানুষ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে; মানুষের গড় আয়ু ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
প্রকৃতির প্রতি অর্থনীতির এই নির্দয় চাহনি - সমগ্র পৃথিবীর জন্যে এক ভয়াবহ ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে।
সকল সমস্যার মূলে রয়েছে পুঁজিবাদী অর্থনীতি। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা গুলো অর্থনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। পৃথিবীর প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; যেহেতু পরিবেশ বৈশ্বিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত-অনিয়ন্ত্রিত হয়। একমাত্র রাজনীতিই বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে; নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
১৬.০২.১৪২৭
Thursday, May 21, 2020
মানচিত্র কথা - ভূবন মুন্সী
মানুষের মানচিত্র ইউনিক এবং অনেক, আর সে মানচিত্রের মান ঠিক রাখার শর্তে আদি হতে আগামীর দিকে বয়ে চলা যত সংগ্রাম এবং অসংখ্য ইউনিক মানচিত্র সংহত করার প্রশ্নে বসুমাতার বুক চিড়ে তুলে আনা নিয়ত ঋদ্ধ কোড বা বিধান।
মূলত মানুষের মানচিত্রের অখণ্ড রূপ প্রকাশেই ভুবনের মানচিত্র অঙ্কিত এবং তা মানুষকে এগিয়ে নিতে ও যাপনকে সহজ করতে অর্থাৎ ব্যাবস্থাপনার শর্তে। আর সে ব্যাবস্থাপনাকে সহজ করতেই প্রয়োজন পড়ে Based on Ecology ভিত্তিক পাড় বা কাঁটাতারহীন গাণিতিক রেখার অর্থাৎ Political Geometry এর স্থলে Ecological Geometry। এটাও প্রয়োজন মানুষের মানচিত্রকে ক্রমত্তোরিত পথে এগিয়ে নিতে এবং এ Based on Ecology ভিত্তিক শর্তটাই কাশ্মীর, আরাকান, ফিলিস্তিন বা তৎসদৃশ অপরাপর বৈশ্বিক সংকট সমাধানের sin-qua-non বা অপরিহার্য শর্ত।
Historical sign বা ফসিল এবং Historical line বা ইতিহাস হতে প্রাপ্ত দৃশ্যে আমরা দেখি একদিন মানুষের হাত, পা, গলে শিকল ছিলো। মানুষ মানুষকে দঁড়িতে বেঁধে বাজারে বিকাতো। দৃশ্য বদলে গেলেও বর্তমান দুনিয়া in situ অর্থে তার আদি আচরণ হতে বেরুতে পারেনি। তাই বেনিয়া স্বভাব ভাইপার হয়ে আজও বিষিয়ে যাচ্ছে বসুমাতার মানচিত্রে জেগে থাকা মানুষের প্রাণ।
যে অর্থে লেঠেল সর্দার, সে অর্থেই বেনিয়া সরকার এবং বুদ্ধির দ্বার যাদেরকে ভাবি তারাও পাড়ার মোড়লের খোয়াড়ে জন্ম নেয়া অর্বাচীন অসাড়- প্রকাশিত পৃষ্ঠার গায়ে সংগ্রামহীন ছন্দ, সস্তা জৈবিকতার দ্বৌরাত্ব, নটিপনা আর tete-a-tete.
Greenroom Politician গণ জনপদ ভুলে গিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে vox dei বয়কট করা অর্থে ভোট চুরি করে লুটেরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি কায়েম করছে, তথা pro forma অনুযায়ী সমাজগত জাহেলিয়াতকে উস্কে দিচ্ছে। কারণ অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য জাহেলিয়াত কায়েম ও জিইয়ে রাখাটা আবশ্যক; নারকীয় temperature ক্রমশ সয়ে, জীবনের নির্মোক আঁকড়ে পড়ে থেকে জনগণ একসময় হয়ে যায় Boiling Frog, তখন মধ্যযুগীয় servility টের পেলেও জাম্প করার সক্ষমতা তাদের থাকেনা।
veni, vidi, vici শর্তটা গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের রাজ্য জয়ের ক্ষেত্রে সম্ভব হলেও সমাজ বা সামষ্টিক মানুষের বদল রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে che sara sara মনোভাব নিয়ে আমরা যারা বসে থাকি অথবা সমস্যার সমাধান কল্পে মন মন্দিরে নিত্য জপি চিচিং ফাঁক - মিলবে কি মানচিত্রের গায়ে সেঁটে থাকা খোস পাঁচড়া তাড়াবার নিমপাতা?
তালপাতার সেপাই দিয়ে তুলসী বনের বাঘ যেমন তাড়ানো যায় না, তেমনি সংগ্রাম ও সংগ্রামী ছাড়া সমস্যার সমাধানও করা যায় না।
ভাগের প্রাচীর, স্বার্থের কাঁটাতার উপড়ে দিয়ে অখণ্ড বসুমাতার মানচিত্রে সাড়ে তিন হাতি মানচিত্রের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংবিধান রচনাই হবে এ সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ সৃজন কর্ম।
V-sign প্রদর্শন তখনই যথার্থ।
২১.০৫.২০২০





